উর্দু কাব্যসাহিত্যের ধ্রুপদী আকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র মির্জা আসাদুল্লাহ খান গালিব কেবল ১৮ শতকের একজন কবি ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মানবমনস্তত্ত্ব ও জীবনদর্শনের এক অনন্য প্রবক্তা । তাঁর ক্ষুরধার লেখনী ও গভীর ভাবনায় প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ-বেদনা, জীবনের অপ্রাপ্তি এবং পরম স্রষ্টার প্রতি আধ্যাত্মিক আকুলতা এমন নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে, যা শতাব্দী পার করেও আজও বিশ্বজুড়ে পাঠকের হৃদয়কে সমানভাবে নাড়া দেয় । গালিবের উক্তি ও কবিতার প্রতিটি লাইনে লুকিয়ে থাকে জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখার এক অবিশ্বাস্য জাদুকরী শক্তি ।
তাঁর সৃষ্টি কেবল শব্দের সংমিশ্রণ নয়, বরং মানবহৃদয়ের না-বলা কথাগুলোর এক চিরন্তন প্রতিধ্বনি । জীবনের কঠিন বাস্তবতা আর ভালোবাসার গভীর অনুভূতিকে যিনি এত প্রাঞ্জল ও শৈল্পিক ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলেছেন, তাঁর বাণী আজও কাব্যপ্রেমীদের মনে সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণার অন্যতম রসদ । “মির্জা গালিব এর উক্তি” শিরোনামের এই পোস্টটি আপনাকে নিয়ে যাবে মহাকবির সেই মায়াবী ও শাশ্বত জগতে, যেখানে প্রতি পংক্তিতে খুঁজে পাবেন জীবন ও অনুরাগের নতুন এক রূপ ।
ভালোবাসা নিয়ে মির্জা গালিব এর উক্তি
1. ইশক পার জোর নেহি, হ্যায় ইয়ে ওহ আতশ ‘গালিব’ / জো লাগায়ে না লাগে অওর বুঝায়ে না বনে ।
অর্থ: ভালোবাসার ওপর কারো জোর চলে না গালিব, এ এমন এক আগুন যা চাইলেই জ্বালানো যায় না, আবার নেভানোও যায় না।
2. ইশক নে ‘গালিব’ নিকম্মা কর দিয়া / ওয়ার্না হাম ভি আদমি থে কাম কে ।
অর্থ: প্রেম গালিবকে একদম অকর্মণ্য বানিয়ে দিল, নইলে লোকটা আমি কাজেরই ছিলাম।
3. দিল-ই-নাদাঁ তুঝে হুয়া ক্যায়া হ্যায় / আখির ইস দরদ কি দওয়া ক্যায়া হ্যায় ।
অর্থ: ওরে আমার অবুঝ মন, তোর কী হয়েছে? প্রেমজনিত এই যন্ত্রণার ওষুধই বা কী?
4. উন কে দেখে সে জো আ জাতি হ্যায় মুঁহ পে রোনাক / ওহ সমঝতে হ্যাঁয় কি বিমার কা হাল অচ্ছা হ্যায়।
অর্থ: প্রিয়তমাকে দেখলে আমার মুখে যে দীপ্তি ফিরে আসে, তিনি ভেবে বসেন বিরহী মানুষটা বোধহয় ভালোই আছে!
5. আহ কো চাহিয়ে এক উমর আসর হোনে তক / কৌন জিতা হ্যায় তেরি জুুলফ কে সর হোনে তক।
অর্থ: ভালোবাসার এক দীর্ঘশ্বাসের ফল মিলতে এক জীবন লেগে যায়; তোর চুলের সুবাসে মেতে ওঠার জন্য ততদিন বাঁচবেই বা কে?
6. তেরে ওয়াদে পর জিয়ে হাম, তো ইয়ে জান ঝুট জানা / কি খুশি সে মর না জাতে জো এতবার হোতা।
অর্থ:তোমার প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করে বেঁচে আছি—এটা মিথ্যা জেনো; যদি সত্যি বিশ্বাস করতাম, তবে তো আনন্দে আগেই মরে যেতাম!
7. হামকো উনসে ওফা কি হ্যায় উম্মীদ / জো নেহি জানতে ওফা ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: আমি তাঁর কাছে ভালোবাসার নিষ্ঠা আশা করি, যে নিজেই জানে না নিষ্ঠা বা বিশ্বস্ততা আসলে কী!
8. ইশরত-ই-কত্রা হ্যায় দরিয়া মে ফনা হো জানা / দরদ কা হদ সে গুজরনা হ্যায় দওয়া হো জানা।
অর্থ: জলবিন্দুর সার্থকতা যেমন নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়া, তেমনি ভালোবাসার বিরহ সীমানা ছাড়ালেই তা প্রেমের ওষুধ হয়ে ওঠে।
9. ইমান মুঝে রোকে হ্যায় তো খাঁচে মুঝে ঈমাঁ / কাবা মেরে পিছে হ্যায় তো সনমখানা মেরে আগে।
অর্থ: আমার ধর্ম আমায় টানে, আবার মন টানে প্রেমিকের দিকে; পেছনে কা’বা দাঁড়িয়ে আর সামনে আমার প্রিয়তমের রূপ।
10. জিক্র উস পরী-ওয়াশ কা, অওর ফির বয়াঁ আপনা / বান গ্যায়া রকিব আখের, থা জো রাজদাঁ আপনা।
অর্থ: প্রিয়তমার সৌন্দর্য বর্ণনার সময় এমন মোহ তৈরি হলো যে—যে বন্ধুটি আমার মনের কথা জানত, সে-ই শেষে আমার প্রতিযোগী হয়ে দাঁড়াল!
11. হাত সিদদে মে হ্যায়, সুরাহী সিদদে মে হ্যায় / ইশক মে হর এক শে সিদদা-গাহ বান জাতি হ্যায়।
অর্থ: হাত সেজদায়, মদের পাত্রও সেজদায়; ভালোবাসায় পড়ে গেলে প্রতিটি বস্তু নিজেই উপাসনার স্থান হয়ে ওঠে।
12. দরদ মিন্নত কশ-ই-দওয়া না হুয়া / ম্যায় না আচ্ছা হুয়া, বুরা না হুয়া।
অর্থ: প্রেমের বিরহ-যন্ত্রণা ওষুধের ধার ধারেনি; আমি ভালো হইনি, তবে প্রেমাতুর থাকতে পেরেই বেঁচে গেছি।
13. দিল হি তো হ্যায় না সংগ-ও-খিশত দরদ সে ভর না আয়ে ক্যু / রোয়েঙ্গে হাম হাজার বার কোঈ হামে সতায়ে ক্যু।
অর্থ: হৃদয় তো, কোনো পাথর বা ইট তো নয়! প্রেমে সে ভারাক্রান্ত হবে না কেন? হাজার বার কাঁদব, কেউ অহেতুক প্রশ্ন করবে কেন?
14. ঘর জব বনা লিয়া তেরে দর পর কহে বিগ্যার / সায়ে কা তেরা ফরেব থা, মেহেরবাঁ নেহি।
অর্থ: তোর দুয়ারে যখন আশ্রয় নিলাম, তখন বুঝলাম তোর ছায়াটাও ছিল ভালোবাসার এক ছলনা।
15. হুসন-ই-বে-পরওয়া খেয়াল-ই-খাম কো আফা কর দিয়া / ইশক কো খুশফ্যাহমি কা এক জাম মিলা।
অর্থ: প্রিয়তমার উদাসীন রূপ আমার কাঁচা ভাবনাসমূহকে ক্ষমা করে দিল, আর আমার মন পেয়ে গেল নিজের অহেতুক আত্মবিশ্বাসের সুরা!
16. রগোঁ মে দোড়তে ফিরনে কে হাম নেহি কায়েল / জো আঁখ সে হি না টপকা তো ফির লহু ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: যা শুধু ধমনীতে বয়ে বেড়ায় তাকে রক্ত মানি না; প্রেমের বিরহে যা চোখ দিয়ে রক্তাশ্রু হয়ে ঝরে না, তা রক্তই নয়!
17. ফির উসি জাঁ-গুদাজ পে আ পঁহুচা হ্যায় দিল / জো মুঝসে ছুটা থা বহু দোস্ত কা সঙ্গ।
অর্থ: সেই হৃদয়বিদারক প্রেমানুভূতিতেই আবার হৃদয় এসে পৌঁছেছে, বহু বছর আগে যে প্রিয় সঙ্গ হারিয়ে গিয়েছিল।
18. বোঝ ওহ তুলে যা উঠা সাকूँ / ইশক মে হর এক বাত সানাদ নেহি হোতি।
অর্থ: বিরহের সেই বোঝাই দাও যা সইতে পারি; প্রেমের সব বাক্যই তো আর চূড়ান্ত প্রমাণ হতে পারে না।
19. ঘাম-ই-হস্তী কা ‘গালিব’ ক্যায়া দওয়া হ্যায় / শমা হর রঙ মে জলতি হ্যায় সহর হোনে তক।
অর্থ: বিরহকাতর জীবনের কী ওষুধ থাকতে পারে গালিব? প্রদীপকে তো ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত প্রেমে জ্বলতেই হয়।
20. যাব কি তুম বিন কোনো নেহি হ্যায় / ফির ইয়ে হংগামা অ্যায় খোদা ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: তুমি ছাড়া যখন আর কেউই নেই হৃদয়ে, তবে চারপাশের এই বিভ্রান্তি আর শোরগোল কিসের?
21. মৌত কা এক দিন মুআইয়্যন হ্যায় / নীন্দ রাত ভর ক্যুঁ নেহি আতি।
অর্থ: মৃত্যুর দিন তো নির্দিষ্ট করাই আছে, কিন্তু প্রিয়জনের বিরহে সারারাত চোখে ঘুম আসে না কেন?
22. মুঝকো পুরসিশ-ই-অন্যায় পে না ইতনা শুত্র কা / কাট গ্যায়া শহর তো ফির হাল-ই-মেহেরাং ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসার যন্ত্রণায় কেউ খোঁজ না নিলে কী যায় আসে? পুরো মন ধ্বংস হওয়ার পর কুঁড়েঘরের খবর নিয়ে লাভ কী!
23. হাজারোঁ খাঁওয়া হিশেঁ অ্যায়সি কি হর খাঁওয়া হিশ পে দম নিকলে / বহুত নিখলে মেরে আরমান, লেকিন ফির ভি কম নিকলে।
অর্থ: প্রিয়তমাকে ঘিরে হাজারো ইচ্ছা যে প্রতিটার জন্য প্রাণ যায়; কত ইচ্ছা যে পূর্ণ হলো, তবু যেন আকুলতা কমলো না।
24. বাস কি দুশওয়ার হ্যায় হর কাম কা আসাঁ হোনা / আদমি কো ভি মায়াস্সর নেই জাঁসাঁ হোনা।
অর্থ: ভালোবাসার পথ সহজ হওয়া বড় কঠিন; প্রেমে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে মানুষ হয়ে ওঠাও সহজ নয়।
25. ম্যাহরম নেহি হ্যায় তু ভি তো আলম মে রাজ কা / জো কুছ কি রাজ-ই-গাইব হ্যায় পরদে মে সাজ কা।
অর্থ: প্রেমের গোপন গভীরতা বোঝার অনুভূতি তো তোমারও নেই; অন্তরালে লুকিয়ে থাকা রূপের খবর আর কে জানে!
