• অপরিচিতা গল্প
  • অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

    একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্রের সিলেবাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ কেবল একটি গল্প নয়, বরং এটি সমাজিক প্রথা ভাঙার এবং আত্মমর্যাদাবোধে জাগ্রত হওয়ার এক অনন্য দলিল । এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষাবিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভালো নম্বর পেতে এই গল্পের প্রতিটি চরিত্র, সূক্ষ্ম অনুভূতি এবং প্রেক্ষাপটের ওপর সৃজনশীল দক্ষতার বিকল্প নেই । পরীক্ষার্থীদের অনুধাবন ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নের উত্তর দিতে সুবিধার্থে এবং গল্পের মূল ভাবসত্যকে সহজভাবে অনুধাবনের উদ্দেশ্যে এই সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে । যা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার নিখুঁত প্রস্তুতির পাশাপাশি সৃজনশীল প্রশ্নের মানসম্মত উত্তর লেখার কৌশল গঠনে এক বিশ্বস্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করবে ।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০১

    উদ্দীপক:

    কলেজশিক্ষক আরমান সাহেব তাঁর একমাত্র মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেন। বরপক্ষের প্রধান দাবি ছিল ৫০ ভরি সোনার গহনা ও নগদ ৫ লাখ টাকা। বিয়ের আসরে বরপক্ষ গহনাগুলো মেপে দেখতে চাইলে এবং টাকার খাম খুলে দেখতে শুরু করলে আরমান সাহেব অপমানিত বোধ করেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বিয়ে বন্ধ করে বরযাত্রীদের খাইয়ে বিদায় জানিয়ে দেন। পরবর্তীতে তাঁর মেয়ে ফারহানা কোনো সামাজিক কটূক্তিতে কান না দিয়ে নিজের চেষ্টায় বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করে।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?

    খ. “আমার বয়সটা বাড়ানো হয়নি, কমানোও হয়নি”— উক্তিটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।

    গ. উদ্দীপকের ফারহানার মধ্যে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী চরিত্রের যে প্রতিফলন দেখা যায়, তা ব্যাখ্যা করো।

    ঘ. “আরমান সাহেবের সিদ্ধান্ত যেন ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনেরই প্রতিচ্ছবি”— মন্তব্যটির সত্যতা যাচাই করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০১

    ক.অপরিচিতা’ গল্পটি প্রথম ‘সবুজপত্র’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।

    খ. অনুপমের প্রকৃত বয়সের সঙ্গে তার ব্যক্তিত্ব ও অভিজ্ঞতার যে কোনো সামঞ্জস্য নেই— উক্তিটি দিয়ে তা বোঝানো হয়েছে ।

    অনুপমের বয়স গল্প শুরু করার সময়ে ২৭ বছর। এটি কোনো হিসাবের খাতায় যেমন ছোট নয়, তেমনি খুব বড়ও নয়। কিন্তু অনুপমের জীবনে এখন পর্যন্ত নিজের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার বা স্বাধীন ব্যক্তিত্ব প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়নি। তার জীবনের সব বড় সিদ্ধান্ত মামা ও মা নিয়েছেন। ফলে বয়স পঁচিশ-সাতাশ হলেও মানসিক পরিপক্কতার দিক থেকে সে ছিল অনভিজ্ঞ ও নাবালক। তাই অনুপম নিজের এই ব্যক্তিত্বহীনতাকে বোঝাতেই উক্তিটি করেছে।

    গ. উদ্দীপকের ফারহানা চরিত্রটির মধ্যে ‘অপরিচিতা’ গল্পের নায়িকা কল্যাণীর আত্মসম্মানবোধ, অটল মনোভাব ও দেশসেবার ব্রতের প্রতিচ্ছবি লক্ষ্য করা যায়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী যৌতুকলোভী বরপক্ষের দ্বারা অপমানিত হওয়ার পর লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার ভয়ে ভেঙে পড়েনি। সে বিয়ের মতো সামাজিক বন্ধনের চেয়ে আত্মসম্মান রক্ষা ও নারীশিক্ষাকে বড় মনে করেছে। বিয়ের প্রস্তাব ভেঙে যাওয়ার পর সে নিজের জীবনকে স্থবির হতে দেয়নি, বরং কানপুরে বালিকাবিদ্যালয়ে শিক্ষায় ও দেশসেবার কাজে নিজেকে ব্রতী করেছে।

    উদ্দীপকেও দেখা যায়, ফারহানা বরপক্ষের অমানবিক আচরণে বিয়ে ভাঙার পর সামাজিক কোনো অপবাদে কান দেয়নি। সে নিজের যোগ্যতায় বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করেছে। কল্যাণীর মতো ফারহানাও যৌতুকপ্রথার কাছে নতি স্বীকার না করে আত্মনির্ভরশীলতার পথ বেছে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ফারহানা চরিত্রটি কল্যাণীরই আধুনিক ও প্রগতিশীল রূপ।

    ঘ. যৌতুকলোভী বরপক্ষের বিরুদ্ধে আত্মসম্মান বজায় রেখে রুখে দাঁড়ানোর দিক থেকে উদ্দীপকের আরমান সাহেবের সিদ্ধান্ত ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের সিদ্ধান্তের সাথে সম্পূর্ণ সদৃশ।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীর পিতা শম্ভুনাথ সেন ছিলেন অত্যন্ত শান্ত কিন্তু দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী একজন মানুষ। অনুপমের মামা ও বরপক্ষ বিয়ের আসরে কনেপক্ষের গহনার খাঁটিত্ব পরীক্ষা করতে স্বর্ণকার নিয়ে এলে শম্ভুনাথ সেন অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন। তিনি চুপচাপ অলংকার পরীক্ষা করতে দেন, কিন্তু বরপক্ষকে বুঝিয়ে দেন যে তিনি কন্যার সম্মান বিকিয়ে দিয়ে বিয়ে দেবেন না। তিনি বরযাত্রীদের আপ্যায়ন করে খাইয়ে অত্যন্ত মার্জিতভাবে তাদের বিদায় করে দেন এবং বিয়ে ভেঙে দেন।

