• আত্মচরিত গল্প
  • লেখাপড়া
  • আত্মচরিত গল্পের ১০০টি বাছাই করা জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও সমাধান

    আত্মচরিত গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও সমাধান

    বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথপ্রদর্শক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত‘ কেবল একটি আত্মজীবনী নয়, এটি একাধারে প্রতিকূলতা জয়, বংশগত মর্যাদা এবং নিঃস্বার্থ মানবতার জীবন্ত দলিল । একাডেমিক পরীক্ষা কিংবা যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক টেস্টে এই অসাধারণ রচনাটি থেকে প্রায়শই সৃজনশীল, অনুধাবনমূলক ও জ্ঞানমূলক প্রশ্ন এসে থাকে । তবে গৎবাঁধা মুখস্থ বিদ্যার কারণে অনেকেই পরীক্ষায় পূর্ণাঙ্গ নম্বর তুলে আনতে পারেন না ।

    আপনার সেই সংশয় দূর করতেই আমাদের আজকের এই বিশেষ আয়োজন । ‘আত্মচরিত‘ রচনার প্রতিটি লাইন, চরিত্রগুলোর মনস্তত্ত্ব এবং ভেতরের নিগূঢ় তথ্যগুলোকে সহজ-সরল ও সাবলীল ভাষায় বিশ্লেষণ করে আমরা তৈরি করেছি ১০০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্নের এক অনন্য সংকলন । আপনি যদি এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো একবার মনোযোগ দিয়ে চোখ বুলিয়ে নেন, তবে পরীক্ষার খাতায় যেকোনো প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় একদম নিখুঁতভাবে লিখে আসতে পারবেন । চলুন, তবে বিদ্যাসাগরের জীবনের সেই অনুপ্রেরণাদায়ী অধ্যায়ে প্রবেশ করা যাক!

    আত্মচরিত গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও সমাধান

    ১. বিদ্যাসাগরের পিতামহের নাম কী?

    উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতামহের নাম রামজয় তর্কভূষণ।

    ২. রামজয় তর্কভূষণের উপাধি কী ছিল?

    উত্তর: তাঁর উপাধি ছিল ‘তর্কভূষণ’।

    ৩. বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা মূলত কোন শাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন?

    উত্তর: তাঁরা মূলত সংস্কৃত ব্যাকরণ ও স্মৃতিশাস্ত্রের পণ্ডিত ছিলেন।

    ৪. রামজয় তর্কভূষণের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী ছিল?

    উত্তর: তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল প্রখর আত্মমর্যাদাবোধ এবং স্পষ্টভাষী স্বভাব।

    ৫. রামজয় তর্কভূষণ কেন বিত্তবানদের তোষামোদ করতেন না?

    উত্তর: তিনি অত্যন্ত তেজস্বী ও স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন বলে বিত্তবানদের তোষামোদ করতেন না।

    ৬. বিদ্যাসাগরের পরিবার আদি বাসস্থান ছেড়ে কোথায় চলে আসে?

    উত্তর: তাঁরা মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে চলে আসেন।

    ৭. বীরসিংহ গ্রামটি তৎকালীন কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল?

    উত্তর: বীরসিংহ গ্রামটি তৎকালীন মেদিনীপুর জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

    ৮. রামজয় তর্কভূষণের স্ত্রীর (বিদ্যাসাগরের ঠাকুমা) নাম কী ছিল?

    উত্তর: তাঁর নাম ছিল দুর্গাদেবী।

    ৯. রামজয় তর্কভূষণ কেন প্রায়ই গৃহত্যাগ করতেন?

    উত্তর: তিনি কিছুটা উদাসীন এবং আধ্যাত্মিক ভাবাপন্ন ছিলেন বলে প্রায়ই গৃহত্যাগ করে তীর্থবাসী হতেন।

    ১০. রামজয় তর্কভূষণ কত বছর পর তীর্থ থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন?

    উত্তর: তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর পর তীর্থ থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন।

    ১১. বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষদের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল?