26. ইশরত-ই-কত্রা হ্যায় দরিয়া মে ফনা হো জানা / দরদ কা হদ সে গুজরনা হ্যায় দওয়া হো জানা।
অর্থ: বিন্দু হয়ে জলরাশিতে বিলীন হওয়াতেই বিন্দুর সার্থকতা; প্রেমাস্পদের মাঝে নিজের অহং বিলীন করাতেই মিলন।
27. পিনা বাদা-ও-মস্ত রহনা হামারা তরিকা হ্যায় / তরক-ই-রসুমাত মে হ্যাঁয় ঈমান কা কামিল হোনা।
অর্থ: সুধা পান আর প্রেমে মগ্ন থাকাই আমার পথ; লোকদেখানো নিয়ম ত্যাগ করাই তো অনুরাগের পূর্ণতা।
28. মেহেরবাঁ হো কে বুলা লো মুঝে চ্যাহে জিস ওয়াকত / ম্যায় গয়া ওয়াকত নেহি হুঁ কি ফির আ না সাকूँ।
অর্থ: ভালোবাসা নিয়ে যেকোনো সময় ডেকে নাও; আমি তো বয়ে যাওয়া সময় নই যে আর ফিরে আসতে পারব না।
29. হ্যায় অওর ভি দুনিয়া মে সুখন-ওর বহুত অচ্ছে / kehতে হ্যাঁয় কি ‘গালিব’ কা হ্যায় আন্দাজ-ই-বয়াঁ কুছ অওর।
অর্থ: দুনিয়ায় বহু সুকবি আছেন, কিন্তু সবাই বলে—ভালোবাসা প্রকাশের ‘গালিব’-এর স্টাইলটাই নাকি আলাদা।
30. গালিব ছুটি শরাব, পর অব ভি কভি কভি / পিতা হুঁ রোজ-ই-আবর ও শব-ই-মাহতাব মে।
অর্থ: গালিবের আসক্তি হয়তো কমেছে, তবু প্রিয়ার স্মৃতিতে আজও—মেঘলা দিনে আর জোছনা রাতে হৃদয় মাতাল হয়।
31. চিরাঘ-ই-খানাহ-ই-দিল তো বুঝ গ্যায়া কাব কা / অব ইস মে জো ধুঁয়া হ্যায় ওহ হ্যায় দাঘ-ই-হসরত।
অর্থ: হৃদয়ের প্রদীপ তো অনেক আগেই নিভে গেছে, এখন ভালোবাসার যে ধোঁয়া দেখছ তা কেবল অনুশোচনার দাগ।
32. ক্যায়া ফরজ হ্যায় কি সব কো মিলে এক সা জবাব / আও না হাম ভি সায়র করেঁ তূর-ই-সীন কি।
অর্থ: ভালোবাসার প্রকাশে সবাই কি একই প্রতিদান পাবে? চলো, আমরাও অনুরাগের চরম চূড়ায় গিয়ে তা খুঁজি।
33. বে-খুদি বে-সবব নেহি ‘গালিব’ / কুছ তো হ্যায় জিসকি পারদাদারী হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসার এই আত্মভোলা ভাব কারণ ছাড়া আসে না, নিশ্চয়ই প্রিয়জনের প্রেম গোপন রাখা হচ্ছে।
34. কোঈ উম্মীদ বর নেহি আতি / কোঈ সুরত নজর নেহি আতি।
অর্থ: প্রেমে কোনো আশাই পূর্ণ হতে দেখা যায় না, বিরহ থেকে উদ্ধারের কোনো পথও মেলে না।
35. বন্দেগী মে ভি ওহ আজাদ ও খুদবীন হ্যাঁয় কি হাম / উলটে ফির আয়ে দর-ই-কা’বা যদি ওয়া না হুয়া।
অর্থ: ভালোবাসাতেও আমি এতটাই আত্মমর্যাদাশীল যে, প্রিয়জনের দরজা বন্ধ পেলে সসম্মানে ফিরে আসি।
36. আয়না ক্যু না দুঁ কি নজর না লাগে / উনসে ক্যায়া চ্ছুপে জো মুঝসে ভি নেহি চ্ছুপা।
অর্থ: রূপের হিংসা থেকে বাঁচতে আয়না কেন লুকিয়ে রাখব না? তাঁর কাছে কী গোপন থাকবে যা আমার কাছেও স্পষ্ট!
37. হর এক বাত পে কেহতে হো তুম কি তু ক্যায়া হ্যায় / তুমহি কহো কি ইয়ে আন্দাজ-ই-গুফতুগু ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: আমার অনুরাগের জবাবে অবহেলায় বলো “তুই কে?” তুমিই বলো, প্রিয়ার এমন উত্তর শোভা পায় কি?
38. খুশি কি তামান্না মে গাম মিল গ্যায়া / জো মাঙ্গা খোদা সে ওহ কাম মিল গ্যায়া।
অর্থ: ভালোবাসার সুখে ভাসতে চেয়েছিলাম, বিনিময়ে পেলাম বিরহবেদনা; যা চেয়েছি তা ভিন্ন রূপ নিয়ে ফিরে এলো।
39. শমা পরওয়ানে কো জলাতি হ্যায় / পরওয়ানা শমা পে ফিদা হোতা হ্যায়।
অর্থ: প্রদীপ পতঙ্গকে পুড়িয়ে ছাই করে, আর পতঙ্গ ভালোবাসার দায়েই সেই আগুনে নিজেকে সঁপে দেয়।
40. ইশক কা রাজ রাজ হি রহতা / জব তক উসে রসুয়া না কিয়া জায়।
অর্থ: অনুরাগের কথা পরম গোপনই থেকে যায়, যতক্ষণ না লোকচক্ষে এনে তাকে লজ্জিত করা হয়।
41. তেরে খোত মে ইশক কা পয়গাম থা / পর ম্যায় উসে পঢ় না সাকা।
অর্থ: প্রিয়ার চিঠিতে অনুরাগের বার্তা ছিল, কিন্তু আবেগের ব্যাকুলতায় তা পুরো পড়া হলো না।
42. গাম-ই-জিন্দেগী সে না ডর ‘গালিব’ / ইয়ে তো এক দিন খতম হো হি জায়েগা।
অর্থ: ভালোবাসার যন্ত্রণাকে ভয় পেয়ো না গালিব, এই দেহ আর জীবনের সাথে যন্ত্রণাও একদিন শেষ হবে।
43. হাজারোঁ কাফিল্যাঁ সে গুজরে হ্যাঁয় / পর তেরি গলিয়োঁ মে জো মাজা থা ওহ কহিঁ নেহি।
অর্থ: জীবনের বহু পথে হেঁটেছি, কিন্তু প্রিয়তমার গলি দিয়ে হাঁটার মধ্যে যে আনন্দ ছিল, তা আর কোথাও মেলেনি।
44. জিন্দেগী এক সফর হ্যায়, ইসমে হাজারোঁ মোড় হ্যাঁয় / পর তুম সে মিলনা এক হাসীন ইতিফাক থা।
অর্থ: জীবন এক দীর্ঘ পথ, তাতে অজস্র ঘটনা; তবে প্রিয়ার সাথে দেখা হওয়াটা ছিল পরম এক উপহার।
45. দিল কি বাত দিল মে হি রহ গয়ী / জব তুমনে মুঝে দেখকর মুখ মোড় লিয়া।
অর্থ: হৃদয়ের ব্যাকুলতা হৃদয়েই রইল, যখন প্রিয়তমা আমায় দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিল।
46. হামনে তো পিয়ার কিয়া থা, তুমনে তো সওদা কিয়া থা / হামনে দিল দিয়া থা, তুমনে তো খেল কিয়া থা।
অর্থ: আমি সঁপেছিলাম সত্য প্রেম, তুমি করেছিলে লাভ-ক্ষতির হিসাব; আমি দিয়েছিলাম মন, আর তুমি খেললে খেলা।
47. তেরে পিয়ার মে হামনে ক্যায়া ক্যায়া না কিয়া / পর তুমনে হামে কভি আপনা না সমঝা।
অর্থ: প্রিয়ার অনুরাগে কত ব্যাকুলতা দেখালাম, অথচ তিনি একটিবারও আমায় আপন ভাবলেন না।
48. মৌত সে ডর নেহি لگتا / ডর لگتا হ্যায় তেরে জুদা হোনে সে।
অর্থ: মরণকে ভয় পাই না, আমার সব ভয় তো প্রিয়ার সাথে বিচ্ছেদ ঘটা নিয়ে।
49. খুশি মে তো সব সাথ দেতে হ্যাঁয় / পর গাম মে জো সাথ দে ওহি সচ্ছা দোস্ত হ্যায়।
অর্থ: আনন্দের দিনে সবাই পাশে থাকে, আর ভালোবাসার বিরহ-কষ্টে যে পাশে থাকে সে-ই তো খাঁটি সুহৃদ।
50. তেরি চ্যাহাত মে হামনে আপনা সব কুছ খো দিয়া / পর তুমনে হামে এক বার ভি ইয়াদ না কিয়া।
অর্থ: তোমাকে চাওয়ার আকুলতায় সব হারিয়েছি, আর তুমি একটিবারের জন্যও স্মরণে আনলে না।
51. জিন্দেগী মে পিয়ার কা হোনা জশুরী হ্যায় / পিয়ার কে বিন জিন্দেগী আধুরী হ্যায়।
অর্থ: জীবনে অনুরাগের উপস্থিতি জরুরি; প্রেমহীন জীবন কেবল এক অসম্পূর্ণ অস্তিত্ব।
52. হাম তো তেরে পিয়ার মে দিওয়ানে হো গয়ে থে / পর তুমনে হামে সমঝা হি নেহি।
অর্থ: আমি প্রিয়ার অনুরাগে দেওয়ানা হয়ে গিয়েছিলাম, অথচ তিনি আমার গভীরতা বুঝতেই পারলেন না।
53. তেরি ইয়াদ মে হাম রাত ভর জাগতে হ্যাঁয় / পর তুম হো কি সোয়ে রহতে হো।
অর্থ: প্রিয়তমার স্মৃতিতে আমি সারারাত জেগে কাটাই, আর তিনি অচেনা নির্ভাবনায় ঘুমিয়ে থাকেন।
54. পিয়ার মে তো কুর্বানী देनी পডতী হ্যায় / হামনে তো আপনি জিন্দেগী হি কুর্বান কর দি।
অর্থ: ভালোবাসায় নিঃশব্দ ত্যাগ লাগে, আর আমি তো প্রিয়ার পায়ে নিজের জীবনটাই সঁপে দিয়েছি।
55. তেরে বিন জিন্দেগী কুছ ভি নেহি / তুম হি তো মেরি জিন্দেগী হো।
অর্থ: প্রিয়তমাকে ছাড়া জীবন অর্থহীন এক মরীচিকা, তিনি ছাড়া জীবনের আর কোনো রূপ নেই।
56. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে ধোকা দিয়া।
অর্থ: আমি তো তোমায় খাঁটি অন্তরে বেসেছিলাম ভালো, আর বিনিময়ে মিলল কেবল ছলনা।
57. তেরি গলিয়োঁ মে হামনে বহু ত স্যাল গুজারে হ্যাঁয় / পর অব ওহ গলিয়োঁ মেরি নেহি રહી।
অর্থ: প্রিয়ার দুয়ারের গলিতে কত বয়স পার করেছি, কিন্তু আজ সে গলি আর আমার রইল না।
58. পিয়ার কা মেহসাস হি কুছ অউর হোতা হ্যায় / জব তুম পাশ হোতে হো তো সব কুছ হাসীন لگتا হ্যায়।
অর্থ: অনুরাগের অনুভূতি অনন্য; প্রিয়তমা পাশে থাকলে চারপাশের পৃথিবীটা সুন্দর হয়ে ওঠে।
59. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা ইমান খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি পিয়ার নেহি কিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার ভালোবাসায় সব আদর্শ হারিয়েছি, অথচ সে কোনোদিন আমায় ভালোই বাসল না।
60. জিন্দেগী মে এক বার পিয়ার তো হোতা হি হ্যায় / পর ওহ পিয়ার সচ্ছা হোনা চাহিয়ে।
অর্থ: জীবনে অনুরাগের ছোঁয়া একবার আসেই, তবে সে ভালোবাসায় যেন কোনো কৃত্রিমতা না থাকে।
61. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ চ্ছাড় দিয়া / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: প্রিয়তমার জন্য পথ আর জগৎ ছাড়লাম, আর তিনি দিনশেষে আমাকেই ত্যাগ করলেন।
62. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে আশ্ক বহায়ে হ্যাঁয় / পর তুমনে এক বার ভি মুড়কে নেহি দেখা।
অর্থ: প্রিয়ার স্মৃতিতে কত চোখের জল ফেললাম, অথচ তিনি একটিবারও পেছনে ফিরে তাকালেন না।
63. পিয়ার মে দরদ তো হোতা হি হ্যায় / পর ওহ দরদ ভি হাসীন لگتا হ্যায়।
অর্থ: প্রেমে বিরহের যন্ত্রণা থাকবেই, কিন্তু প্রিয়জনের দেওয়া সেই কষ্টের মাঝেও রূপ থাকে।
64. তেরে বিন জিন্দেগী এক সাজা বান গয়ী হ্যায় / তুম আ জাও তো জিন্দেগী হাসীন বান যায়ে।
অর্থ: প্রিয়তমাকে ছাড়া জীবন এক কঠিন শাস্তি; তিনি ফিরলে আবার বসন্ত নামত।
65. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে জুট্টা সমঝা।
অর্থ: আমি ব্যাকুল হৃদয়ে ভালোবাসলাম, আর প্রিয়তমা আমায় ভেবে বসলেন এক প্রবঞ্চক!