    উদ্দীপকের আরমান সাহেবও ঠিক একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। বরপক্ষ কনের গহনা মেপে দেখতে চাইলে এবং নগদ টাকা গুণে দেখতে শুরু করলে তিনি চরম অপমানিত বোধ করেন। শম্ভুনাথ সেনের মতোই তিনিও বরপক্ষকে খাইয়ে বিদায় করে দেন এবং বিয়ে বন্ধ করেন। উভয় অভিভাবকই সামাজিক কুপ্রথার কাছে আত্মসমর্পণ না করে কন্যার আত্মমর্যাদাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছেন।

    সুতরাং, শম্ভুনাথ সেন ও আরমান সাহেব উভয়েই যৌতুকলোভী পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কন্যাদের মর্যাদা রক্ষা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আরমান সাহেবের সিদ্ধান্তটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের কাজেরই প্রতিচ্ছবি।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০২

    উদ্দীপক:

    সাব্বির উচ্চশিক্ষিত ও ভালো বেতনের চাকরিজীবী। কিন্তু পরিবারের কোনো সিদ্ধান্তেই তার নিজস্ব মতামত থাকে না। বিয়ের বিষয়ে তার মা ও মামা যেভাবে নির্দেশ দেন, সে সেভাবেই পরিচালিত হয়। পাত্রীপক্ষের বাড়িতে গিয়ে মামা যখন যৌতুকের শর্ত চাপিয়ে দেন, তখন সাব্বির সত্য জেনেও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। বিয়ের পর স্ত্রী যখন তাকে এই ব্যক্তিত্বহীনতার কথা মনে করিয়ে দেয়, তখন সাব্বির কেবল অনুশোচনাতেই দগ্ধ হয়।

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমের বন্ধুর নাম কী?

    খ. অনুপমকে ‘মাকাল ফল’ ও ‘শিমুল ফুল’-এর সাথে তুলনা করা হয়েছিল কেন?

    গ. উদ্দীপকের সাব্বিরের সঙ্গে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের বৈসাদৃশ্য ও সাদৃশ্য আলোচনা করো।

    ঘ. “অনুপমের নীরবতাই তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ট্র্যাজেডি”— উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০২

    ক. অনুপমের বন্ধুর নাম বিনু ।

    খ. অনুপমের বাহ্যিক চেহারা অত্যন্ত সুন্দর হলেও তার মধ্যে কোনো নিজস্ব ব্যক্তিত্ব বা গুণ ছিল না বলে তাকে ‘মাকাল ফল’ ও ‘শিমুল ফুল’-এর সাথে তুলনা করা হয়েছিল ।

    পণ্ডিত মশাই অনুপমের সুসংগঠিত চেহারা দেখে রূপক অর্থে এই তুলনা করতেন। শিমুল ফুল দেখতে লাল ও সুন্দর হলেও তাতে গন্ধ নেই এবং মাকাল ফল বাইরে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও ভেতরে অসার ও দুর্গন্ধযুক্ত। অনুপম দেখতে অত্যন্ত সুপুরুষ হলেও তার ভেতরের আত্মচেতনা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও ব্যক্তিত্ব ছিল শূন্য। তাই কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য থাকা সত্ত্বেও গুণে শূন্য হওয়ায় তাকে এ তুলনা দেওয়া হয়।

    গ. উদ্দীপকের সাব্বিরের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা ও পরিবারতন্ত্রের কাছে পুতুল হয়ে থাকার ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম এমএ পাস করা উচ্চশিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও পরিবারের সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে মামার অন্ধ অনুশাসনের বাইরে গিয়ে একটি কথাও বলতে পারত না। বিয়ের আসরে মামা যখন যৌতুকের গহনা পরীক্ষা করে কনেপক্ষকে অপমান করেন, তখনো অনুপম কোনো প্রতিবাদ না করে চুপচাপ বসে ছিল।

    উদ্দীপকের সাব্বিরও উচ্চশিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হলেও নিজের বিয়ের ক্ষেত্রে মা ও মামার হাতের পুতুল মাত্র। মামা যখন কনেপক্ষের ওপর যৌতুকের অন্যায় শর্ত চাপিয়ে দেন, সে অনুপমের মতোই নীরব ভূমিকা পালন করে। নিজের মতামত প্রকাশে অপারগতা এবং পরিবারের অন্যায়ের সামনে অনুগত থাকার দিক থেকে সাব্বির ও অনুপম চরিত্র দুটি একই সূত্রে গাঁথা।

    ঘ. অন্যায় দেখেও প্রতিবাদ না করার অক্ষমতা ও নীরবতাই অনুপমের জীবনকে আজীবন অনুশোচনার ট্র্যাজেডিতে পরিণত করেছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম তার মামার ইচ্ছাকেই নিজের জীবনের শেষ কথা বলে মেনে নিত। বিয়ের আসরে কনেপক্ষের দেওয়া গহনা পরীক্ষা করে যখন তার মামা হীন মানসিকতা প্রকাশ করেন এবং শম্ভুনাথ সেনকে অপমান করেন, তখন অনুপমের উচিত ছিল মামাকে থামানো। কিন্তু সে কোনো প্রতিবাদ করেনি। ফলে শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেন। অনুপমের এই নিষ্ক্রিয়তা ও ভীরুতার কারণে সে কল্যাণীর মতো এক অনন্য নারীকে লাভ করার সুযোগ হারায়।

    উদ্দীপকের সাব্বিরও বিয়েতে মামার যৌতুক দাবির প্রতিবাদ না করায় পরবর্তীতে স্ত্রীর কাছে ছোট হয় এবং অনুশোচনায় ভোগে। অনুপমের জীবনের ট্র্যাজেডি হলো, সে ভালোবাসার মানুষকে কাছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাখলেও তার জন্য সাহসিকতার পরিচয় দিতে পারেনি। পরবর্তীতে রেলে কল্যাণীর দেখা পেয়ে এবং কানপুরে তার সান্নিধ্যে এসে অনুপম নিজের ভুল বুঝতে পারে, কিন্তু ততক্ষণে কল্যাণী নিজেকে দেশসেবায় সঁপে দিয়েছে। অনুপম চিরকালের জন্য এক দূরবর্তী অনুরাগী হয়ে রয়ে যায়।