    উত্তর: তাঁদের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দরিদ্র।

    ১২. “তর্কভূষণ” উপাধিটি কোন বিষয়ের পাণ্ডিত্যের জন্য দেওয়া হতো?

    উত্তর: শাস্ত্রীয় তর্ক বা বিতর্কে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য এই উপাধি দেওয়া হতো।

    ১৩. রামজয় তর্কভূষণের অনুপস্থিতিতে কে সংসার চালিয়েছিলেন?

    উত্তর: তাঁর স্ত্রী দুর্গাদেবী অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালিয়েছিলেন।

    ১৪. বিদ্যাসাগরের ঠাকুমা কীভাবে অর্থ উপার্জন করতেন?

    উত্তর: তিনি অন্যের বাড়িতে সুতো কেটে এবং ঢেঁকিতে ধান ভেনে অর্থ উপার্জন করতেন।

    ১৫. রামজয় তর্কভূষণকে লেখক কী পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন?

    উত্তর: লেখক তাঁকে একজন অসাধারণ তেজস্বী ও সিংহপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ১৬. বিদ্যাসাগরের বংশের মূল গৌরব কী ছিল?

    উত্তর: তাঁদের মূল গৌরব ছিল সততা, পাণ্ডিত্য এবং উন্নত নৈতিকতা।

    ১৭. রামজয় তর্কভূষণের কয়টি সন্তান ছিল?

    উত্তর: তাঁর দুই পুত্র ও চার কন্যা ছিল।

    ১৮. বিদ্যাসাগরের পিতার অবস্থান ভাইবোনদের মধ্যে কততম ছিল?

    উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতা ছিলেন তাঁর ভাইবোনদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ বা সবার বড়।

    ১৯. রামজয় তর্কভূষণ বীরসিংহ গ্রামে কার বাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন?

    উত্তর: তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    ২০. বিদ্যাসাগরের পরিবার বীরসিংহ গ্রামে আসার পর তাঁদের সামাজিক মর্যাদা কেমন ছিল?

    উত্তর: দরিদ্র হলেও তাঁদের উচ্চ বংশমর্যাদা ও পাণ্ডিত্যের কারণে তাঁরা সমাজে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় ছিলেন।

    ২১. রামজয় তর্কভূষণ কখন রাগ প্রকাশ করতেন?

    উত্তর: সমাজে কোনো অন্যায়, ভণ্ডামি বা মিথ্যাচার দেখলে তিনি তীব্র রাগ প্রকাশ করতেন।

    ২২. বিদ্যাসাগরের ঠাকুমা দুর্গাদেবী কেমন নারী ছিলেন?

    আরও পড়ুন:  ফুলের বিবাহ গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

    উত্তর: তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল, পরিশ্রমি এবং দৃঢ়চেতা নারী ছিলেন।

    ২৩. রামজয় তর্কভূষণের চরিত্রের কোন গুণটি বিদ্যাসাগরের মধ্যে দেখা যায়?

    উত্তর: তাঁর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন মনোভাব ও তেজস্বিতা বিদ্যাসাগরের মধ্যে দেখা যায়।

    ২৪. বিদ্যাসাগরের পূর্বপুরুষেরা কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?

    উত্তর: তাঁরা সনাতন হিন্দু ধর্মের ধার্মিক ও নিষ্ঠাবান অনুসারী ছিলেন।

    ২৫. ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগরের পিতামহকে কোন গুণের প্রতীক বলা হয়েছে?

    উত্তর: তাঁকে আত্মসম্মান ও চারিত্রিক শুদ্ধতার প্রতীক বলা হয়েছে।

    ২৬. বিদ্যাসাগরের পিতার নাম কী?

    উত্তর: বিদ্যাসাগরের পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

    ২৭. ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় কত বছর বয়সে কলকাতায় আসেন?

    উত্তর: তিনি মাত্র চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সে কলকাতায় আসেন।

    ২৮. ঠাকুরদাস কেন কলকাতায় এসেছিলেন?

    উত্তর: পারিবারিক চরম দারিদ্র্য দূর করা এবং উপার্জনের আশায় তিনি এসেছিলেন।

    ২৯. কলকাতায় শুরুর জীবনে ঠাকুরদাসের বাসস্থান কেমন ছিল?