66. তেরি সোরত মে হামনে খোদা কো দেখা হ্যায় / তুম হি তো মেরি ইবাদত হো।
অর্থ: প্রিয়তমার রূপের মাঝে স্রষ্টার প্রতিচ্ছবি দেখেছি; ভালোবাসাই তো আমার উপাসনা।
67. পিয়ার কা কোনো রঙ নেহি হোতা / পর ওহ হর রঙ মে ঢল জাতী হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসার নিজস্ব রূপ নেই, কিন্তু প্রতিটি অনুভূতিতেই তা মিশে যেতে জানে।
68. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা আপ খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি আপনা না সমঝা।
অর্থ: প্রেমে নিজের স্বকীয়তা হারিয়েছি, অথচ প্রিয়তমা আমায় কখনোই আপন করলেন না।
69. জিন্দেগী মে গাম তো বহুত হ্যাঁয় / পর তেরা গাম সবসে আলাদা হ্যায়।
অর্থ: জীবনে দুঃখের কমতি নেই, তবে প্রিয়তমাকে না-পাওয়ার কষ্ট সব কষ্টের চেয়ে আলাদা।
70. হামনে তো তেরে লিয়ে দুনিয়া সে লড়াই কি / পর তুমনে হামে হি ভূলা দিয়া।
অর্থ: প্রিয়তমার হাসির জন্য দুনিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি, আর তিনি আমায় অনায়াসে ভুলে গেলেন।
71. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনি রাতেঁ গুজারী হ্যাঁয় / পর তুম হো কি কভি ইয়াদ হি নেহি করতে।
অর্থ: প্রিয়ার বিরহে কত রাত নিদ্রাহীন কাটাই, আর তাঁর মনে আমার সামান্য স্মৃতির ছিটেফোঁটাও নেই।
72. পিয়ার মে কোনো শর্ত নেহি হোতি / পিয়ার তো বাস হো জাতী হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসায় কোনো নিয়ম বা শর্ত চলে না; ভালোবাসা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ঘটে যায়।
73. তেরে বিন জিন্দেগী সুনি সুনি লাগে / তুম আ জাও তো জিন্দেগী মে রঙ ভর যায়ে।
অর্থ: প্রিয়াকে ছাড়া জীবন বিষাদময় এক ক্যানভাস, তিনি ফিরলে তবেই তাতে রং ছড়াবে।
74. হামনে তো তুমসে ওফা কি থি / পর তুমনে হামে জফা দি।
অর্থ: আমি সঁপেছিলাম অনুরাগের নিষ্ঠা, আর প্রিয়া বিনিময়ে দিলেন কেবল নির্মমতা।
75. তেরি হাসী মে হামনে আপনি খুশি দেখি হ্যায় / তুম হাসতে হো তো সব কুছ আচ্ছা لگتا হ্যায়।
অর্থ: প্রিয়তমার হাসিতেই আমার আনন্দের সন্ধান; তিনি হাসলে জগতের সব কিছু অর্থপূর্ণ মনে হয়।
76. পিয়ার মে দরদ কা সিসিলা কভি খতম নেহি হোতা / ইয়ে তো জিন্দেগী ভর চলতা রহতা হ্যায়।
অর্থ: অনুরাগের বিরহকাব্য কখনো শেষ হয় না; তা আজীবন সমান্তরালে বইতে থাকে।
77. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা নাম খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি ইয়াদ না কিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার ভালোবাসায় নিজের পরিচিতি মুছে ফেলেছি, আর তিনি আমায় নাম ধরে ডাকার প্রয়োজনই বোধ করলেন না।
78. জিন্দেগী মে পিয়ার কা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / হর কিসি কো সচ্ছা পিয়ার নেহি মিলতা।
অর্থ: প্রেমে সার্থকতা মেলা ভাগ্যের ব্যাপার; খাঁটি ভালোবাসা সবার ভাগ্যে থাকে না।
79. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি জিন্দেগী দাও পর লাগা দি / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার ভালোবাসায় জীবন বাজি রাখলাম, অথচ তিনিই আমায় একা ফেলে চলে গেলেন।
80. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে খেয়াল বুনে হ্যাঁয় / পর ওহ খেয়াল কভি সচে নেহি হুয়ে।
অর্থ: প্রিয়তমাকে ঘিরে অনুরাগের কত বাসনা বুনেছি, কিন্তু সেই ভাবনার কোনোটিই সত্য হলো না।
81. পিয়ার কা এহসাস সবসে আলাদা হোতা হ্যায় / ইয়ে দিল কো ছুঁ জাতা হ্যায়।
অর্থ: প্রেমের স্পর্শ পৃথিবীর সব অনুভূতির থেকে আলাদা; তা সরাসরি আত্মার গহীনে গিয়ে দোলা দেয়।
82. তেরে বিন জিন্দেগী এক অধুরী কখানি হ্যায় / তুম আ জাও তো কখানি পুরী হো যায়ে।
অর্থ: প্রিয়তমাকে ছাড়া জীবন এক অসমাপ্ত রূপকথা; তিনি এলে তবেই গল্পটা পূর্ণতা পাবে।
83. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা, কোনো গুনাহ নেহি কিয়া থা / পর তুমনে হামে সজা দি।
অর্থ: ভালোবাসাই তো বেসেছিলাম, কোনো অপরাধ তো করিনি! তবুও প্রিয়তমা আমায় শাস্তি দিলেন।
84. তেরি আঁখো মে হামনে আপনা ভবিশ্য দেখা হ্যায় / তুম হি তো মেরি মঞ্জিল হো।
অর্থ: প্রিয়তমার আঁখিজলে আমার গন্তব্য লুকিয়ে ছিল; তিনি ছাড়া তো আর কোনো ঠিকানা নেই।
85. পিয়ার মে ধোকা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / পর পিয়ার করনা নেহি চ্ছোড়না চাহিয়ে।
অর্থ: প্রেমে আঘাত পাওয়া নিয়তির খেলা, তাই বলে ভালোবেসে যাওয়া তো থামানো যায় না।
86. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা সব কুছ লুটা দিয়া / পর তুমনে হামে কভি পিয়ার নেহি কিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার টানে সব বিসর্জন দিলাম, আর তিনি আমায় কখনোই ভালোবাসতে পারলেন না।
87. জিন্দেগী মে গাম কা হোনা জশুরী হ্যায় / তব হি তো খুশি কা এহসাস হোতা হ্যায়।
অর্থ: বিরহবেদনা আছে বলেই তো ভালোবাসার আনন্দ অনুধাবন করা সম্ভব হয়।
88. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ বুরবাদ কর দিয়া / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার প্রেমে নিজের জগত ধ্বংস করলাম, আর দিনশেষে তিনি আমায় পর করে দিলেন।
89. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে গীত লিখে হ্যাঁয় / পর ওহ গীত কভি তুমনে সুনে হি নেহি।
অর্থ: প্রিয়তমার নামে অনুরাগের কত কাব্য রচলাম, অথচ সেই সুর তাঁর কানে কোনোদিন পৌঁছালই না!
90. পিয়ার মে তো বন্দেগী হোতী হ্যায় / ইয়ে দিল সে দিল কা রিশতা হোতা হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসায় একধরনের আধ্যাত্মিক একাগ্রতা থাকে; এ তো মনের সাথে মনের এক গোপন সম্পর্ক।
91. তেরে বিন জিন্দেগী এক অন্ধেরা হ্যায় / তুম আ জাও তো রোশনি হো যায়ে।
অর্থ: প্রিয়তমাকে ছাড়া জীবন অমাবস্যার আঁধার; তিনি এলে চারপাশ রোশনিতে ভরে উঠত।
92. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে কভি সমঝা হি নেহি।
অর্থ: আমি তো সঁপেছিলাম সততার প্রেম, কিন্তু প্রিয়তমা আমার আকুলতা বুঝতেই পারলেন না।
93. তেরি সোহবত মে হামনে জিন্দেগী কা আসল মাজা লিয়া / তুম হি তো মেরি জিন্দেগী হো।
অর্থ: প্রিয়ার সান্নিধ্যেই জীবনের পরম মাধুর্য পেয়েছি; তিনি ছাড়া জগত নিছক শূন্য।
94. পিয়ার কা কোনো সীমা নেহি হোতী / ইয়ে তো অসীম হোতা হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসার কোনো ভৌগোলিক বা সামাজিক সীমা থাকে না, তা অসীম ও অনন্ত।
95. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা হাশর ক্যায়া কর লিয়া / পর তুমনে হামে এক বার ভি নেহি দেখা।
অর্থ: প্রিয়ার বিরহে নিজের কী করুণ হাল বানালাম! অথচ তিনি একটিবারও চোখ তুলে তাকালেন না।
96. জিন্দেগী মে সব কুছ মিল জাতা হ্যায় / পর সচ্ছা পিয়ার নেহি মিলতা।
অর্থ: দুনিয়ায় চাওয়া মাত্র অনেক কিছুই পাওয়া যায়, কিন্তু নির্ভেজাল ভালোবাসা মেলাভার।
97. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি খুশিয়াঁ চ্ছাড় দিই / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার প্রফুল্লতার জন্য নিজের হাসি বিসর্জন দিলাম, আর তিনি আমায় একা ফেলে চলে গেলেন।
98. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে লফজ জাযে হ্যাঁয় / পর ওহ লফজ কভি তুমনে পড়ে হি নেহি।
অর্থ: প্রিয়তমার নামে ব্যাকুলতার হাজারো বাণী সাজালাম, অথচ সেই শব্দগুলো তাঁর পড়া হলো না।
99. পিয়ার মে তো বিশ্বাস হোনা চাহিয়ে / বিশ্বাস কে বিন পিয়ার আধুরা হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসার প্রাণভোমরা হলো বিশ্বাস; বিশ্বাস টলে গেলে ভালোবাসাও ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।
100. হাম কো মালুম হ্যায় জান্নাত কি হাকীকত লেকিন / দিল কে খুশ রাখা নে কো ‘গালিব’ ইয়ে খয়াল অচ্ছা হ্যায়।
অর্থ: স্বর্গসুখের বাস্তবতা তো আমার জানা গালিব; কিন্তু প্রিয়াকে পাওয়ার মিষ্টি কল্পনায় মনকে ভুলিয়ে রাখার চিন্তাটাও মন্দ নয়!
মির্জা গালিব এর কষ্টের উক্তি
১. গাম-ই-জিন্দেগী সে না ডর ‘গালিব’ / ইয়ে তো এক দিন খতম হো হি জায়েগা। অর্থ: জীবনের কষ্টকে ভয় পেয়ো না গালিব, জীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথে এই যন্ত্রণাও একদিন শেষ হয়ে যাবে।
২. মৌত কা এক দিন মুআইয়্যন হ্যায় / নীন্দ রাত ভর ক্যুঁ নেহি আতি।
অর্থ: মৃত্যুর দিন তো নির্দিষ্ট করাই আছে, তবুও মনোকষ্টে সারারাত চোখে ঘুম আসে না কেন?
৩. দরদ মিন্নত কশ-ই-দওয়া না হুয়া / ম্যায় না আচ্ছা হুয়া, বুরা না হুয়া।
অর্থ: আমার মনের কষ্ট কোনো ওষুধের তোয়াক্কা করেনি; আমি সুস্থও হইনি, আবার কষ্ট সামলে খারাপও হইনি।
৪. দিল হি তো হ্যায় না সংগ-ও-খিশত দরদ সে ভর না আয়ে ক্যু / রোয়েঙ্গে হাম হাজার বার কোঈ হামে সতায়ে ক্যু।
অর্থ: হৃদয় তো, কোনো ইট-পাথর তো নয়! যন্ত্রণায় সে ভারাক্রান্ত হবে না কেন? আমি হাজার বার কাঁদব, কেউ অহেতুক প্রশ্ন করবে কেন?
৫. চিরাঘ-ই-খানাহ-ই-দিল তো বুঝ গ্যায়া কাব কা / অব ইস মে জো ধুঁয়া হ্যায় ওহ হ্যায় দাঘ-ই-হসরত।
অর্থ: হৃদয়ের প্রদীপ তো অনেক আগেই নিভে গেছে, এখন যে ধোঁয়া দেখছ তা কেবল অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার আক্ষেপের দাগ।
৬. কোঈ উম্মীদ বর নেহি আতি / কোঈ সুরত নজর নেহি আতি।
অর্থ: কষ্টের দিনগুলোতে আশার কোনো আলো দেখা যায় না, যন্ত্রণা থেকে উদ্ধারের কোনো পথও মেলে না।
৭. ঘাম-ই-হস্তী কা ‘গালিব’ ক্যায়া দওয়া হ্যায় / শমা হর রঙ মে জলতি হ্যায় সহর হোনে তক।
অর্থ: অস্তিত্বের কষ্টের কী ওষুধ থাকতে পারে গালিব? প্রদীপকে তো ভোরের আলো ফোটা পর্যন্ত নিজের আগুনে জ্বলতেই হয়।
৮. রগোঁ মে দোড়তে ফিরনে কে হাম নেহি কায়েল / জো আঁখ সে হি না টপকা তো ফির লহু ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: যা শুধু ধমনীতে বয়ে বেড়ায় তাকে রক্ত মানি না; কষ্ট আর বিরহে যা চোখ দিয়ে রক্তাশ্রু হয়ে ঝরে না, তা রক্তই নয়!
৯. ঘর জব বনা লিয়া তেরে দর পর কহে বিগ্যার / সায়ে কা তেরা ফরেব থা, মেহেরবাঁ নেহি।
অর্থ: তোর দুয়ারে যখন আশ্রয় নিলাম, তখন বুঝলাম তোর ছায়াটাও ছিল এক নির্মম ছলনা।
১০. মুঝকো পুরসিশ-ই-অন্যায় পে না ইতনা শুত্র কা / কাট গ্যায়া শহর তো ফির হাল-ই-মেহেরাং ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: আমার দুঃসময়ে কেউ খোঁজ না নিলে কী যায় আসে? পুরো অস্তিত্ব ধ্বংস হওয়ার পর কুঁড়েঘরের খবর নিয়ে লাভ কী!