    তাই বলা যায়, বিয়ের আসরে মামার অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে অনুপমের যে নীরবতা ছিল, তা-ই তার জীবনে কল্যাণীকে চিরতরে হারানোর ট্র্যাজেডি ডেকে এনেছে।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৩

    উদ্দীপক:

    এক রেলে ভ্রমণের সময় ট্রেনের নারী কামড়ায় কিছু বখাটে যুবক উঠে এক বৃদ্ধাকে নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। ট্রেন ভর্তি পুরুষ যাত্রী থাকলেও কেউ তাদের বাধা দেয়নি। ঠিক তখনই ইন্টার ক্লাসের কামড়া থেকে এক তরুণী এসে রুখে দাঁড়ায়। সে স্পষ্ট ভাষায় ইংরেজি ও বাংলায় বখাটেদের আইনের ভয় দেখায় এবং স্টেশন মাস্টার ডেকে তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দিতে বাধ্য করে। তরুণীটির এই সাহস দেখে ট্রেনের সবাই অবাক হয়ে যায়।

    প্রশ্ন:

    ক. “গাডি মে জাইগা হ্যায়”— উক্তিটি কার?

    খ. শম্ভুনাথ সেন বরযাত্রীদের আগে খাইয়ে দিলেন কেন?

    গ. উদ্দীপকের তরুণীর মাঝে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?

    ঘ. “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তবো ঘৃণা তারে যেন তৃণ সম দহে”— উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে এই উক্তির সার্থকতা মূল্যায়ন করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৩

    ক. “গাডি মে জাইগা হ্যায়”— উক্তিটি কল্যাণীর ।

    খ. শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষের হীন মানসিকতা প্রত্যক্ষ করার পর তাদের চরম শিক্ষা দিতে ও অপমান করে বিদায় করার উদ্দেশ্যে আগে খাইয়ে দিয়েছিলেন।

    বিয়ের আসরে বরপক্ষ স্বর্ণকার দিয়ে অলংকার মেপে কনেপক্ষকে অসম্মান করে। শম্ভুনাথ সেন এতে ভীষণ মর্মাহত হন। তিনি বুঝতে পারেন যে এই যৌতুকলোভী ও ছোটমনস্ক পরিবারে মেয়ে দেওয়া যায় না। তাই তিনি অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় প্রথমে বরযাত্রীদের পেট পুরে আপ্যায়ন করেন, যেন বরপক্ষ কোনো খাদ্যের ঘাটতির অজুহাত তুলতে না পারে। আপ্যায়ন শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এ বাড়িতে আর মেয়ে সম্প্রদান করবেন না।

    গ. উদ্দীপকের তরুণীটির সাহসী প্রতিবাদ ও নিজের অধিকার রক্ষায় অটল থাকার দিকটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী চরিত্রের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পের দ্বিতীয় অংশে আমরা দেখতে পাই ট্রেনের কামড়ায় এক ইংরেজ স্টেশন মাস্টার এসে যখন কল্যাণী ও ছোট ছোট শিশুদের অন্য কামড়ায় সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন কল্যাণী বিন্দুমাত্র ভয় পায়নি। সে স্পষ্ট ও দৃপ্ত কণ্ঠে ইংরেজিতে স্টেশন মাস্টারের কাছে তার অধিকারের কথা তুলে ধরে এবং কামড়া ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। তার এই দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস দেখে স্টেশন মাস্টার পিছু হটতে বাধ্য হয়।

    উদ্দীপকের তরুণীটিও রেলে বখাটে যুবকদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়ায়। স্টেশন মাস্টার ডেকে অন্যায়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে সে তার সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। কল্যাণীর মতোই উদ্দীপকের তরুণী অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়ায়নি। তাই উদ্দীপকের তরুণীর মাঝে কল্যাণীর নির্ভীকতা ও আত্মমর্যাদাবোধের রূপটি ফুটে উঠেছে।

    ঘ. অন্যায় সহ্য করাও যে অন্যায়ের শামিল এবং প্রতিবাদ করাই যে প্রকৃত ব্যক্তিত্বের প্রকাশ— উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্প উভয় স্থানেই এই সত্যটি প্রতিফলিত হয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা যৌতুকের লোভ ও কনেপক্ষকে ঠকানোর ভয়ে অলংকার মেপে দেখেন, যা এক চরম মানসিক অত্যাচার। অনুপম এই অন্যায়ের কথা জেনেও কোনো প্রতিবাদ করেনি; বরঞ্চ নীরব থেকে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছে। ফলে শম্ভুনাথ সেন তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে ট্রেনে অনুপমের উপস্থিতিতে ইংরেজ কর্মচারী যখন অন্যায় আচরণ করার চেষ্টা করছিল, তখন অনুপম চুপ ছিল, কিন্তু কল্যাণী একাই লড়াই করে নিজের অধিকার রক্ষা করে।

    উদ্দীপকেও ট্রেনের পুরুষ যাত্রীরা বখাটেদের অন্যায় দেখেও নীরব থেকে অপরাধ সহ্যের সামিল হয়েছিল, কিন্তু তরুণীটি তা সহ্য করেনি। সে প্রতিবাদ করে অন্যায়কারীদের শাস্তি দিয়েছে। অনুপমের মতো নীরব ভূমিকা পালনকারীরা জীবনে শ্রদ্ধা পায় না, বরং আত্মগ্লানিতে ভোগে। অন্যদিকে কল্যাণী ও উদ্দীপকের তরুণীর মতো প্রতিবাদীরাই সমাজে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়।

    সুতরাং, অন্যায় সহ্য করে অনুপম যেমন চিরকালের জন্য কল্যাণীকে হারিয়ে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়েছে, তেমনি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে কল্যাণী জয়ী হয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি গল্পের মূল ভাববস্তুর সাথে সম্পূর্ণ সার্থক।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৪

    উদ্দীপক:

    সুমন একজন স্বাধীনচেতা মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল এক ধনাঢ্য পরিবারের ছেলের সাথে। কিন্তু বিয়ের রাতে বরপক্ষ যখন তার বাবার কাছে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট লিখে দেওয়ার শর্ত দেয়, তখন সুমনের বাবা না বললেও সুমন নিজেই বিয়ের আসরে এসে বিয়ে ভেঙে দেয়। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যে পরিবার মানুষকে টাকার মাপে মাপে বিচার করে, সেখানে সে কোনোদিন সংসার করবে না। পরে সে একটি সামাজিক সংগঠন গড়ে তুলে এতিম বাচ্চাদের লেখাপড়া ও নারীদের স্বাবলম্বী করার কাজ শুরু করে।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের আসল অভিভাবক কে?