    উত্তর: তাঁর কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী বাসস্থান ছিল না, খুব কষ্ট করে অন্যের আশ্রয়ে থাকতেন।

    ৩০. ঠাকুরদাস কলকাতায় কী খেয়ে দিন কাটাতেন?

    উত্তর: অনেক সময় তিনি সামান্য মুড়ি খেয়ে বা প্রায় অনাহারে দিন কাটাতেন।

    ৩১. ঠাকুরদাসের প্রথম চাকরিটি কিসের ছিল?

    উত্তর: তাঁর প্রথম চাকরিটি ছিল একটি সাধারণ দোকানের হিসাবনিকাশ রাখার কাজ।

    ৩২. ঠাকুরদাসের প্রথম চাকরির বেতন কত ছিল?

    উত্তর: তাঁর প্রথম চাকরির বেতন ছিল মাত্র কয়েক টাকা (দুই বা তিন টাকা)।

    ৩৩. ঠাকুরদাসের কঠিন সময়ে কে তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন?

    উত্তর: এক দয়াশীল সাধারণ মুড়ি বিক্রেতা নারী তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন।

    ৩৪. মুড়ি বিক্রেতা নারী ঠাকুরদাসকে কী খেতে দিয়েছিলেন?

    উত্তর: তিনি ঠাকুরদাসকে পরম যত্নে পেট পুরে মুড়ি ও জল খেতে দিয়েছিলেন।

    ৩৫. ঠাকুরদাস কেন মুড়ি বিক্রেতা নারীর দোকানে বসে পড়েছিলেন?

    উত্তর: ক্ষুধার তীব্র যন্ত্রণায় এবং ক্লান্তিতে চলতে না পেরে তিনি দোকানের সামনে বসে পড়েছিলেন।

    ৩৬. ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রের প্রধান গুণ কী ছিল?

    উত্তর: তাঁর প্রধান গুণ ছিল চরম সততা, অধ্যবসায় এবং পরিবারের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ।

    ৩৭. ঠাকুরদাস কলকাতায় কার বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন?

    উত্তর: তিনি কলকাতার জগদ্দুর্লভ বাবুর বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন।

    ৩৮. জগদ্দুর্লভ বাবু ঠাকুরদাসকে কী ধরনের সাহায্য করেছিলেন?

    উত্তর: তিনি ঠাকুরদাসকে তাঁর বাড়িতে থাকার এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।

    ৩৯. ঠাকুরদাস কেন তাঁর সন্তান ঈশ্বরচন্দ্রকে উচ্চশিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন?

    উত্তর: শিক্ষার প্রকৃত মূল্য এবং নিজের জীবনের কষ্ট থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন।

    ৪০. ঠাকুরদাস কি পৈতৃক আদর্শ থেকে কখনো চ্যুত হয়েছিলেন?

    উত্তর: না, অভাবের দিনেও ঠাকুরদাস তাঁর পৈতৃক সততার আদর্শ থেকে কখনো চ্যুত হননি।

    ৪১. ঠাকুরদাসের চাকরি পাওয়ার পর বীরসিংহ গ্রামের পরিবারের অবস্থা কেমন হয়েছিল?

    উত্তর: তাঁর সামান্য আয়ের কারণে পরিবারের চরম অনাহার দূর হয়েছিল এবং কিছুটা স্বস্তি এসেছিল।

    ৪২. ঠাকুরদাসের মেধার পরিচয় কীভাবে পাওয়া যায়?

    উত্তর: প্রতিকূলতার মধ্যেও খুব দ্রুত দাপ্তরিক কাজ ও হিসাবনিকাশ শিখে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁর মেধার পরিচয় পাওয়া যায়।

    ৪৩. ঠাকুরদাসের জীবনে অভাবের প্রভাব কেমন ছিল?

    উত্তর: অভাব তাঁকে অত্যন্ত সহনশীল, বাস্তবমুখী এবং পরিশ্রমী করে তুলেছিল।

    ৪৪. ঠাকুরদাস তাঁর বেতনের টাকা দিয়ে কী করতেন?