১১. চিরাগ-ই-আখির-ই-শব হুঁ, বুঝা চালতা হুঁ / ম্যায় ওহ শমা হুঁ জো আপনে হি ধুঁয়ে মে ঘুটতি হ্যায়।
অর্থ: আমি রাতের শেষ প্রদীপ, নিভে যাওয়ার মুখে; আমি সেই প্রদীপ যা নিজের ধোঁয়াতেই দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।
১২. হাজারোঁ খাঁওয়া হিশেঁ অ্যায়সি কি হর খাঁওয়া হিশ পে দম নিকলে / বহুত নিখলে মেরে আরমান, লেকিন ফির ভি কম নিকলে।
অর্থ: হাজারো ইচ্ছা যে প্রতিটার অপূর্ণতায় প্রাণ যায়; কত ইচ্ছা যে বিসর্জন দিলাম, তবু যন্ত্রণার শেষ হলো না।
১৩. ইশরত-ই-কত্রা হ্যায় দরিয়া মে ফনা হো জানা / দরদ কা হদ সে গুজরনা হ্যায় দওয়া হো জানা।
অর্থ: বিন্দু হয়ে জলরাশিতে বিলীন হওয়াতেই বিন্দুর সার্থকতা; কষ্টের সীমা যখন পেরিয়ে যায়, তখনই তা সহ্যের সামর্থ্য দেয়।
১৪. বাস কি দুশওয়ার হ্যায় হর কাম কা আসাঁ হোনা / আদমি কো ভি মায়াস্সর নেই জাঁসাঁ হোনা।
অর্থ: জীবনধারণ সহজ হওয়া বড় কঠিন; সহস্র কষ্টের বাধা ডিঙিয়ে মানুষ হয়ে ওঠাও সহজ নয়।
১৫. দিল কি বাত দিল মে হি রহ গয়ী / জব তুমনে মুঝে দেখকর মুখ মোড় লিয়া।
অর্থ: হৃদয়ের সব আকুতি ভেতরেই চাপা পড়ে রইল, যখন তুমি আমাকে দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিলে।
১৬. হামনে তো পিয়ার কিয়া থা, তুমনে তো সওদা কিয়া থা / হামনে দিল দিয়া থা, তুমনে তো খেল কিয়া থা।
অর্থ: আমি দিয়েছিলাম নিভে যাওয়া হৃদয়, আর তুমি করেছিলে লাভ-ক্ষতির হিসাব; আমি সঁপেছিলাম সত্তা, আর তুমি খেললে খেলা।
১৭. মৌত সে ডর নেহি لگتا / ডর لگتا হ্যায় তেরে জুদা হোনে সে।
অর্থ: মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না, আমার সব ভয় তো প্রিয়জনের বিচ্ছেদের কষ্ট নিয়ে।
১৮. তেরি চ্যাহাত মে হামনে আপনা সব কুছ খো দিয়া / পর তুমনে হামে এক বার ভি ইয়াদ না কিয়া।
অর্থ: কাউকে চাওয়ার আকুলতায় সব হারালাম, অথচ দিনশেষে সে একটিবারের জন্যও আমায় স্মরণে আনল না।
১৯. তেরি গলিয়োঁ মে হামনে বহু ত স্যাল গুজারে হ্যাঁয় / পর অব ওহ গলিয়োঁ মেরি নেহি રહી।
অর্থ: স্মৃতিবিজড়িত যে গলিতে জীবনের অনেকটা সময় পার করেছি, আজ সেই পথ আর আমার রইল না।
২০. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ চ্ছাড় দিয়া / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: যার জন্য চারপাশের সব আপনজনদের ছাড়লাম, দিনশেষে সে-ই আমাকে একা ফেলে চলে গেল।
২১. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে আশ্ক বহায়ে হ্যাঁয় / পর তুমনে এক বার ভি মুড়কে নেহি দেখা।
অর্থ: স্মৃতির আঘাতে কত চোখের জল ফেললাম, অথচ কেউ একটিবারও পেছনে ফিরে তাকাল না।
২২. তেরে বিন জেন্দেগী এক সাজা বান গয়ী হ্যায় / তুম আ জাও তো জেন্দেগী হাসীন বান যায়ে।
অর্থ: প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে জীবন এখন এক কঠিন শাস্তি; ফিরে এলে হয়তো এই বিষাদ কাটত।
২৩. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে জুট্টা সমঝা।
অর্থ: আমি তো সত্য অন্তরেই ভালোবেসেছিলাম, অথচ মানুষ আমায় ভেবে বসল এক মস্ত প্রবঞ্চক!
২৪. জেন্দেগী মে গাম তো বহুত হ্যাঁয় / পর তেরা গাম সবসে আলাদা হ্যায়।
অর্থ: জীবনে দুঃখ-কষ্টের অভাব নেই, তবে কাছের মানুষের দেওয়া আঘাত সব কষ্টের চেয়ে আলাদা।
২৫. হামনে তো তেরে লিয়ে দুনিয়া সে লড়াই কি / পর তুমনে হামে হি ভূলা দিয়া।
অর্থ: যার হাসির জন্য সমস্ত দুনিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম, সে-ই আমায় অনায়াসে ভুলে গেল।
২৬. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনি রাতেঁ গুজারী হ্যাঁয় / পর তুম হো কি কভি ইয়াদ হি নেহি করতে।
অর্থ: বিরহের যন্ত্রণায় কত রাত ঘুমহীন কাটাই, অথচ অন্যের মনে আমার সামান্য স্মৃতির ছিটেফোঁটাও নেই।
২৭. তেরে বিন জেন্দেগী সুনি সুনি লাগে / তুম আ জাও তো জেন্দেগী মে রঙ ভর যায়ে।
অর্থ: প্রিয় মানুষটি ছাড়া জীবন এক নিঃসঙ্গ ও বিষাদময় ক্যানভাস।
২৮. হামনে তো তুমসে ওফা কি থি / পর তুমনে হামে জফা দি।
অর্থ: আমি সঁপেছিলাম বিশ্বস্ততা আর নিষ্ঠা, বিনিময়ে পেলাম কেবলই নির্মম আঘাত।
২৯. পিয়ার মে দরদ কা সিসিলা কভি খতম নেহি হোতা / ইয়ে তো জিন্দেগী ভর চলতা রহতা হ্যায়।
অর্থ: অনুরাগের সাথে যে কষ্টের কাব্য শুরু হয়, তা সারা জীবন সমান্তরালে বইতে থাকে।
৩০. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা নাম খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি ইয়াদ না কিয়া।
অর্থ: কারো মোহে পড়ে নিজের পরিচিতি পর্যন্ত হারিয়ে ফেললাম, অথচ সে কখনো স্মরণও করল না।
৩১. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি জেন্দেগী দাও পর লাগা দি / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: যার জন্য পুরো জীবন বাজি রেখেছিলাম, দিনশেষে সে-ই আমায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করল।
৩২. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে খেয়াল বুনে হ্যাঁয় / পর ওহ খেয়াল কভি সচে নেহি হুয়ে।
অর্থ: যাকে ঘিরে কত সুন্দর কল্পনার ঘর বুনেছিলাম, কষ্টের বিষয় হলো সেই ভাবনার কোনোটিই সত্যি হলো না।
৩৩. তেরে বিন জেন্দেগী এক অধুরী কখানি হ্যায় / তুম আ জাও তো কখানি পুরী হো যায়ে।
অর্থ: প্রিয়জনকে ছাড়া পুরো জীবনটাই যেন এক বিষাদময় অসমাপ্ত গল্প।
৩৪. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা, কোনো গুনাহ নেহি কিয়া থা / পর তুমনে হামে সজা দি।
অর্থ: ভালোবাসাই তো বেসেছিলাম, কোনো অপরাধ তো করিনি! তবুও প্রতিনিয়ত কেন এই শাস্তি পাচ্ছি?
৩৫. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা সব কুছ লুটা দিয়া / পর তুমনে হামে কভি পিয়ার নেহি কিয়া।
অর্থ: কারো টানে নিজের সব বিসর্জন দিলাম, অথচ সে কোনোদিন হৃদয় দিয়ে আমায় অনুভবই করল না।
৩৬. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ বুরবাদ কর দিয়া / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: যার জন্য নিজের সাজানো জগত ধ্বংস করলাম, সে দিনশেষে আমায় নিঃস্ব করে চলে গেল।
৩৭. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে গীত লিখে হ্যাঁয় / পর ওহ গীত কভি তুমনে সুনে হি নেহি।
অর্থ: বেদনার কত কাব্য আর গান রচলাম, অথচ সেই কান্নার সুর কাঙ্ক্ষিত মানুষের কানে পৌঁছালই না!
৩৮. তেরে বিন জেন্দেগী এক অন্ধেরা হ্যায় / তুম আ জাও তো রোশনি হো যায়ে।
অর্থ: সঙ্গহীন জীবন যেন অমাবস্যার গভীর আঁধার, আলোর কোনো উৎস সেখানে নেই।
৩৯. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে কভি সমঝা হি নেহি।
অর্থ: ব্যাকুল অন্তরে সততা সঁপেছিলাম, কিন্তু প্রিয় মানুষটি আমার কষ্ট আর আকুলতা বুঝতেই পারল না।
৪০. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা হাশর ক্যায়া কর লিয়া / পর তুমনে হামে এক বার ভি নেহি দেখা।
অর্থ: বিরহে নিজের কী করুণ ও বিধ্বস্ত হাল বানালাম! অথচ সে একটিবারও চোখ তুলে তাকাল না।
৪১. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি খুশিয়াঁ চ্ছাড় দিই / পর তুমনে হামে হি চ্ছাড় দিিয়া।
অর্থ: অন্যের প্রফুল্লতার জন্য নিজের সমস্ত হাসি বিসর্জন দিলাম, আর সে দিনশেষে আমাকেই একা ফেলে গেল।
৪২. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে লফজ জাযে হ্যাঁয় / পর ওহ লফজ কভি তুমনে পড়ে হি নেহি।
অর্থ: কষ্টের ব্যাকুলতায় হাজারো চিঠি ও শব্দ সাজালাম, অথচ সেই শব্দগুলো কারও পড়া হলো না।
৪৩. বে-খুদি বে-সবব নেহি ‘গালিব’ / কুছ তো হ্যায় জিসকি পারদাদারী হ্যায়।
অর্থ: এই যে আত্মভোলা ও বিধ্বস্ত অবস্থা—এ কারণ ছাড়া আসে না গালিব; নিশ্চয়ই আড়ালে কোনো গভীর ক্ষত গোপন রাখা হচ্ছে।
৪৪. উন কে দেখে সে জো আ জাতি হ্যায় মুঁহ পে রোনাক / ওহ সমঝতে হ্যাঁয় কি বিমার কা হাল অচ্ছা হ্যায়।
অর্থ: প্রিয়ার আগমনে আমার মুখে যে সাময়িক আলোর ঝলক আসে, সে ভাবে বিরহী অসুস্থ লোকটা বোধহয় ভালোই আছে!
৪৫. আহ কো চাহিয়ে এক উমর আসর হোনে তক / কৌন জিতা হ্যায় তেরি জুুলফ কে সর হোনে তক।
অর্থ: বেদনার এক দীর্ঘশ্বাসের বিচার মিলতে এক জীবন পার হয়ে যায়; সেই স্বস্তি পাওয়ার পর্যন্ত কে-ই বা বেঁচে থাকে?
৪৬. তেরে ওয়াদে পর জিয়ে হাম, তো ইয়ে জান ঝুট জানা / কি খুশি সে মর না জاتے জো এতবার হোতা।
অর্থ: তোর ঝুটা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে বেঁচে আছি—এটা কষ্টেরই কথা; সত্যি বিশ্বাস করলে তো অনেক আগেই আনন্দে মরে যেতাম!
৪৭. হামকো উনসে ওফা কি হ্যায় উম্মীদ / জো নেহি জানতে ওফা ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: আমি তার কাছে সহানুভূতির আশা করি, যে নিজেই জানে না মায়া বা বিশ্বস্ততা আসলে কী জিনিস!
৪৮. ইমান মুঝে রোকে হ্যায় তো খাঁচে মুঝে ঈমাঁ / কাবা মেরে পিছে হ্যায় তো সনমখানা মেরে আগে।
অর্থ: নীতি আমায় টেনে ধরে, আবার মোহ আমায় টানে; মাঝে দাঁড়িয়ে কষ্টের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি।
৪৯. জিক্র উস পরী-ওয়াশ কা, অওর ফির বয়াঁ আপনা / বান গ্যায়া রকিব আখের, থা জো রাজদাঁ আপনা।
অর্থ: দুঃখের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে এমন বিপদে পড়লাম—যে পরম বন্ধুটি আমার মনের কথা জানত, সে-ই শেষে শত্রু হয়ে দাঁড়াল!
৫০. হাত সিদদে মে হ্যায়, সুরাহী সিদদে মে হ্যায় / ইশক মে হর এক শে সিদদা-গাহ বান জাতি হ্যায়।
অর্থ: যন্ত্রণার চরম সীমায় পৌঁছে নতজানু হওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় অবশিষ্ট থাকে না।
৫১. হুসন-ই-বে-পরওয়া খেয়াল-ই-খাম কো আফা কর দিয়া / ইশক কো খুশফ্যাহমি কা এক জাম মিলা।
অর্থ: প্রিয়ার উদাসীনতা ও অবহেলা আমার সমস্ত অমূলক স্বপ্নকে নিমিষে ভেঙে ছারখার করে দিল।
৫২. ফির উসি জাঁ-গুদাজ পে আ পঁহুচা হ্যায় দিল / জো মুঝসে ছুটা থা বহু দোস্ত কা সঙ্গ।
অর্থ: সেই হৃদয়বিদারক যন্ত্রণাতেই আবার মন এসে ঠেকেছে, যেখানে বহু বছর আগে স্নেহের সঙ্গ হারিয়েছিল।
৫৩. বোঝ ওহ তুলে যা উঠা সাকूँ / ইশক মে হর এক বাত সানাদ নেহি হোতি।
অর্থ: বেদনার সেই বোঝাই আমাকে দাও যা আমি সইতে পারি; অবহেলার সব ভার সহ্য করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।
৫৪. যাব কি তুম বিন কোনো নেহি হ্যায় / ফির ইয়ে হংগামা অ্যায় খোদা ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: যখন ভেতরে তুমি ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবে চারপাশের এই বিভ্রান্তিকর শোরগোল আর বিভ্রান্তি কিসের?