    খ. “মেয়ে লগ্নভ্রষ্ট হইল”— কথাটির মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের কোন রূপটি প্রকাশ পেয়েছে?

    গ. উদ্দীপকের সুমনের পদক্ষেপটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর ভাবনার সাথে কীভাবে সঙ্গতিপূর্ণ?

    ঘ. “সুমন ও কল্যাণী কেবল নিজেদের রক্ষা করেনি, বরং নারীসমাজের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে”— বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৪

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের আসল অভিভাবক তার মামা ।

    খ. “মেয়ে লগ্নভ্রষ্ট হইল”— কথাটির মাধ্যমে তৎকালীন কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অন্ধ ও পুরুষতান্ত্রিক সমাজের কুৎসিত রূপ প্রকাশ পেয়েছে ।

    তৎকালীন সমাজে হিন্দু ধর্মে নির্দিষ্ট শুভ লগ্নে বিয়ে না হলে কনেকে ‘লগ্নভ্রষ্ট’ বলা হতো এবং বিশ্বাস করা হতো যে তার আর কখনো বিয়ে হবে না বা তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কনেপক্ষের এই সামাজিক ভীতিকে পুঁজি করে বরপক্ষ যৌতুকের দাবি আদায় করত এবং অত্যাচার চালাত। শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দেওয়ার পর বরপক্ষ এই অশুভ বাণী শোনায়। এর মাধ্যমে কনেপক্ষের ওপর সামাজিক চাপ সৃষ্টির হীন মানসিকতাই ফুটে উঠেছে।

    গ. উদ্দীপকের সুমনের পদক্ষেপটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর আত্মসম্মানবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভাবনার সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী যৌতুকপ্রথার বলি হতে অস্বীকার করেছিল। বরপক্ষ অলংকার মেপে যখন তাদের পরিবারকে চরম অপমান করে, তখন শম্ভুনাথ সেনের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কল্যাণী সানন্দে গ্রহণ করে। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে নিজের জীবনকে অহেতুক বিয়োগান্তক রূপ দেয়নি। সে ‘মাতৃ-আজ্ঞা’ পালন করতে অর্থাৎ দেশসেবা ও নারীশিক্ষার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করে।

    উদ্দীপকের সুমনও বিয়ের রাতে বরপক্ষের অতিরিক্ত ফ্ল্যাট দাবির মুখে নিজে দাঁড়িয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়েছে। যৌতুকলোভী সমাজে নিজেকে সমর্পণ না করে সে পরবর্তীতে এতিম বাচ্চাদের শিক্ষা ও নারী স্বাবলম্বীকরণে নিজেকে যুক্ত করেছে। সুমনের এই প্রথা ভাঙার সাহস ও সামাজিক কাজে আত্মনিয়োগের মানসিকতা কল্যাণীর ভাবনার সাথেই পুরোপুরি মিলে যায়।

    ঘ. সমাজের কুপ্রথাকে ছুড়ে ফেলে নিজেদের ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে সুমন ও কল্যাণী উভয়ই নারীজাতির অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পের সময়ে সমাজে নারীদের কোনো স্বাধীন সত্তা ছিল না। যৌতুকের বলি হয়ে অনেক নারীকে জীবন সঁপে দিতে হতো। কিন্তু কল্যাণী সেই সামাজিক কুপ্রথার কাছে নতি স্বীকার করেনি। বরপক্ষের অপমানজনক আচরণের পর সে বিয়ে না করে আজীবন কুমারী থাকার এবং নারীশিক্ষার আলো ছড়ানোর কঠিন ব্রত নেয়। তার এই বলিষ্ঠ পদক্ষেপে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ভীরুতা ও যৌতুকলোভী মানসিকতা চূর্ণ হয়ে যায়।

    উদ্দীপকের সুমনও ঠিক একই কাজ করেছে। বরপক্ষের অসৎ ও লোভী মানসিকতা দেখে সে নিজেই বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছে এবং নিজের জীবনকে সমাজসেবায় উৎসর্গ করেছে। তারা দুজনেই প্রমাণ করেছে যে নারী কোনো ভোগ্যবস্তু বা পণ নয়, বরং আত্মমর্যাদাশীল স্বাধীন ব্যক্তিত্ব।

    সুতরাং, ঐতিহ্যবাহী অবলা নারীর রূপ ভেঙে নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষা করা এবং পরবর্তীতে সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করার মাধ্যমে কল্যাণী ও সুমন কেবল নিজেদের জীবন রক্ষা করেনি, বরং সমাজের অন্যান্য নারীদের অধিকার রক্ষায় এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৫

    উদ্দীপক:

    তানভীর সাহেবের একমাত্র ছেলে রায়হানের বিয়ের সময় তানভীরের ভাই বরযাত্রী নিয়ে পাত্রীর বাড়িতে গিয়ে নানা অভাব-অভিযোগ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি পাত্রীর বাবাকে বলেন, “উপহার সামগ্রী যা দেওয়া হয়েছে তা আমাদের বংশের মর্যাদার সাথে মেলে না।” রায়হান বিষয়টি টের পেয়ে তৎক্ষণাৎ তার চাচাকে থামিয়ে দিয়ে বলে, “বাবা-চাচা, আপনাদের যদি এই উপহারের দিকেই চোখ থাকে তবে আমার আর বিয়ে করার দরকার নেই। আমি কোনো উপহারের বিনিময়ে বউ ঘরে তুলব না।” রায়হানের এই ব্যবহারে পাত্রীর পরিবার অত্যন্ত স্বস্তি পায়।

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমের বাবার পেশা কী ছিল?