    উত্তর: নিজের সামান্য খরচ রেখে বাকি সব টাকা তিনি গ্রামে তাঁর মা ও ভাইবোনদের জন্য পাঠিয়ে দিতেন।

    ৪৫. বিদ্যাসাগরের পিতা কার কাছ থেকে সততার শিক্ষা পেয়েছিলেন?

    উত্তর: তিনি তাঁর পিতা রামজয় তর্কভূষণের কাছ থেকে সততার শিক্ষা পেয়েছিলেন।

    ৪৬. ঠাকুরদাস যখন কলকাতায় প্রথম আসেন, তখন তাঁর সাথে কে ছিলেন?

    উত্তর: তিনি সম্পূর্ণ একা ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় কলকাতায় এসেছিলেন।

    ৪৭. ঠাকুরদাসের জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রাম কী ছিল?

    উত্তর: ক্ষুধার কষ্ট জয় করা এবং নিজের সততা বজায় রেখে একটি কাজ খুঁজে নেওয়া।

    ৪৮. ‘আত্মচরিত’ রচনায় ঠাকুরদাসকে কেমন পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে?

    উত্তর: তাঁকে একজন অত্যন্ত স্নেহময়, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী পিতা হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    ৪৯. ঠাকুরদাসের স্বভাব কেমন ছিল?

    উত্তর: তিনি অত্যন্ত শান্ত, বিনয়ী কিন্তু নিজের কর্তব্যে অটল স্বভাবের মানুষ ছিলেন।

    আরও পড়ুন:  আত্মচরিত গল্পের গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

    ৫০. ঠাকুরদাসের জীবনের গল্প থেকে কী শিক্ষা পাওয়া যায়?

    উত্তর: অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সততা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব—এই শিক্ষা পাওয়া যায়।

    ৫১. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

    উত্তর: তিনি ১৮২০ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।

    আত্মচরিত গল্পের ‘ক’ নম্বরের প্রশ্ন ও উত্তর

    ৫২. বাংলা কোন মাসে বিদ্যাসাগর জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

    উত্তর: তিনি ১২২৭ বঙ্গাব্দের ১২ই আশ্বিন জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

    ৫৩. বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানের নাম কী?

    উত্তর: তাঁর জন্মস্থান মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রাম।

    ৫৪. বালক ঈশ্বরচন্দ্র কত বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন?

    উত্তর: তিনি আট বছর বয়সে প্রথম কলকাতায় আসেন।

    ৫৫. কার সাথে বালক ঈশ্বরচন্দ্র প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন?

    উত্তর: তিনি তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে প্রথমবার কলকাতায় এসেছিলেন।

    ৫৬. বালক ঈশ্বরচন্দ্র কীভাবে ইংরেজি সংখ্যাগুলো শিখেছিলেন?

    উত্তর: কলকাতা আসার পথে রাস্তার ধারের মাইলস্টোন বা পাথরের ফলক দেখে তিনি ইংরেজি সংখ্যা শিখেছিলেন।

    ৫৭. মাইলস্টোনের ইংরেজি সংখ্যাগুলো বিদ্যাসাগরকে কে চিনিয়ে দিচ্ছিলেন?

    উত্তর: তাঁর পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায় চিনিয়ে দিচ্ছিলেন।

    ৫৮. বিদ্যাসাগর মাত্র কত দিনে ইংরেজি সংখ্যাগুলো আয়ত্ত করেছিলেন?

    উত্তর: তিনি মাত্র এক দিনে (কলকাতা আসার পথেই) সংখ্যাগুলো আয়ত্ত করেছিলেন।

    ৫৯. পিতা ঠাকুরদাস কেন ঈশ্বরচন্দ্রের পরীক্ষা নিয়েছিলেন?

    উত্তর: ঈশ্বরচন্দ্র আসলেই সংখ্যাগুলো শিখছে নাকি শুধু আন্দাজে বলছে, তা যাচাই করার জন্য পরীক্ষা নিয়েছিলেন।

    ৬০. পরীক্ষা নেওয়ার জন্য বাবা কী কৌশল অবলম্বন করেছিলেন?