৫৫. ম্যাহরম নেহি হ্যায় তু ভি তো আলম মে রাজ কা / জো কুছ কি রাজ-ই-গাইব হ্যায় পরদে মে সাজ কা।
অর্থ: মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার নীরব খবর বোঝার ক্ষমতা আসলে কারও নেই।
৫৬. পিনা বাদা-ও-মস্ত রহনা হামারা তরিকা হ্যায় / তরক-ই-রসুমাত মে হ্যাঁয় ঈমান কা কামিল হোনা।
অর্থ: কষ্টের সাগরে ডুবে নিজেকে মাতাল করে রাখাই আমার পথ; লোকদেখানো জীবনের নিয়ম ত্যাগ করাই তো নিষ্কৃতি।
৫৭. মেহেরবাঁ হো কে বুলা লো মুঝে চ্যাহে জিস ওয়াকত / ম্যায় গয়া ওয়াকত নেহি হুঁ কি ফির আ না সাকूँ।
অর্থ: আমাকে একটু সহানুভূতির সাথে ডেকে নাও; আমি তো হারিয়ে যাওয়া সময় নই যে আর কখনো ফিরে আসতে পারব না।
৫৮. গালিব ছুটি শরাব, পর অব ভি কভি কভি / পিতা হুঁ রোজ-ই-আবর ও শব-ই-মাহতাব মে।
অর্থ: কষ্ট ভোলার অভ্যাস হয়তো ছেড়েছি, তবুও বিরহের মেঘলা দিনে আর জোছনা রাতে হৃদয় আবার মাতাল হয়ে ওঠে।
৫৯. ক্যায়া ফরজ হ্যায় কি সব কো মিলে এক সা জবাব / আও না হাম ভি সায়র করেঁ তূর-ই-সীন কি।
অর্থ: ব্যাকুল হৃদয়ের আহ্বানে সবাই কি একই প্রতিদান পাবে? নাকি সবাইকে শূন্য হাতেই ফিরতে হবে?
৬০. বন্দেগী মে ভি ওহ আজাদ ও খুদবীন হ্যাঁয় কি হাম / উলটে ফির আয়ে দর-ই-কা’বা যদি ওয়া না হুয়া।
অর্থ: আমার কষ্ট চরম হলেও আত্মমর্যাদা বিসর্জন দেব না; প্রিয়জনের দুয়ার বন্ধ পেলে সসম্মানে ফিরে আসাই শ্রেয়।
৬১. আয়না ক্যু না দুঁ কি নজর না লাগে / উনসে ক্যায়া চ্ছুپے জো মুঝসে ভি নেহি চ্ছুপা।
অর্থ: রূপের আহংকার ও নির্দয়তা ঢাকতে আয়না কেন লুকিয়ে রাখব না? তাঁর নিষ্ঠুরতা তো আমার চোখে স্পষ্ট!
৬২. হর এক বাত পে কেহতে হো তুম কি তু ক্যায়া হ্যায় / তুমহি কহো কি ইয়ে আন্দাজ-ই-গুফতুগু ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: আমার কাতর আকুতির জবাবে অবহেলায় বলো “তুই কে?” তুমিই বলো, মানুষের সাথে এমন আচরণ শোভা পায় কি?
৬৩. খুশি কি তামান্না মে গাম মিল গ্যায়া / জো মাঙ্গা খোদা সে ওহ কাম মিল গ্যায়া।
অর্থ: একটুখানি সুখ চেয়েছিলাম, বিনিময়ে পেলাম আজীবনের বিরহবেদনা; যা চেয়েছি তা কষ্টের রূপ নিয়ে ফিরে এলো।
৬৪. শমা পরওয়ানে কো জলাতি হ্যায় / পরওয়ানা শমা পে ফিদা হোতা হ্যায়।
অর্থ: আঘাতকারী আঘাত দিয়েই যায়, আর ভুক্তভোগী নিঃশব্দে সেই কষ্টের আগুনে নিজেকে সঁপে দেয়।
৬৫. ইশক কা রাজ রাজ হি রহতা / জব তক উসে রসুয়া না কিয়া জায়।
অর্থ: মনের কষ্ট আর গোপনই থেকে যায়, যতক্ষণ না লোকচক্ষে এসে নিজের মর্যাদা নষ্ট হয়।
৬৬. তেরে খোত মে ইশক কা পয়গাম থা / পর ম্যায় উসে পঢ় না সাকা।
অর্থ: চিঠিতে ভালোবাসার আশ্বাস ছিল সত্য, কিন্তু যন্ত্রণার অতল সাগরে ডুবে তা পুরো পড়ার শক্তি হলো না।
৬৭. হাজারোঁ কাফিল্যাঁ সে গুজরে হ্যাঁয় / পর তেরি গলিয়োঁ মে জো মাজা থা ওহ কহিঁ নেহি।
অর্থ: জীবনের বহু কঠিন পথ হেঁটে পার হয়েছি, কিন্তু তোমার অচেনা ব্যবহারের আঘাতের সাথে কিছুর তুলনা হয় না।
৬৮. জেন্দেগী এক সফর হ্যায়, ইসমে হাজারোঁ মোড় হ্যাঁয় / পর তুম সে মিলনা এক হাসীন ইতিফাক থা।
অর্থ: জীবনে কত মানুষ এলো-গেল, কিন্তু তোমার সাথে পরিচয়ের পর পাওয়া কষ্টের অভিজ্ঞতা পরম শিক্ষা দিল।
৬৯. খুশি মে তো সব সাথ দেতে হ্যাঁয় / পর গাম মে জো সাথ দে ওহি সচ্ছা দোস্ত হ্যায়।
অর্থ: আনন্দের দিনে সবাই পাশে ভিড়ে, কিন্তু জীবনের কঠিন ও কষ্টের দিনে কেবল খাঁটি মানুষটাই পাশে থাকে।
৭০. জেন্দেগী মে পিয়ার কা হোনা জশুরী হ্যায় / পিয়ার কে বিন জিন্দেগী আধুরী হ্যায়।
অর্থ: অনুভূতির শূন্যতা আর একাকীত্বের জীবন এক অসহনীয় কষ্টের বোঝা।
৭১. হাম তো তেরে পিয়ার মে দিওয়ানে হো গয়ে থে / পর তুমনে হামে সমঝা হি নেহি।
অর্থ: কষ্টের সাগরে ডুব দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম, অথচ কেউ আমার গভীরতা বা গুরুত্ব বুঝতেই পারল না।
৭২. তেরি ইয়াদ মে হাম রাত ভর জাগতে হ্যাঁয় / পর তুম হো কি সোয়ে রহতে হো।
অর্থ: অতীতের যন্ত্রণাদায়ক স্মৃতিতে আমি সারারাত জেগে কাটাই, আর আঘাতকারী নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে।
৭৩. পিয়ার মে তো কুর্বানী देनी পডতী হ্যায় / হামনে তো আপনি জیندেগী হি কুর্বান কর দি।
অর্থ: নিভৃতে নিঃশব্দ ত্যাগ করে গেলাম, কষ্টের বিনিময়ে নিজের পুরো জীবনটাই বিসর্জন দিয়ে দিলাম।
৭৪. তেরে বিন জেন্দেগী কুছ ভি নেহি / তুম হি তো মেরি জেন্দেগী হো।
অর্থ: প্রিয় মানুষ ছাড়া জীবন বিষাদময় এক মরীচিকা, যার ভেতরে কোনো প্রাণ নেই।
৭৫. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে ধোকা দিয়া।
অর্থ: আমি তো সরল মনে বিশ্বাস আর ভালোবাসা সঁপেছিলাম, বিনিময়ে মিলল কেবলই নিষ্ঠুর প্রবঞ্চনা।
৭৬. পিয়ার কা মেহসাস হি কুছ অউর হোতা হ্যায় / জব তুম পাশ হোتے হো তো সব কুছ হাসীন لگتا হ্যায়।
অর্থ: সঙ্গ পেলে জীবনের কঠিন কষ্টও হালকা মনে হয়, কিন্তু বিচ্ছেদে তা পাহাড়সমান ভারী হয়ে ওঠে।
৭৭. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা ইমান খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি পিয়ার নেহি কিয়া।
অর্থ: অন্যের মোহে নিজের সমস্ত নীতি হারিয়ে ফেললাম, অথচ সে কোনোদিন আমায় আপনই ভাবল না।
৭৮. জেন্দেগী মে এক বার পিয়ার তো হোতা হি হ্যায় / পর ওহ পিয়ার সচ্ছা হোনা চাহিয়ে।
অর্থ: মানুষ জীবনে একবারই মন উজাড় করে ভালোবাসে, আর সেখানেই আঘাত পেলে সারা জীবন কষ্টের ভার বইতে হয়।
৭৯. পিয়ার মে দরদ তো হোতা হি হ্যায় / পর ওহ দরদ ভি হাসীন لگتا হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসায় আঘাত ও বিরহের যন্ত্রণা থাকবেই, তবে সেই কষ্টের মাঝেও এক ধরনের বিষাদময় রূপ থাকে।
৮০. তেরি সোরত মে হামনে খোদা কো দেখা হ্যায় / তুম হি তো মেরি ইবাদত হো।
অর্থ: যাকে উপাসনার মতো ভালোবেসেছিলাম, তার কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
৮১. পিয়ার কা কোনো রঙ নেহি হোতা / পর ওহ হর রঙ মে ঢল জাতী হ্যায়।
অর্থ: অনুভূতির নির্দিষ্ট কোনো রূপ নেই, তা কখনো পরম আনন্দের আবার কখনো তীব্র বিষাদের রঙ ধারণ করে।
৮২. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা আপ খো দিয়া / পর তুমনে হামে কভি আপনা না সমঝা।
অর্থ: নিজের অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা হারিয়ে ফেললাম, অথচ কাঙ্ক্ষিত মানুষটি কখনো আমাকে আপন ভাবল না।
৮৩. পিয়ার মে কোনো শর্ত নেহি হোতি / পিয়ার তো বাস হো জাতী হ্যায়।
অর্থ: হিসাব-নিকাশ ছাড়া ভালোবেসে ফেলার পর যখন শর্তের বেড়াজালে পড়তে হয়, তখনই আসল কষ্টের শুরু হয়।
৮৪. তেরি হাসী মে হামনে আপনি খুশি দেখি হ্যায় / তুম হাসতে হো তো সব কুছ আচ্ছা لگتا হ্যায়।
অর্থ: যার হাসিতে নিজের সুখ খুঁজতাম, তার দূরত্বের কারণেই আজ জীবনটা বিষাদে ভরে গেছে।
৮৫. জিন্দেগী মে পিয়ার কা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / হর কিসি কো সচ্ছা পিয়ার নেহি মিলতা।
অর্থ: জীবনে কাঙ্ক্ষিত মানুষের প্রাপ্তি ভাগ্যের বিষয়; অবহেলা আর বিরহ সবার কপালেই কম-বেশি জোটে।
৮৬. পিয়ার কা এহসাস সবসে আলাদা হোতা হ্যায় / ইয়ে দিল কো ছুঁ জাতা হ্যায়।
অর্থ: বিচ্ছেদের অনুভূতি পৃথিবীর সব কষ্টের চেয়ে আলাদা; তা সরাসরি হৃদয়ের গহীনে ক্ষত তৈরি করে।
৮৭. তেরি আঁখো মে হামনে আপনা ভবিশ্য দেখা হ্যায় / তুম হি তো মেরি মঞ্জিল হো।
অর্থ: যার চোখে নিজের গন্তব্য দেখেছিলাম, সে পথ ভুলিয়ে হারিয়ে গেলে জীবনের মতো কষ্ট আর কিছুতে নেই।
৮৮. পিয়ার মে ধোকা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / পর পিয়ার করনা নেহি চ্ছোড়না চাহিয়ে।
অর্থ: প্রেমে প্রতারিত হওয়া নিয়তির খেলা, কিন্তু আঘাতের ভয়ে অনুভূতিকে মেরে ফেলাও সম্ভব নয়।
৮৯. জিন্দেগী মে গাম কা হোনা জশুরী হ্যায় / তব হি তো খুশি কা এহসাস হোতা হ্যায়।
অর্থ: জীবনে বিষাদ আর কষ্টের উপস্থিতি আছে বলেই মানুষ সামান্যতম আনন্দের প্রকৃত মূল্য অনুধাবন করতে পারে।
৯০. পিয়ার মে তো বন্দেগী হোতী হ্যায় / ইয়ে দিল সে দিল কা রিশতা হোতা হ্যায়।
অর্থ: যখন আত্মিক বা মানসিক সম্পর্কের জায়গায় অবহেলা আসে, তখন সেই ভাঙনের কষ্ট সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৯১. তেরি সোহবত মে হামনে জিন্দেগী কা আসল মাজা লিয়া / তুম হি তো মেরি জিন্দেগী হো।
অর্থ: সুন্দর অতীত স্মৃতির কথা মনে পড়া আর বর্তমানের একা হয়ে যাওয়ার দৃশ্যই মানুষের সবচেয়ে বড় কষ্ট।
৯২. পিয়ার কা কোনো সীমা নেহি হোতী / ইয়ে তো অসীম হোতা হ্যায়।
অর্থ: বেদনারও কোনো নির্দিষ্ট সীমা থাকে না, একাকীত্বের সাগরে তা সীমানাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
৯৩. জিন্দেগী মে সব কুছ মিল জাতা হ্যায় / পর সচ্ছা পিয়ার নেহি মিলতা।
অর্থ: দুনিয়ায় ধন-দৌলত অনেক কিছুই অর্জন করা যায়, কিন্তু খাঁটি স্বস্তি ও ভালোবাসার অভাব চিরকাল রয়ে যায়।
৯৪. পিয়ার মে তো বিশ্বাস হোনা চাহিয়ে / বিশ্বাস কে বিন পিয়ার আধুরা হ্যায়।
অর্থ: বিশ্বাস ভেঙে গেলে যে নীরব কষ্ট সৃষ্টি হয়, তা ধীরে ধীরে মানুষের অন্তরাত্মাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়।
৯৫. ইশক নে ‘গালিব’ নিকম্মা কর দিয়া / ওয়ার্না হাম ভি আদমি থে কাম কে।
অর্থ: বিরহ আর মনোকষ্ট গালিবকে একদম অকর্মণ্য বানিয়ে দিল, নইলে আমিও সমাজের দরকারী ও কাজের লোক ছিলাম।
৯৬. দিল-ই-নাদাঁ তুঝে হুয়া ক্যায়া হ্যায় / আখির ইস দরদ কি দওয়া ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: ওরে আমার অবুঝ মন, তোর কী হয়েছে? বিরহজনিত এই ক্রমাগত যন্ত্রণার শেষ ওষুধই বা কী?