    খ. “আমাদের সংসার এখনো মধ্যাহ্নের সূর্যের মতো”- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

    গ. উদ্দীপকের রায়হানের কর্মকাণ্ড ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের কোন অভাবকে নির্দেশ করে?

    ঘ. “অনুপমের যদি রায়হানের মতো সামান্য সাহসিকতা থাকত, তবে ‘অপরিচিতা’ গল্পের পরিণতি ভিন্ন হতে পারত”— উক্তিটির যথার্থতা বিচার করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৫

    ক. অনুপমের বাবার পেশা ছিল ওকালতি।

    খ. অনুপমের পরিবারে তখন ধনের প্রাচুর্য ও সমৃদ্ধির কোনো অভাব ছিল না— কথাটি দিয়ে তা-ই বোঝানো হয়েছে।

    অনুপমের পিতা ওকালতি করে প্রচুর ধনসম্পদ উপার্জন করেছিলেন। তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাননি, কিন্তু মারা যাওয়ার পর বিপুল সম্পত্তি রেখে যান। বর্তমানে অনুপমদের সংসারে টাকা-পয়সার কোনো কমতি নেই, বরং প্রাচুর্যে ভরপুর। উদীয়মান বা অস্তগামী সূর্যের সাথে তুলনা না করে মধ্যাহ্নের প্রখর সূর্যের সাথে তুলনা করে বোঝানো হয়েছে যে তাদের আর্থিক অবস্থা এখন সাফল্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

    আরও পড়ুন:  অপরিচিতা গল্প (Oporichita) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    গ. উদ্দীপকের রায়হানের প্রতিবাদী কর্মকাণ্ড ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রধান চরিত্র অনুপমের স্বাধীন ব্যক্তিত্ব ও নৈতিক সাহসের চরম অভাবকে নির্দেশ করে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক হলেও সে ছিল চরম ব্যক্তিত্বহীন ও পরিবারের অনুগত এক পুতুল। তার মামা যখন কনেবাড়িতে গিয়ে যৌতুক ও গহনা পরীক্ষা করে পাত্রীর পরিবারকে অপমান করছিলেন, তখন অনুপম সব জেনেও চুপচাপ বসে ছিল। মামার অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে একটা কথাও বলার সাহস তার ছিল না।

    উদ্দীপকের রায়হান কিন্তু তা করেনি। তার চাচা যখন পাত্রীর পরিবারকে উপহারসামগ্রী নিয়ে খোটা দিচ্ছিলেন, তখন রায়হান সরাসরি দাঁড়িয়ে তার চাচার অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে এবং স্পষ্ট জানিয়েছে যে উপহারের লোভে সে বিয়ে করবে না। রায়হানের এই সাহসী সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে তার নিজস্ব ব্যক্তিত্ব রয়েছে, যা গল্পের অনুপমের মধ্যে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিল।

    ঘ. বিয়ের আসরে অনুপমের ভীরুতা ও নীরবতাই শম্ভুনাথ সেনকে বিয়ে ভাঙতে বাধ্য করেছিল; একটু প্রতিবাদী সাহস থাকলে গল্পের পরিণতি মিলনাত্মক হতে পারত।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষকে বিয়ে ভেঙে বিদায় দেওয়ার প্রধান কারণ ছিল অনুপমের মামার অমানবিক মানসিকতা এবং সেই অন্যায়ের সামনে অনুপমের মূর্তির মতো বসে থাকা। অনুপম যদি বিয়ের আসরে মামাকে থামিয়ে বলত যে সে অলংকার মেপে দেখা পছন্দ করছে না, তবে শম্ভুনাথ সেন হয়তো অনুপমের সততা ও ব্যক্তিত্ব দেখে তাকে ক্ষমা করতেন এবং কল্যাণীর সাথে অনুপমের বিয়ে সফল হতো।

    উদ্দীপকের রায়হান ঠিক সেই কাজটাই করেছে। সে তার পরিবারের অন্যায় দাবির বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে কনেপক্ষ স্বস্তি পেয়েছে এবং সম্পর্কটি বেঁচে গেছে। অনুপমের মধ্যে যদি রায়হানের মতো সেই সামান্য মানসিক জোর ও সত্য কথা বলার সাহস থাকত, তবে তাকে সারাজীবন কল্যাণীকে হারানোর বেদনায় জ্বলতে হতো না।

    অতএব, অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার কারণেই গল্পটি বিযোগান্তক অনুশোচনায় শেষ হয়েছে। রায়হানের মতো নৈতিক সাহস অনুপমের থাকলে ‘অপরিচিতা’ গল্পটির পরিণতি অবশ্যই একটি সুন্দর মিলনে শেষ হতে পারত।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৬

    উদ্দীপক:

    রফিকুল সাহেব এক সম্ভ্রান্ত ঘরের মেয়েকে নিজের ছেলের বউ করে আনতে চান। তবে তাঁর প্রধান নজর ছিল কনেপক্ষ কেমন যৌতুক দেবে তার ওপর। তিনি এমন এক পরিবার খুঁজছিলেন যাদের অনেক টাকা নেই, কিন্তু ছেলের আবদার মেটাতে গিয়ে তারা সর্বস্ব উজাড় করে দিতে দ্বিধা করবে না। কিন্তু বিয়ের আসরে গিয়ে তিনি যখন দেখলেন কনেপক্ষ কোনো বাড়তি আড়ম্বর না করে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে আপ্যায়ন করছে, তখন তিনি অসন্তুষ্ট হন।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বন্ধুর নাম কী?

    খ. “তিনি গঙ্গার ওপারে যাইতেও রাজি ছিলেন না”— কেন?