    উত্তর: একটি মাইলস্টোন পার হওয়ার সময় তিনি ঈশ্বরচন্দ্রের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছিলেন।

    ৬১. বাবা চোখ ঘুরিয়ে রাখলেও ঈশ্বরচন্দ্র কীভাবে সঠিক উত্তর দিয়েছিলেন?

    উত্তর: তিনি সংখ্যার ধারাবাহিকতা ও গঠন নিজের প্রখর মেধার জোরে মনে রেখে পরবর্তী সংখ্যাটি সঠিকভাবে বলেছিলেন।

    ৬২. বালক ঈশ্বরচন্দ্রের স্মরণশক্তি কেমন ছিল?

    উত্তর: তাঁর স্মরণশক্তি ছিল অলৌকিক ও প্রখর; যেকোনো বিষয় একবার দেখলেই মনে রাখতে পারতেন।

    ৬৩. শৈশবে বিদ্যাসাগরের স্বভাব কেমন ছিল?

    উত্তর: তিনি শৈশবে বেশ চঞ্চল, কৌতূহলী এবং কিছুটা একগুঁয়ে স্বভাবের ছিলেন।

    ৬৪. কলকাতায় বিদ্যাসাগর রাতে কিসের আলোয় পড়াশোনা করতেন?

    উত্তর: তিনি রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের গ্যাসের আলোয় পড়াশোনা করতেন।

    ৬৫. ঘরে পড়ার আলো না থাকার কারণ কী ছিল?

    উত্তর: চরম দারিদ্র্যের কারণে ঘরে প্রদীপ জ্বালানোর মতো তেলের পয়সা ছিল না।

    ৬৬. মাইলস্টোনের ঘটনাটি বিদ্যাসাগরের কোন গুণকে প্রকাশ করে?

    উত্তর: এটি তাঁর তীব্র কৌতূহল ও অসামান্য পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকে প্রকাশ করে।

    ৬৭. বিদ্যাসাগরের জননীর নাম কী ছিল?

    উত্তর: তাঁর জননীর নাম ছিল ভগবতী দেবী।

    ৬৮. ভগবতী দেবী কেমন স্বভাবের নারী ছিলেন?

    উত্তর: তিনি অত্যন্ত দয়াশীল, পরোপকারী এবং স্নেহময়ী নারী ছিলেন।

    ৬৯. বিদ্যাসাগরের চঞ্চলতা কখন দূর হতো?

    উত্তর: যখন তিনি পড়াশোনা করতে বসতেন, তখন তাঁর সমস্ত চঞ্চলতা দূর হয়ে তিনি একাগ্র হয়ে যেতেন।

    ৭০. শৈশবে বিদ্যাসাগরের পড়াশোনার প্রতি কেমন অনুরাগ ছিল?

    উত্তর: পড়াশোনার প্রতি তাঁর গভীর ও তীব্র অনুরাগ ছিল; শত কষ্টেও তিনি পড়া ছাড়তেন না।

    ৭১. বিদ্যাসাগরের শিক্ষকেরা তাঁর সম্পর্কে কী ভাবতেন?

    উত্তর: শিক্ষকেরা তাঁর অসাধারণ মেধা দেখে মুগ্ধ হতেন এবং তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ বাণী করতেন।

    ৭২. ‘বিদ্যাসাগর’ শব্দের অর্থ কী?

    উত্তর: ‘বিদ্যাসাগর’ শব্দের অর্থ হলো বিদ্যার সমুদ্র বা জ্ঞানের সাগর।

    ৭৩. বালক ঈশ্বরচন্দ্রের কোন বিষয়টি সবাইকে অবাক করত?

    উত্তর: যেকোনো কঠিন পড়া খুব দ্রুত মুখস্থ ও অনুধাবন করার ক্ষমতা সবাইকে অবাক করত।

    ৭৪. বিদ্যাসাগরের শৈশবের মূল চালিকাশক্তি কী ছিল?