৯৭. হ্যায় অওর ভি দুনিয়া মে সুখন-ওর বহুত অচ্ছে / kehতে হ্যাঁয় কি ‘গালিব’ কা হ্যায় আন্দাজ-ই-বয়াঁ কুছ অওর।
অর্থ: দুনিয়ায় বহু কবি ও জ্ঞানী আছেন, কিন্তু বিরহের কষ্টকে ‘গালিব’-এর মতো ফুটিয়ে তোলার শৈলী আর কারও নেই।
৯৮. ইশক পার জোর নেহি, হ্যায় ইয়ে ওহ আতশ ‘গালিব’ / জো লাগায়ে না লাগে অওর বুঝায়ে না বনে।
অর্থ: বিরহের যন্ত্রণার ওপর কারো জোর চলে না গালিব, এ এমন এক আগুন যা চাইলেই জ্বালানো যায় না, আবার নিভানোও যায় না।
৯৯. হাম কো মালুম হ্যায় জান্নাত কি হাকীকত লেকিন / দিল কে খুশ রাখা নে কো ‘গালিব’ ইয়ে খয়াল অচ্ছা হ্যায়।
অর্থ: বাস্তবের নিষ্ঠুরতা তো আমার জানা গালিব; কিন্তু কষ্ট ভুলে মিথ্যা কল্পনায় মনকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করাটাও মন্দ নয়!
১০০. ম্যায় নে মাজনূঁ পে কোঈ রিফায়াত না কি / ইয়ে ওহ রাজ হ্যায় জো মুঝ পে আফশা না হুয়া।
অর্থ: কষ্টের শেষ সীমানায় পৌঁছে মানুষ যখন স্তব্ধ হয়ে যায়, তখন নিজের ভেতরের ক্ষত গোপন রাখা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
মির্জা গালিব এর উক্তি মৃত্যু নিয়ে
১. মৌত কা এক দিন মুআইয়্যন হ্যায় / নীন্দ রাত ভর ক্যুঁ নেহি আতি।
অর্থ: মৃত্যুর দিন তো নির্দিষ্ট করাই আছে, তবুও মনোকষ্টে সারারাত চোখে ঘুম আসে না কেন?
২. গাম-ই-জিন্দেগী সে না ডর ‘গালিব’ / ইয়ে তো এক দিন খতম হো হি জায়েগা।
অর্থ: জীবনের কষ্টকে ভয় পেয়ো না গালিব, মৃত্যুর সাথে সাথে এই যন্ত্রণাও একদিন শেষ হয়ে যাবে।
৩. চিরাগ-ই-আখির-ই-শব হুঁ, বুঝা চালতা হুঁ / ম্যায় ওহ শমা হুঁ জো আপনে হি ধুঁয়ে মে ঘুটতি হ্যায়।
অর্থ: আমি রাতের শেষ প্রদীপ, নিভে যাওয়ার মুখে; মৃত্যুর মুহূর্তে নিজের ধোঁয়াতেই যেন প্রাণবায়ু বের হয়ে যাচ্ছে।
৪. মৌত সে ডর নেহি لگتا / ডর لگتا হ্যায় তেরে জুদা হোনে সে।
অর্থ: মৃত্যুকে আমি ভয় পাই না, আমার সব ভয় তো জীবিত অবস্থায় প্রিয়জনের বিচ্ছেদের কষ্ট নিয়ে।
৫. দরদ মিন্নত কশ-ই-দওয়া না হুয়া / ম্যায় না আচ্ছা হুয়া, বুরা না হুয়া।
অর্থ: জীবনের ব্যাধি কোনো ওষুধের ধার ধারেনি; মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমি ভালোও হইনি, আবার খারাপও হইনি।
৬. চিরাঘ-ই-খানাহ-ই-দিল তো বুঝ গ্যায়া কাব কা / অব ইস মে জো ধুঁয়া হ্যায় ওহ হ্যায় দাঘ-ই-হসরত।
অর্থ: হৃদয়ের জীবন্ত প্রদীপ তো অনেক আগেই নিভে গেছে, এখন মৃত্যুর আগে যা দেখছ তা কেবল অপূর্ণতার ধোঁয়া।
৭. ইশরত-ই-কত্রা হ্যায় দরিয়া মে ফনা হো জানা / দরদ কা হদ সে গুজরনা হ্যায় দওয়া হো জানা।
অর্থ: বিন্দু হয়ে মহাসাগরে বিলীন হওয়াতেই বিন্দুর সার্থকতা; জীবনের ইতি টেনে মৃত্যুর মাঝে বিলীন হওয়াতেই সকল কষ্টের উপশম।
৮. ঘাম-ই-হস্তী কা ‘গালিব’ ক্যায়া দওয়া হ্যায় / শমা হর রঙ মে জলতি হ্যায় সহর হোনে তক।
অর্থ: অস্তিত্বের যন্ত্রণার আর কী ওষুধ থাকতে পারে গালিব? মৃত্যুর ভোর না আসা পর্যন্ত জীবনের প্রদীপকে জ্বলতেই হবে।
৯. রগোঁ মে দোড়তে ফিরনে কে হাম নেহি কায়েল / জো আঁখ সে হি না টপকা তো ফির লহু ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: যা ধমনীতে বয়ে বেড়ায় তা কেবল রক্ত নয়; জীবনের শেষ রক্তবিন্দু যদি বেদনায় ঝরে না পড়ে তবে সে জীবনের দাম কী!
১০. কোঈ উম্মীদ বর নেহি আতি / কোঈ সুরত নজর নেহি আতি।
অর্থ: জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আশার কোনো আলো দেখা যায় না, মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধারের কোনো পথও মেলে না।
১১. হাজারোঁ খাঁওয়া হিশেঁ অ্যায়সি কি হর খাঁওয়া হিশ পে দম নিকলে / বহুত নিখলে মেরে আরমান, লেকিন ফির ভি কম নিকলে।
অর্থ: হাজারো ইচ্ছা যে প্রতিটার অপূর্ণতায় প্রাণ যায়; মৃত্যু পর্যন্ত কত ইচ্ছা বিসর্জন দিলাম, তবু আকুলতা কমলো না।
১২. বাস কি দুশওয়ার হ্যায় হর কাম কা আসাঁ হোনা / আদমি কো ভি মায়াস্সর নেই জাঁসাঁ হোনা।
অর্থ: মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা কঠিন; মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ মানুষ হয়ে ওঠা সহজ নয়।
১৩. মুঝকো পুরসিশ-ই-অন্যায় পে না ইতনা শুত্র কা / কাট গ্যায়া শহর তো ফির হাল-ই-মেহেরাং ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: জীবন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে কী লাভ? মৃত্যুর পর মাটির কুঁড়েঘরের হাল জেনে আর কী হবে!
১৪. ঘর জব বনা লিয়া তেরে দর পর কহে বিগ্যার / সায়ে কা তেরা ফরেব থা, মেহেরবাঁ নেহি।
অর্থ: মৃত্যুর ছায়া যখন দুয়ারে এসে দাঁড়ায়, তখন বোঝা যায় পার্থিব মায়া সবই ছলনা।
১৫. ইশরত-ই-কত্রা হ্যায় দরিয়া মে ফনা হো জানা / ফনা মে হি জিন্দেগী কা আসল রাজ ছুপা হ্যায়।
অর্থ: বিলীন হয়ে যাওয়াতেই সৃষ্টির পরম সার্থকতা; মহাকালের মাঝে মৃত্যুর মাধ্যমেই জীবনের আসল রহস্য উন্মোচিত হয়।
১৬. জিন্দেগী মে গাম তো বহুত হ্যাঁয় / পর মৌত কা গাম সবসে আলাদা হ্যায়।
অর্থ: জীবনে দুঃখ-কষ্টের অভাব নেই, কিন্তু জীবনের ইতি টানার ক্ষণটি সবকিছুর চেয়ে আলাদা ও অমোঘ।
১৭. মৌত এক অ্যায়সী হাকীকত হ্যায় জিসসে কোনো ভাগ নেহি সাকতা / ইয়ে তো হর কিসি কো এক দিন আনি হি হ্যায়।
অর্থ: মৃত্যু এমন এক শাশ্বত সত্য যা থেকে কেউ পালাতে পারে না; একদিন না একদিন তা সবার জীবনে আসবেই।
১৮. হামনে তো জিন্দেগী সে পিয়ার কিয়া থা / পর জিন্দেগী নে হামে মৌত কে হাওয়ালে কর দিয়া।
অর্থ: আমি তো জীবনকে ভালোবেসে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জীবন দিনশেষে আমাকে মৃত্যুর মুখে সঁপে দিল।
১৯. তেরে বিন জিন্দেগী এক সাজা বান গয়ী হ্যায় / অব তো মৌত হি ইস সাজা সে নিজাত দে সাকতী হ্যায়।
অর্থ: প্রিয়জনকে ছাড়া জীবন এখন কঠিন সাজা; একমাত্র মৃত্যুই পারে এই শাস্তির ইতি টানতে।
২০. জিন্দেগী মে সব কুছ ফানি হ্যায় / সির্ফ মৌত হি এক সচ্চি হাকীকত হ্যায়।
অর্থ: জীবনের সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী ও নশ্বর; কেবল মৃত্যুই একমাত্র চিরন্তন সত্য।
২১. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে আশ্ক বহায়ে হ্যাঁয় / অব তো মৌত হি ইন আঁসুؤں কো পোঁছ সাকতী হ্যায়।
অর্থ: জীবনের বিরহে কত চোখের জল ফেললাম; এখন কেবল মৃত্যুই পারে এই অশ্রুধারা থামাতে।
২২. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি জিন্দেগী দাও পর লাগা দি / পর মৌত নে এসে জিত লিয়া।
অর্থ: ভালোবাসায় জীবন বাজি রেখেছিলাম, কিন্তু শেষমেশ মৃত্যু এসে সব কিছু ছিনিয়ে নিল।
২৩. তেরি গলিয়োঁ মে হামনে বহু ত স্যাল গুজারে হ্যাঁয় / অব তো মৌত কি গলিয়োঁ মে জানা হ্যায়।
অর্থ: পৃথিবীর প্রিয় পথে বহু সময় কাটিয়েছি; এখন গন্তব্য কেবলই মৃত্যুর অজানার পথে।
২৪. পিয়ার মে দরদ কা সিসিলা কভি খতম নেহি হোতা / ইয়ে তো সির্ফ মৌত কে সাথ হি খতম হোতা হ্যায়।
অর্থ: জীবনের যন্ত্রণাকাব্য কখনো থামে না; তা কেবল মৃত্যুর ঠান্ডা ছোঁয়াতেই চিরতরে শান্ত হয়।
২৫. তেরে বিন জিন্দেগী এক অন্ধেরা হ্যায় / মৌত হি অব ইস অন্ধেরে কো দূর কর সাকতী হ্যায়।
অর্থ: প্রিয়তাহীন জীবন এক গহীন অমাবস্যা; মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো আলো এই বিষাদ মোছাতে পারে না।
২৬. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর তুমনে হামে মৌত কে দরওয়াজে পে ছোঁড় দিয়া।
অর্থ: খাঁটি অন্তরে বেসেছিলাম ভালো, অথচ প্রতিদানে মৃত্যুর দুয়ারে নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে থাকতে হলো।
২৭. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা হাশর ক্যায়া কর লিয়া / অব তো মৌত ভি হামে দেখকর রোতি হ্যায়।
অর্থ: জীবিত অবস্থায় নিজেকে এমন বিধ্বস্ত বানিয়েছি যে, স্বয়ং মৃত্যুও আমার করুণ অবস্থা দেখে কাঁদে!