    গ. উদ্দীপকের রফিকুল সাহেবের মানসিকতায় ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়? ব্যাখ্যা করো।

    ঘ. “রফিকুল সাহেবদের মতো লোভী মানসিকতাই সমাজে যৌতুকপ্রথাকে টিকিয়ে রেখেছে”— গল্প ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৬

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বন্ধুর নাম বিনু ।

    খ. কোলকাতা ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়া পছন্দ ছিল না বলেই অনুপমের মামা গঙ্গার ওপারে যেতেও রাজি ছিলেন না ।

    অনুপমের মামা ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ মনোভাবের মানুষ। তিনি মনে করতেন কোলকাতার বাইরে পৃথিবীর বাকি অংশ নেহাতই অকেজো ও অনাবশ্যক। কোলকাতার গণ্ডির বাইরে গেলে তার অভ্যস্ত জীবনে ব্যাঘাত ঘটবে— এই আশঙ্কায় তিনি গঙ্গার অপর তীরে যেতেও চরম অনিচ্ছা প্রকাশ করতেন। এটি তার ভৌগোলিক ও মানসিক সংকীর্ণতার পরিচয় দেয়।

    গ. উদ্দীপকের রফিকুল সাহেবের মানসিকতায় ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার শোষক ও যৌতুকলোভী চরিত্রটির হুবহু প্রতিচ্ছবি দেখা যায়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা সংসারের আসল অভিভাবক ছিলেন। কনে সন্ধানের ক্ষেত্রে তার প্রধান শর্ত ছিল পাত্রীর পরিবার খুব ধনী হবে না, অথচ বরপক্ষের সব দাবি মেটাতে তারা কোনো কার্পণ্য করবে না। অর্থাৎ, তিনি এমন পরিবার চেয়েছিলেন যাদের শোষণ করা সহজ হবে। কনেবাড়িতে গিয়েও তিনি যৌতুকের সোনার অলংকার খাঁটি কি না তা পরীক্ষা করে নিজের হীন মানসিকতার পরিচয় দেন।

    উদ্দীপকের রফিকুল সাহেবও হুবহু একই চিন্তাধারার মানুষ। তিনিও এমন কনেপক্ষ খুঁজছিলেন যারা ধনী না হলেও ছেলের বাড়ির আবদার মেটাতে গিয়ে সর্বস্ব উজাড় করে দেবে। বিয়ের আসরে এসেও তিনি যৌতুক ও জাঁকজমক কম দেখে অসন্তুষ্ট হন। অতএব, কনেপক্ষকে শোষণ করার মনোভাব এবং যৌতুকলোভের দিক থেকে রফিকুল সাহেব যেন অনুপমের মামারই এক প্রতিরূপ।

    ঘ. কনেপক্ষকে শোষণের বস্তু মনে করা এবং উপহারের নামে যৌতুক দাবি করার মানসিকতাই সমাজে যৌতুকপ্রথার মতো ব্যাধিকে বাঁচিয়ে রেখেছে, যা গল্প ও উদ্দীপক উভয় স্থানে স্পষ্ট।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা যৌতুককে নিজের অধিকার মনে করতেন। তিনি মনে করতেন কনেপক্ষকে চেপে ধরে ধনসম্পদ আদায় করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই লোভের বশবর্তী হয়েই তিনি বিয়ের আসরে সরাফ এনে গহনা পরীক্ষা করানোর মতো অমানবিক কাজ করেছিলেন। তার এই হীন মানসিকতাই সুন্দর একটি সম্পর্ককে অঙ্কুরে বিনষ্ট করে দেয়।

    উদ্দীপকের রফিকুল সাহেবও যৌতুকের ওপর নজর রেখে ছেলের বিয়ে দিতে চান। কনেপক্ষের সামর্থ্যকে তোয়াক্কা না করে তাদের থেকে সর্বস্ব আদায়ের ফন্দি করাই তাঁর লক্ষ্য। সমাজ থেকে যৌতুকপ্রথা বিলুপ্ত না হওয়ার পেছনে অনুপমের মামা ও রফিকুল সাহেবদের মতো মানুষদের অর্থলোভ এবং কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে জিম্মি করার মানসিকতাই দায়ী।

    সুতরাং, এই শোষণমূলক ও লোভী মনোভাবই সমাজে কন্যা সন্তানকে বোঝা মনে করায় এবং যৌতুকপ্রথাকে টিকিয়ে রাখে— উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৭

    উদ্দীপক:

    বিয়ের মাত্র দুই দিন আগে সায়মার বিয়ে ভেঙে যায়। কারণ সায়মার বাবা বরপক্ষের চাওয়া অনুযায়ী বিলাসবহুল গাড়ি কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন। এতে গ্রামের মানুষ সায়মা ও তার পরিবারকে নিয়ে নানান কুৎসা রটাতে শুরু করে। কিন্তু সায়মার বাবা ছিলেন অবিচল। তিনি সায়মাকে বলেন, “যে পরিবার আমার সামর্থ্য নয়, লোভকে প্রাধান্য দেয়, তাদের ঘরে আমার মেয়ে যাবে না।” সায়মাও বাবার এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে।

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমের জীবনের আসল বয়স কত?

    খ. “এ সোনা এখনকার দিনে আর দেখাই যায় না”— উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    গ. উদ্দীপকের সায়মার বাবার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের শম্ভুনাথ সেনের সাদৃশ্য আলোচনা করো।

    ঘ. “সায়মা ও কল্যাণী সমাজ সংস্কারের এক বলিষ্ঠ প্রতিকৃতি”— বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৭

    ক. অনুপমের জীবনের আসল বয়স সাড়ে তেইশ বছর ।

    খ. কনেপক্ষের দেওয়া সোনার গহনাগুলো যে অত্যন্ত খাঁটি, খাদহীন ও পরিমাণে সমৃদ্ধ ছিল— স্বর্ণকারের এই উক্তি দ্বারা তা বোঝানো হয়েছে ।