    উত্তর: জ্ঞান অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং বাবার প্রতি শ্রদ্ধা।

    ৭৫. ‘আত্মচরিত’ রচনায় বিদ্যাসাগরের বাল্যকালকে কিসের প্রতীক বলা হয়েছে?

    উত্তর: মেধার একনিষ্ঠতা ও প্রতিকূলতা জয়ের প্রতীক বলা হয়েছে।

    ৭৬. রাইমণি কে ছিলেন?

    উত্তর: রাইমণি ছিলেন কলকাতার জগদ্দুর্লভ বাবুর ভগিনী (বোন)।

    ৭৭. রাইমণি বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে কীভাবে আগলে রেখেছিলেন?

    উত্তর: তিনি ঈশ্বরচন্দ্রকে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছিলেন।

    ৭৮. ঈশ্বরচন্দ্র কলকাতায় কার কাছে মায়ের অভাব ভুলেছিলেন?

    উত্তর: তিনি পরম দয়াশীল নারী রাইমণির কাছে মায়ের অভাব ভুলেছিলেন।

    আরও পড়ুন:  প্রত্যুপকার গল্পের মূলভাব - প্রত্যুপকার গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন

    ৭৯. রাইমণি ঈশ্বরচন্দ্র অসুস্থ হলে কী করতেন?

    উত্তর: তিনি দিনরাত জেগে নিজের সন্তানের মতো ঈশ্বরচন্দ্রের সেবা করতেন।

    ৮০. বিদ্যাসাগর রাইমণির স্নেহকে কী হিসেবে উল্লেখ করেছেন?

    উত্তর: তিনি রাইমণির স্নেহকে ‘অকৃত্রিম ও খাঁটি স্নেহ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    ৮১. “পামর” শব্দের অর্থ কী?

    উত্তর: ‘পামর’ শব্দের অর্থ হলো পাপিষ্ঠ, অধম বা নরাধম ব্যক্তি।

    ৮২. “কৃতঘ্ন” শব্দের অর্থ কী?

    উত্তর: ‘কৃতঘ্ন’ শব্দের অর্থ হলো অকৃতজ্ঞ বা যে উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।

    ৮৩. বিদ্যাসাগর নিজেকে কেন ‘কৃতঘ্ন ও পামর’ বলতে চেয়েছেন?

    উত্তর: রাইমণি ও মুড়ি বিক্রেতা নারীর মতো মহৎ নারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে তিনি নিজেকে কৃতঘ্ন ও পামর মনে করতেন।

    ৮৪. “নারীজাতির প্রতি আমার গভীর পক্ষপাতিত্ব রয়েছে”—উক্তিটি কার?

    উত্তর: উক্তিটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের।

    ৮৫. বিদ্যাসাগরের নারীজাতির প্রতি পক্ষপাতিত্বের মূল কারণ কী?

    উত্তর: জীবনে ও পরিবারে সাধারণ নারীদের কাছ থেকে পাওয়া নিঃস্বার্থ দয়া ও ভালোবাসা।

    ৮৬. রাইমণির বিদায় বা মৃত্যু বিদ্যাসাগরকে কীভাবে প্রভাবিত করেছিল?

    উত্তর: এটি তাঁর জীবনে এক গভীর শূন্যতা ও বেদনার সৃষ্টি করেছিল, যা তিনি কখনো ভুলতে পারেননি।

    ৮৭. ‘আত্মচরিত’ মূলত কোন ধরনের রচনা?

    উত্তর: এটি একটি আত্মজীবনীমূলক (Autobiographical) রচনা।

    ৮৮. বিদ্যাসাগরের এই ‘আত্মচরিত’ রচনাটি কি সম্পূর্ণ?

    উত্তর: না, এটি তাঁর একটি অসমাপ্ত আত্মজীবনী।

    ৮৯. জগদ্দুর্লভ বাবুর বাড়িতে ঈশ্বরচন্দ্রের জীবন কেমন ছিল?

    উত্তর: রাইমণির স্নেহ পেলেও পরজীবী জীবনের কারণে পরিবেশটি তাঁর জন্য বেশ সংকুচিত ও কষ্টের ছিল।

    ৯০. তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘কলকাতা’র গুরুত্ব কী ছিল?