২৮. জিন্দেগী মে গাম কা হোনা জশুরী হ্যায় / তব হি তো মৌত কি কিমাত কা এহসাস হোতা হ্যায়।
অর্থ: জীবনে কষ্টের তীব্রতা থাকা প্রয়োজন, তবেই তো মৃত্যুর শান্তিময় মুক্তির মূল্য বোঝা যায়।
২৯. পিয়ার মে তো বন্দেগী হোতী হ্যায় / আর ইবাদত কা অন্ত সির্ফ মৌত মে হোতা হ্যায়।
অর্থ: সত্য অনুরাগে যে আত্মনিবেদন থাকে, সেই সাধনার চরম পরিণতি ঘটে মৃত্যুর কোলে।
৩০. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা নাম খো দিয়া / অব তো সির্ফ মৌত হি হামারি পহচান হ্যায়।
অর্থ: পার্থিব জীবনে নিজের পরিচিতি মুছে ফেলেছি; এখন মৃত্যুই আমার একমাত্র পরিচয়।
৩১. জিন্দেগী মে পিয়ার কা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / পর মৌত কা মিলনা তো হর কিসি কা কিসমত হ্যায়।
অর্থ: জীবনে ভালোবাসা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু মৃত্যুর মেলবন্ধন সবার নিয়তি।
৩২. হামনে তো তেরে লিয়ে আপনি খুশিয়াঁ চ্ছাড় দিই / অব তো মৌত হি মেরি আখেরী খুশি হ্যায়।
অর্থ: অন্যের প্রফুল্লতার জন্য সমস্ত সুখ ত্যাগ করেছি; এখন মৃত্যুই আমার শেষ প্রশান্তি।
৩৩. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে লফজ জাযে হ্যাঁয় / অব তো মৌত হি ইন লফজোঁ কা জবাব হ্যায়।
অর্থ: বেদনায় কত কথা সাজালাম; আজ মৃত্যু এসে যেন সব প্রশ্নের নিরবধি উত্তর হয়ে দাঁড়াল।
৩৪. পিয়ার মে তো বিশ্বাস হোনা চাহিয়ে / আর মৌত পে তো পুরা ইয়াকীন হোনা চাহিয়ে।
অর্থ: সম্পর্কে বিশ্বাস থাকা চাই, আর মৃত্যুর আগমনী বার্তা নিয়ে মনে শতভাগ নিশ্চিত থাকা চাই।
৩৫. তেরে বিন জিন্দেগী এক সুনি কখানি হ্যায় / মৌত হি অব ইস কখানি কা অন্ত করেগী।
অর্থ: প্রিয়হীন জীবন এক নিস্তব্ধ গল্প; মৃত্যুই এসে এই বিষাদময় গল্পের শেষ টানবে।
৩৬. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা, কোনো গুনাহ নেহি কিয়া থা / পর মৌত নে হামে সজা দি।
অর্থ: অনুরাগের অপরাধে জীবন সঁপেছিলাম, অথচ মৃত্যু এসে সেই ভুলের খেসারত আদায় করল।
৩৭. তেরি আঁখো মে হামনে আপনা ভবিশ্য দেখা থা / পর মৌত নে এসে অন্ধেরা কর দিয়া।
অর্থ: যার চোখে ভবিষ্যত এঁকেছিলাম, মৃত্যুর হিমেল ছোঁয়ায় তা আঁধারে বিলীন হয়ে গেল।
৩৮. পিয়ার মে ধোকা মিলনা কিসমত কি বাত হ্যায় / পর মৌত কা মিলনা তো অটল হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসায় প্রতারিত হওয়া কিসমত, কিন্তু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়া এক অমোঘ বিধান।
৩৯. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা সব কুছ লুটা দিয়া / অব তো সির্ফ মৌত হি বাকি হ্যায়।
অর্থ: প্রিয়ার টানে নিঃস্ব হয়ে গেছি, এখন বিসর্জন দেওয়ার মতো কেবল মৃত্যুটুকুই বাকি।
৪০. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ বুরবাদ কর দিয়া / অব তো মৌত হি হামে সাম্ভাল সাকতী হ্যায়।
অর্থ: যার জন্য জীবন ছারখার করলাম, সে চলে গেছে; এখন কেবল মৃত্যুই পারে এই ভাঙা জীবনকে সামলাতে।
৪১. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে গীত লিখে হ্যাঁয় / অব তো মৌত হি ইন গীতোঁ কো সুনেগী।
অর্থ: বেদনার কত গান রচলাম; এখন শেষ নিঃশ্বাসের পর মৃত্যুই হবে সেই গানের একাকী শ্রোতা।
৪২. তেরে বিন জিন্দেগী এক সাজা বান গয়ী হ্যায় / মৌত হি অব ইস সাজা সে মুক্তি দে সাকতী হ্যায়।
অর্থ: প্রতিটি দিন কাটা যেন কঠিন সাজা; একমাত্র মৃত্যুই পারে এই অবরুদ্ধ অস্তিত্বকে মুক্তি দিতে।
৪৩. বে-খুদি বে-সবব নেহি ‘গালিব’ / মৌত কা তো এক বাহানা চাহিয়ে।
অর্থ: এই ঝিমিয়ে পড়া অবস্থা অহেতুক নয় গালিব; মৃত্যুর জন্য তো নিছক একটা বাহানার প্রয়োজন।
৪৪. উন কে দেখে সে জো আ জাতি হ্যায় মুঁহ পে রোনাক / ওহ সমঝতে হ্যাঁয় কি বিমার কা হাল অচ্ছা হ্যায়।
অর্থ: মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও প্রিয়তমাকে দেখলে মুখে আলো ফোটে, আর সে ভাবে লোকটা বোধহয় বেঁচে গেল!
৪৫. আহ কো চাহিয়ে এক উমর আসর হোনে তক / কৌন জিতা হ্যায় তেরি জুুলফ কে সর হোনে তক।
অর্থ: আকুতির ফল মিলতে এক জীবন পার হয়; ততদিন কে বেঁচে থাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়ে?
৪৬. তেরে ওয়াদে পর জিয়ে হাম, তো ইয়ে জান ঝুট জানা / কি খুশি সে মর না জاتے জো এতবার হোতা।
অর্থ: তোর আশায় বেঁচে থাকা মিথ্যা; সত্যি বিশ্বাস করলে তো মৃত্যুর আনন্দেই আগেই প্রাণ যেত!
৪৭. হামকো উনসে ওফা কি হ্যায় উম্মীদ / জো নেহি জানতে মৌত ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: আমি তার কাছে বিশ্বস্ততা চাই, যে মৃত্যুর মতো গম্ভীর বাস্তবতার খবরই রাখে না!
৪৮. ইমান মুঝে রোকে হ্যায় তো খাঁচে মুঝে ঈমাঁ / মৌত মেরে পিছে হ্যায় তো জিন্দেগী মেরে আগে।
অর্থ: একদিকে জীবন আমায় টানে, অন্যদিকে পিছু পিছু ধেয়ে আসে নিশ্চিত মৃত্যু।
৪৯. জিক্র উস পরী-ওয়াশ কা, অওর ফির বয়াঁ আপনা / মৌত আ গয়ী আখের, জো থা রাজদাঁ আপনা।
অর্থ: নিজের বেদনার কথা বলতে বলতে সময় শেষ হলো; অবশেষে চিরসঙ্গী মৃত্যু এসে হাজির হলো।
৫০. হাত সিদদে মে হ্যায়, সুরাহী সিদদে মে হ্যায় / মৌত কে সামনে হর এক শে সিদদা-গাহ বান জাতি হ্যায়।
অর্থ: শেষ মুহূর্তে সমর্পণের সেজদায় লুটিয়ে পড়া; মৃত্যুর সামনে প্রতিটি বস্তু নতজানু হতে বাধ্য।
৫১. হুসন-ই-বে-পরওয়া খেয়াল-ই-খাম কো আফা কর দিয়া / মৌত নে হামারি খুশফ্যাহমি কা অন্ত কর দিয়া।
অর্থ: মিছে স্বপ্নের আবেশে ভেসেছিলাম, শেষমেশ অমোঘ মৃত্যু এসে সমস্ত ভুল ধারণার অন্ত ঘটাল।
৫২. ফির উসি জাঁ-গুদাজ পে আ পঁহুচা হ্যায় দিল / জো মুঝসে ছুটা থা মৌত কে সঙ্গ।
অর্থ: সেই হৃদয়বিদারক যন্ত্রণাতেই মন থমকে গেছে, যেখান থেকে মৃত্যুর পথ শুরু হয়।
৫৩. বোঝ ওহ তুলে যা উঠা সাকूँ / মৌত কে আগে হর এক বাত সানাদ নেহি হোতি।
অর্থ: জীবনের শেষ বোঝা আমাকে দাও যা সইতে পারি; মৃত্যুর কাছে কোনো যুক্তি বা বাহানা টিকে না।
৫৪. যাব কি তুম বিন কোনো নেহি হ্যায় / ফির মৌত কা ইয়ে হংগামা অ্যায় খোদা ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: হৃদয়ে যখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই, তবে মৃত্যুর এই বিদায়বেলার হাহাকার কিসের?
৫৫. ম্যাহরম নেহি হ্যায় তু ভি তো আলম মে রাজ কা / মৌত কা রাজ তো সির্ফ খোদা হি জানে।
অর্থ: জীবনের গহীন রহস্য কেউ জানে না; আর মৃত্যুর আসল রহস্য কেবল স্রষ্টার কাছেই সুরক্ষিত।
৫৬. পিনা বাদা-ও-মস্ত রহনা হামারা তরিকা হ্যায় / মৌত কে দর সে ডরনা হামারা কাম নেহি।
অর্থ: জীবনের পিয়ালা পান করে মগ্ন থাকাই আমার পথ; মৃত্যুকে ভয় পেয়ে বেঁচে থাকা আমার স্বভাব নয়।
৫৭. মেহেরবাঁ হো কে বুলা লো মুঝে চ্যাহে জিস ওয়াকত / ম্যায় গয়া ওয়াকত নেহি হুঁ, সির্ফ মৌত কা বুলাওয়া হুঁ।
অর্থ: আমাকে ডেকে নাও; আমি কোনো হারিয়ে যাওয়া সময় নই, তবে মৃত্যুর আমন্ত্রণের মতো সুনির্দিষ্ট।
৫৮. গালিব ছুটি শরাব, পর অব ভি কভি কভি / মৌত কা খেয়াল আতা হ্যায় শব-ই-মাহতাব মে।
অর্থ: জীবনের মায়া কেটে গেছে, তবুও জোছনা রাতে হঠাৎ মৃত্যুর নীরব ডাক কানে ভেসে আসে।
৫৯. ক্যায়া ফরজ হ্যায় কি সব কো মিলে এক সা জবাব / মৌত তো সব কো এক সা হি জবাব দেতি হ্যায়।
অর্থ: জীবনে সবাই এক প্রতিদান পায় না, কিন্তু মৃত্যু ধনী-দরিদ্র সবাইকে একই সমতায় আনে।
৬০. বন্দেগী মে ভি ওহ আজাদ ও খুদবীন হ্যাঁয় কি হাম / মৌত কে দর পর ভি সসম্মানে পঁহুচ যেয়েঙ্গে।
অর্থ: জীবনজুড়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলেছি; মৃত্যুর দুয়ারেও মাথা উঁচু করেই উপস্থিত হব।
৬১. আয়না ক্যু না দুঁ কি নজর না লাগে / মৌত সে ক্যায়া চ্ছুপে জো মুঝসে ভি নেহি চ্ছুপা।
অর্থ: মৃত্যুর চোখ থেকে কী গোপন থাকবে? জীবদ্দশার সমস্ত সত্য তার কাছে স্পষ্ট।
৬২. হর এক বাত পে কেহতে হো তুম কি তু ক্যায়া হ্যায় / মৌত সে পুছো কি মেরি আসলিয়াত ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: অবহেলায় জিজ্ঞেস করো “তুই কে?” মৃত্যুর দিনে মাটির শরীরই বলে দেবে আমার আসল পরিচয়।
৬৩. খুশি কি তামান্না মে গাম মিল গ্যায়া / মৌত মাঙ্গি থি, জিন্দেগী মিল গয়ী।
অর্থ: সুখের খোঁজে পেয়েছি কষ্ট; আর শান্তিময় মৃত্যু চেয়েছিলাম, বিনিময়ে পেলাম দীর্ঘ বিরহী জীবন।
৬৪. শমা পরওয়ানে কো জলাতি হ্যায় / আর মৌত তো দোনো কো হি ফনা কর দেতি হ্যায়।
অর্থ: জীবনের আগুনে পতঙ্গ পুড়ে ছাই হয়, আর মৃত্যু এসে প্রদীপ ও পতঙ্গ উভয়কেই বিলীন করে দেয়।
৬৫. ইশক কা রাজ রাজ হি রহতা / জব তক মৌত উসে আফশা না করে।