    বিয়ের আসরে অনুপমের মামার নির্দেশে যখন স্বর্ণকার (সেক্রা) কল্যাণীর অলংকারগুলো পরীক্ষা করে, তখন সে অবাক হয়ে যায়। মামা ভেবেছিলেন কনেপক্ষ হয়তো খাদযুক্ত বা সোনা দিয়ে প্রবঞ্চনা করবে। কিন্তু স্বর্ণকার পরীক্ষা করে জানায় যে অলংকারগুলো কেবল নিখাদ সোনাই নয়, তাতে কোনো ফাঁকি নেই এবং এমন খাঁটি সোনা আজকাল আর সহজলভ্য নয়।

    গ. কনেপক্ষের ওপর বরপক্ষের অন্যায় দাবিকে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং সামাজিক ভয়কে উপেক্ষা করে কন্যাকর্তা হিসেবে আত্মমর্যাদা বজায় রাখার দিক থেকে সায়মার বাবার সাথে শম্ভুনাথ সেনের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষের গহনা পরীক্ষা করার মতো মানসিকতায় আঘাত পান। তিনি বুঝতে পারেন অনুপমের পরিবার লোভী। তাই সমাজের ‘মেয়ে লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার’ ভীতিকে তোয়াক্কা না করে তিনি বিয়ের আসর থেকেই বিয়ে ভেঙে দেন এবং কন্যাকে লোভী পরিবারের হাতে তুলে দেননি।

    উদ্দীপকের সায়মার বাবাও বরপক্ষের বিলাসবহুল গাড়ির অন্যায্য দাবি মেনে নেননি। গ্রামবাসীর কুৎসা ও সামাজিক কটূক্তিকে উপেক্ষা করে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। শম্ভুনাথ সেনের মতোই তিনিও লোভী পরিবারের কাছে মেয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের আত্মমর্যাদা রক্ষা করেছেন।

    ঘ. সমাজের কুসংস্কার ও যৌতুকপ্রথার মুখে ছাই দিয়ে নিজেদের যোগ্যতায় ঘুরে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সায়মা ও কল্যাণী উভয়ই সমাজ সংস্কারকের ভূমিকা পালন করেছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সমাজ আরোপিত অপবাদকে ভয় পায়নি। সে গৃহকোণে বন্দি না থেকে কানপুরে গিয়ে নারীশিক্ষার প্রসারে আত্মনিয়োগ করেছে। যৌতুকের বলি না হয়ে সে প্রমাণ করেছে যে নারীর জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য বিয়ে হতে পারে না; দেশের কাজ ও স্বাবলম্বী হওয়াও জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে।

    উদ্দীপকের সায়মাও ঠিক একই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। গাড়ি না দিতে পারায় বিয়ে ভেঙে গেলেও সে দমে যায়নি। মানুষের কুৎসাকে উপহাস করে সে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে গেছে এবং শিক্ষক হয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছে।

    কল্যাণী ও সায়মা উভয়েই প্রমাণ করেছে যে লগ্নভ্রষ্ট বা অপবাদের ভয় দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখা যায় না। তারা প্রথা ভেঙে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে সমাজকে এক নতুন বার্তা দিয়েছে। তাই বলা যায়, সায়মা ও কল্যাণী কেবল ভুক্তভোগী নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের ও নারীমুক্তির বলিষ্ঠ প্রতিকৃতি।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৮

    উদ্দীপক:

    বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রী মেহজাবিন। বিয়ের পর জানতে পারে তার স্বামী একজন মাদকাসক্ত ও বেকার। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে বাপের বাড়ি ফিরে আসে। মেহজাবিনের বাবা তাকে দ্বিতীয়বার বিয়ের চাপ দিলে মেহজাবিন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সে আর কোনো পুরুষতান্ত্রিক সংসারের ওপর নির্ভরশীল হবে না। সে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয় এবং দুস্থ নারীদের সহায়তায় একটি ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে।

    প্রশ্ন:

    ক. কল্যাণীর বাবার নাম কী?

    খ. “আমার মন বলিতেছিল, আমি কোনো ভুল করি নাই”— অনুপমের এই অনুভূতির কারণ কী?

    গ. উদ্দীপকের মেহজাবিনের মানসিকতার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর মানসিকতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    ঘ. “কল্যাণী ও মেহজাবিন উভয়ই দেখিয়েছে যে নারীর পরিচয় কেবল কারও স্ত্রী হওয়াতে সীমাবদ্ধ নয়”— মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৮

    ক. কল্যাণীর বাবার নাম শম্ভুনাথ সেন ।

    খ. কানপুরে ট্রেনে কল্যাণীর আত্মসম্মান ও দৃঢ় প্রতিবাদী রূপ দেখার পর অনুপমের মনে হয়েছিল সে কল্যাণীকে ভালোবেসে কোনো ভুল করেনি ।

    ট্রেনের কামড়ায় এক ইংরেজ কর্মচারীর অন্যায় দাবির মুখে কল্যাণী যেভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল, তা অনুপমকে মুগ্ধ করে। কল্যাণীর রূপের চেয়ে তার ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠস্বরের বলিষ্ঠতা অনুপমকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কল্যাণীর এই সাহসিকতা দেখে অনুপমের মনে হয়েছিল, এই অনন্য নারীকে মন দিয়ে সে এতটুকু ভুল করেনি, বরং তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

    গ. পুরুষনির্ভরশীল সামাজিক কাঠামো প্রত্যাখ্যান করে স্বাবলম্বী হওয়া এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতার দিক থেকে উদ্দীপকের মেহজাবিনের সাথে কল্যাণীর স্পষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী বরপক্ষের অমানবিক আচরণে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর আর কখনো বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সামাজিক বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়ে নারীশিক্ষা বিস্তার ও দেশসেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে।

    উদ্দীপকের মেহজাবিনও নির্যাতন ও ব্যর্থ বিয়ের পর পুনরায় কোনো পুরুষের ওপর নির্ভরশীল হতে চায়নি। সে বাবার দ্বিতীয় বিয়ের চাপ প্রত্যাখ্যান করে নিজের চেষ্টায় চাকরি নেয় এবং দুস্থ নারীদের সেবায় ফাউন্ডেশন গড়ে তোলে। দুজনেই ব্যক্তিগত জীবনের আঘাতকে শক্তিতে রূপান্তর করে সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেছে।