    উত্তর: কলকাতা ছিল উচ্চশিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক উন্নতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।

    ৯১. বিদ্যাসাগরের দয়াশীল হৃদয়ের ভিত্তি কোথায় তৈরি হয়েছিল?

    উত্তর: তাঁর শৈশবে চেনা চরিত্রগুলোর (মা, ঠাকুমা, রাইমণি) নিঃস্বার্থ পরোপকার দেখে এই ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।

    ৯২. ‘আত্মচরিত’ রচনার মূল উদ্দেশ্য কী?

    উত্তর: নিজের বংশের সৎ ইতিহাস তুলে ধরা এবং সততা ও নৈতিকতার আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

    ৯৩. বিদ্যাসাগরের সময়ে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন ছিল?

    উত্তর: তৎকালীন গ্রামীণ ও সাধারণ পণ্ডিত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত দারিদ্র্যপীড়িত।

    ৯৪. “ক্ষুধা বড় বালাই”—উক্তিটি গল্পের কোন চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়?

    উত্তর: উক্তিটি বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলকাতার শুরুর জীবনকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ৯৫. রাইমণি তাঁর খাবারের ভালো অংশটি কাকে দিতেন?

    উত্তর: তিনি নিজের সন্তানদের চেয়েও বেশি ভালোবেসে আশ্রিত বালক ঈশ্বরচন্দ্রকে দিতেন।

    ৯৬. বিদ্যাসাগরের এই গল্পটি থেকে শিক্ষার্থীরা কী শিখতে পারে?

    উত্তর: শিক্ষার্থীরা শিখতে পারে যে, সততা, একাগ্রতা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো অভাবকে জয় করা যায়।

    ৯৭. বিদ্যাসাগরের জীবনের মূল সম্পদ কী ছিল?

    উত্তর: তাঁর জীবনের মূল সম্পদ ছিল তাঁর অটল চরিত্র, মেধা এবং পরোপকারী মানসিকতা।

    ৯৮. ‘তর্কভূষণ’ এবং ‘বিদ্যাসাগর’—এই দুটি মূলত কী?

    উত্তর: এই দুটি হলো শিক্ষাগত ও শাস্ত্রীয় পাণ্ডিত্যের জন্য দেওয়া বিশেষ উপাধি।

    ৯৯. বিদ্যাসাগর তাঁর আত্মজীবনীতে কাদের অবদান বেশি স্মরণ করেছেন?

    উত্তর: তিনি তাঁর পিতা, পিতামহ এবং তাঁর জীবনে আসা নিঃস্বার্থ নারীদের অবদান সবচেয়ে বেশি স্মরণ করেছেন।

    ১০০. চরিত্রের দিক থেকে বিদ্যাসাগরের পরিবার কেমন ছিল?

    উত্তর: পোশাকে ও ধনে দরিদ্র হলেও তাঁরা চরিত্রে ছিলেন রাজকীয়, উন্নতচেতা এবং অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন।

    উপসংহার:

    পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য জ্ঞানমূলক বা ‘ক’ নম্বরের প্রশ্নগুলো ম্যাজিকের মতো কাজ করে । এখানে বানিয়ে লেখার কোনো সুযোগ নেই; সঠিক তথ্যটি দিতে পারলেই ছাঁকা ১ নম্বর পকেটে চলে আসে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘আত্মচরিত’ রচনার খুঁটিনাটি জন্মসাল, নাম, স্থান ও শব্দের অর্থ মনে রাখা অনেকের কাছে একটু কঠিন মনে হতে পারে । আশা করি, আজকের এই সহজ ও গোছানো ১০০টি প্রশ্ন-উত্তর আপনার সেই ভয়কে এক নিমেষেই দূর করে দেবে । এগুলো বারবার রিভিশন দিলে পরীক্ষার হলে কোনো তথ্যই আর গুলিয়ে যাবে না । পোস্টটি আপনার উপকারে এলে সহপাঠীদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না । আপনার পরীক্ষার দুর্দান্ত ফলাফলের জন্য রইল মন থেকে অনেক অনেক শুভকামনা!

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins
    Right Menu Icon