অর্থ: গোপন কষ্ট পরম গোপনই থেকে যায়, যতক্ষণ না নিথর দেহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
৬৬. তেরে খোত মে ইশক কা পয়গাম থা / পর মৌত নে উসে পঢ়নে কা ওয়াকত নেহি দিয়া।
অর্থ: প্রিয়ার চিঠি হাতে এলো সত্য, কিন্তু নির্দয় মৃত্যু তা পড়ার সুযোগ দিল না।
৬৭. হাজারোঁ কাফিল্যাঁ সে গুজরে হ্যাঁয় / পর মৌত কা জো সফর হ্যায় ওহ কহিঁ নেহি।
অর্থ: জীবনের শত কাফেলা পার করেছি, কিন্তু মৃত্যুর একক সফরের মতো পরম সফর আর হয় না।
৬৮. জিন্দেগী এক সফর হ্যায়, ইসমে হাজারোঁ মোড় হ্যাঁয় / পর মৌত হি ইস সফর কা আখেরী মোড়।
অর্থ: জীবন অসংখ্য বাঁকের এক পথ, আর মৃত্যুই সেই দীর্ঘ পথের শেষ ও চূড়ান্ত মোড়।
৬৯. খুশি মে তো সব সাথ দেতে হ্যাঁয় / পর মৌত মে তো সির্ফ চার কাঁধে হি সাথ দেতে হ্যাঁয়।
অর্থ: আনন্দের দিনে মানুষের অভাব হয় না; কিন্তু শেষযাত্রায় কেবল চারটি কাঁধই সঙ্গী হয়।
৭০. তেরি চ্যাহাত মে হামনে আপনা সব কুছ খো দিয়া / অব তো মৌত হি হামারা আখিরী ঠিকানা হ্যায়।
অর্থ: জীবনজুড়ে সব হারালাম; এখন পরম গন্তব্য হিসেবে মৃত্যুর কোলেই ঠাঁই নিতে হবে।
৭১. জিন্দেগী মে পিয়ার কা হোনা জশুরী হ্যায় / পর মৌত কে সামনে ইয়ে সব আধুরা হ্যায়।
অর্থ: জীবনকে অনুরাগে ভরানো জরুরি, কিন্তু অমোঘ মৃত্যুর সামনে জীবনের সব অর্জনই অসম্পূর্ণ।
৭২. হাম তো তেরে পিয়ার মে দিওয়ানে হো গয়ে থে / পর মৌত নে হামে হোশ মে লা দিয়া।
অর্থ: মোহের ঘোরে মগ্ন ছিলাম, অবশেষে মৃত্যুর বার বার্তা এসে সমস্ত ঘোর ভাঙিয়ে দিল।
৭৩. তেরি ইয়াদ মে হাম রাত ভর জাগতে হ্যাঁয় / অব তো মৌত হি হামে চির-নিদ্রায় সোয়া সাকতী হ্যায়।
অর্থ: স্মৃতির আঘাতে নির্ঘুম রাত কাটাই; একমাত্র মৃত্যুই পারে পরম শান্তিতে চিরঘুমে ঘুম পাড়াতে।
৭৪. পিয়ার মে তো কুর্বানী देनी পডতী হ্যায় / আর জিন্দেগী কা আখেরী কুর্বানী তো মৌত হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসায় অনেক বিসর্জন লাগে, আর জীবনের সবচেয়ে বড় ও শেষ বিসর্জন হলো মৃত্যু।
৭৫. তেরে বিন জিন্দেগী কুছ ভি নেহি / মৌত হি অব মেরি আসল জিন্দেগী হ্যায়।
অর্থ: অর্থহীন অস্তিত্বে বেঁচে থাকা মিথ্যা; মৃত্যুই এখন আমার আসল জীবনের সূচনা।
৭৬. হামনে তো তুমসে পিয়ার কিয়া থা / পর মৌত নে হামে তুমসে জুদা কর দিয়া।
অর্থ: অন্তরের গভীর থেকে বেসেছিলাম ভালো, অথচ নির্মম মৃত্যু এসে আমাদের আলাদা করে দিল।
৭৭. তেরি গলিয়োঁ মে হামনে বহু ত স্যাল গুজারে হ্যাঁয় / অব তো কৌরস্তান কি গলি মেরি আপনী হ্যায়।
অর্থ: স্মৃতিবিজড়িত গলিতে কত বছর কাটালাম! আজ গোরস্থানের নিস্তব্ধ গলিই আমার আসল ঠিকানা।
৭৮. পিয়ার কা মেহসাস হি কুছ অউর হোতা হ্যায় / পর মৌত কা এহসাস তো সবসে আলাদা হোতা হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসার স্পন্দন অনন্য, কিন্তু পার্থিব অস্তিত্ব বিলোপের অনুভূতি সবচেয়ে আলাদা ও রহস্যময়।
৭৯. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা ইমান খো দিয়া / অব তো মৌত কে সামনে মুখ দিখানে কে লায়েক নেহি।
অর্থ: মোহে পড়ে বিবেক হারিয়েছি; আজ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্রষ্টাকে মুখ দেখানোর পথ নেই।
৮০. জিন্দেগী মে এক বার পিয়ার তো হোতা হি হ্যায় / পর মৌত ভি তো এক বার হি আতি হ্যায়।
অর্থ: মানুষ জীবনে একবারই সত্য প্রেমে পড়ে, ঠিক তেমনি পরম মৃত্যুও জীবনে কেবল একবারই আসে।
৮১. হামনে তো তেরে লিয়ে সব কুছ চ্ছাড় দিয়া / অব তো মৌত কে লিয়ে ভি তৈরি হুঁ।
অর্থ: প্রিয়ার জন্য পার্থিব সব ছাড়লাম, এখন শান্ত মনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতেও প্রস্তুত।
৮২. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনে আশ্ক বহায়ে হ্যাঁয় / মৌত এসে নদী বনা দেগী।
অর্থ: বিচ্ছেদে কত অশ্রু ফেললাম, মৃত্যু এসে সেই যন্ত্রণার নদীর জলকে শান্ত করে দেবে।
৮৩. পিয়ার মে দরদ তো হোতা হি হ্যায় / পর মৌত মে তো সির্ফ সুকুন হোতা হ্যায়।
অর্থ: ভালোবাসায় যন্ত্রণার উপস্থিতি অটুট, অন্যদিকে মৃত্যুর মাঝে শুধুই নীরব প্রশান্তি।
৮৪. তেরে বিন জিন্দেগী এক সাজা বান গয়ী হ্যায় / মৌত হি অব ইস সাজা কা আখেরী খাতমা।
অর্থ: প্রিয়হীন জীবন এক দীর্ঘ শাস্তি, আর মৃত্যুই সেই শাস্তির চিরন্তন অবসান।
৮৫. হামনে তো তুমসে সচ্ছা পিয়ার কিয়া থা / পর মৌত নে এসে অসম্পূর্ণ রাখ দিয়া।
অর্থ: ভালো তো বেসেছিলাম সততার সাথে, কিন্তু অকাল মৃত্যু এসে গল্পটা অসম্পূর্ণ রেখে গেল।
৮৬. তেরি সোরত মে হামনে খোদা কো দেখা হ্যায় / অব তো মৌত কে বাদ হি খোদা সে দিদার হোগা।
অর্থ: প্রিয়জনের রূপেই স্রষ্টাকে খুঁজেছি; এখন মৃত্যুর পরেই কেবল সেই পরম সত্তার দেখা মিলবে।
৮৭. পিয়ার কা কোনো রঙ নেহি হোতা / পর মৌত কা রঙ তো সাদা হোতা হ্যায়।
অর্থ: আবেগের নির্দিষ্ট রূপ নেই, কিন্তু মৃত্যুর রঙ কাফনের মতো চির-শুভ্র ও নিষ্কলঙ্ক।
৮৮. তেরে পিয়ার মে হামনে আপনা আপ খো দিয়া / অব তো মৌত হি হামে খুদ সে মিলায়েগী।
অর্থ: বেঁচে থাকতে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি; আজ মৃত্যু এসে যেন নিজের আসল সত্তার সাথে পরিচয় করাচ্ছে।
৮৯. জিন্দেগী মে গাম তো বহুত হ্যাঁয় / পর মৌত কা গাম সবসে আখিরী হ্যায়।
অর্থ: জীবনে কষ্টের কমতি নেই, তবে মৃত্যুর বিচ্ছেদই জীবনের শেষ ও চূড়ান্ত দুঃখ।
৯০. হামনে তো তেরে লিয়ে দুনিয়া সে লড়াই কি / পর মৌত সে লড় না সাকা।
অর্থ: প্রিয়তমার জন্য দুনিয়ার বিরুদ্ধে লড়েছি, কিন্তু অমোঘ মৃত্যুর বিরুদ্ধে তো লড়াই করা যায় না।
৯১. তেরি ইয়াদ মে হামনে কতনি রাতেঁ গুজারী হ্যাঁয় / অব তো মৌত কি গোদ মে সোনা হ্যায়।
অর্থ: নিদ্রাহীন কত রাত কাটালাম; এখন মৃত্যুর শীতল কোলে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে পড়ার পালা।
৯২. পিয়ার মে কোনো শর্ত নেহি হোতি / আর মৌত তো কোনো ওয়াকত নেহি দেখতি।
অর্থ: ভালোবাসায় যেমন কোনো শর্ত চলে না, তেমনি মৃত্যুও কোনো বয়স বা সময় হিসাব করে আসে না।
৯৩. তেরে বিন জিন্দেগী সুনি সুনি লাগে / মৌত আ জায়ে তো ইয়ে সুনাপান দূর হো জায়ে।
অর্থ: সঙ্গহীন জীবন বিষাদময় ও ফাঁকা; মৃত্যু এলে তবেই জীবনের সব শূন্যতা ঘুচে যাবে।
৯৪. হামনে তো তুমসে ওফা কি থি / পর মৌত নে হামারে সাথ জফা কি।
অর্থ: সঁপেছিলাম বিশ্বাসের নিষ্ঠা, আর মৃত্যু এসে মাঝপথে সেই বন্ধন ছিন্ন করে দিল।
৯৫. ইশক নে ‘গালিব’ নিকম্মা কর দিয়া / মৌত নে এসে কাম কা বনা দিয়া।
অর্থ: বিরহ গালিবকে অকর্মণ্য বানিয়েছিল; আর মৃত্যু এসে সেই নামকে চিরস্মরণীয় ও অর্থবহ করে দিল।
৯৬. দিল-ই-নাদাঁ তুঝে হুয়া ক্যায়া হ্যায় / আখির ইস মৌত কি দওয়া ক্যায়া হ্যায়।
অর্থ: ওরে অবুঝ মন, তোর কী হয়েছে? জীবনের এই দীর্ঘ যন্ত্রণার শেষ ওষুধ তো একমাত্র মৃত্যুই!
৯৭. হ্যায় অওর ভি দুনিয়া মে সুখন-ওর বহুত অচ্ছে / পর ‘গালিব’ কা মৌত পে আন্দাজ-ই-বয়াঁ কুছ অওর।
অর্থ: দুনিয়ায় বহু মহান কবি আছেন, কিন্তু মৃত্যুর অমোঘ সত্যকে প্রকাশের গালিবের স্টাইলটাই অনন্য।
৯৮. ইশক পার জোর নেহি, হ্যায় ইয়ে ওহ আতশ ‘গালিব’ / জো মৌত কে সিবায় বুঝায়ে না বনে।
অর্থ: বিরহের আগুনের ওপর কারো জোর চলে না গালিব, এ এমন এক আগুন যা মৃত্যুর জল ছাড়া নেভানো যায় না।
৯৯. হাম কো মালুম হ্যায় জান্নাত কি হাকীকত লেকিন / মৌত কে বাদ কে খয়াল ‘গালিব’ ইয়ে অচ্ছা হ্যায়।
অর্থ: পরকালের বাস্তবতা তো জানা গালিব; তবুও মৃত্যুর ওপারের শান্তিময় কল্পনায় মনকে ভুলিয়ে রাখা মন্দ নয়!
১০০. ম্যায় নে মাজনূঁ পে কোঈ রিফায়াত না কি / মৌত সে পহলে ইয়ে রাজ আফশা না হুয়া।
অর্থ: কষ্টের চরম সীমানায় পৌঁছে নিভে গেলাম; মৃত্যুর আগে অন্তরের এই গহীন রহস্য আর কারও কাছে প্রকাশ হলো না।
পরিশেষে বলা যায়, মির্জা গালিবের উক্তিগুলো কেবল কিছু কালজয়ী পঙ্ক্তি নয়; তা মানবহৃদয়ের গভীরতম অনুভূতি, জটিল জীবনদর্শন ও আবেগের এক শাশ্বত ক্যানভাস । শতবর্ষ পেরিয়ে আজও তাঁর কাব্যের দ্যোতনা ও জীবনবোধ এতটুকু ম্লান হয়নি, বরং নতুন প্রজন্মের কাব্যপ্রেমীদের কাছে তা হয়ে উঠেছে আত্মিক প্রশান্তি ও অনুভূতির নিখুঁত প্রতিচ্ছবি । বিরহের বেদনা থেকে শুরু করে বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতা—সবকিছুকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও গভীর মনস্তাত্ত্বিক রূপ দেওয়াতেই গালিব চিরভাস্বর । মহাকবি গালিবের এসব অমর উক্তি যুগে যুগে মানুষকে ভালোবাসতে, অনুভূতির গভীরতা উপলব্ধি করতে এবং জীবনের রূঢ় সত্যকে সহজভাবে গ্রহণ করার প্রেরণা জুগিয়ে যাবে ।
Views: 0