    ঘ. প্রথাগত সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রধান পরিচয় ধরা হতো তার বিবাহিত জীবনে, কিন্তু কল্যাণী ও মেহজাবিন সেই ধারণা ভেঙে নিজেদের কর্মে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।

    তৎকালীন সমাজ সংস্কারে নারীকে কেবল পুরুষের ওপর নির্ভরশীল এক অবলা জীব হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী প্রমাণ করেছে যে একজন নারী একাকীও সমাজে আলো ছড়াতে পারে। বিয়ে না করেও সে কানপুরে বালিকাবিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করে সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সে তার জীবনের লক্ষ্য স্থির করেছে ‘মাতৃ-আজ্ঞা’ পালনে।

    উদ্দীপকের মেহজাবিনও ঠিক একইভাবে পুরুষের ওপর নির্ভরশীলতা ছুড়ে ফেলে নিজের পরিচয় নিজে তৈরি করেছে। সে চাকরি করে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অন্য নারীদের সাহায্য করছে। তারা দুজনেই দেখিয়েছে যে নারীর অস্তিত্ব কেবল গৃহস্থালি বা কারও স্ত্রী হওয়াতে আটকে থাকে না।

    অতএব, কল্যাণী ও মেহজাবিন তাদের কর্ম ও চিন্তার মাধ্যমে নারীজাতিকে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছে, যেখানে নারীর নিজস্ব পরিচয়ই মুখ্য। মন্তব্যটি তাই পুরোপুরি যথার্থ।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ০৯

    উদ্দীপক:

    রাশেদ সাহেব অতি দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে আজ বহু ধনসম্পত্তির মালিক। কিন্তু ধনসম্পদ বাড়লেও তাঁর মনের সংকীর্ণতা দূর হয়নি। তিনি সব জায়গায় নিজের লাভ ও টাকা বাঁচানোর ধান্দা করেন। ছেলের বিয়ের জন্য তিনি এক মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে পছন্দ করেন, যাতে কনেপক্ষকে চাপে রেখে প্রচুর যৌতুক ও গহনা আদায় করা যায়। এমনকি বিয়ের দেনাপাওনা নিয়ে সামান্য হেরফের হওয়ায় তিনি বিয়ের আসরেই চেঁচামেচি শুরু করেন।

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমের বাবা কী করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন?

    খ. “শম্ভুনাথ বাবু বরকে একবার দেখিয়াও গেলেন না”— কেন?

    গ. উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবের মধ্যে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার যে স্বভাব প্রতিফলিত হয়েছে, তা আলোচনা করো।

    ঘ. “রাশেদ সাহেবদের মতো মানসিকতাই সমাজে সম্পর্কের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে”— উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে যাচাই করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ০৯

    ক. অনুপমের বাবা ওকালতি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন।

    খ. অনুপমের কোনো স্বাধীন ব্যক্তিত্ব নেই এবং সে মামার হাতের পুতুল মাত্র— এটি বুঝতে পেরে শম্ভুনাথ সেন বর হিসেবে তাকে দেখার আর প্রয়োজন বোধ করেননি।

    শম্ভুনাথ সেন যখন কোলকাতায় আসেন, তখন অনুপম আশা করেছিল হবু শ্বশুর তাকে দেখতে আসবেন। কিন্তু শম্ভুনাথ সেন অনুপমকে না দেখে মামার সাথেই সব কথা বলেন। শম্ভুনাথ সেন একজন অভিজ্ঞ মানুষ ছিলেন; তিনি প্রথম সাক্ষাতেই বুঝে যান যে এই পরিবারে অনুপম কেবল নামে মাত্র বর, আসল পরিচালক তার মামা। যার নিজের কোনো মতামত বা ব্যক্তিত্ব নেই, তাকে বর হিসেবে দেখার কোনো আগ্রহ শম্ভুনাথ সেনের ছিল না।

    গ. অর্থলোভ, মানসিক সংকীর্ণতা এবং কনেপক্ষকে শোষণ করার স্বভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মামার চরিত্র হুবহু মিলে যায়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা ছিলেন চরম ধনলোভী। সংসার ধনী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর ধনের ক্ষুধা মেটেনি। তিনি এমন পাত্রী চেয়েছিলেন যাদের শোষণ করা যাবে। বিয়ের আসরে গহনা মেপে দেখা ও দেনাপাওনা নিয়ে কাড়াকাড়ি করার মাধ্যমে তিনি নিজের ছোটমনস্কতার পরিচয় দেন।

    উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবও দরিদ্র থেকে ধনী হলেও মন থেকে সংকীর্ণতা কাটাতে পারেননি। তিনিও যৌতুকের লোভে মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে কনে নির্বাচন করেন এবং বিয়ের আসরে সামান্য বিষয় নিয়ে চিল্লাচিল্লি করেন। অনুপমের মামার মতোই রাশেদ সাহেব অর্থকে মানুষের আত্মসম্মানের চেয়ে বড় মনে করেছেন।

    ঘ. বিবাহ কেবল দুটি পরিবারের দেনাপাওনার চুক্তি নয়, বরং আত্মিক সম্পর্ক; কিন্তু যৌতুকলোভী মানুষের কারণে এই পবিত্র সম্পর্ক কলঙ্কিত হয়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামার চরম অর্থলোভ ও গহনা পরীক্ষার কারণে শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভেঙে দিতে বাধ্য হন। ফলে অনুপম ও কল্যাণীর সম্ভাব্য সুন্দর জীবনের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। মামার এই ছোটমনস্কতা একটি সুন্দর বৈবাহিক সম্পর্ককে সূচনালগ্নেই ধ্বংস করে দেয়।

    উদ্দীপকের রাশেদ সাহেবও দেনাপাওনা নিয়ে কনেবাড়িতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিয়ের পবিত্র পরিবেশ নষ্ট করেছেন। রাশেদ সাহেব বা অনুপমের মামার মতো মানুষেরা সম্পর্ককে হৃদয়ের বন্ধন না ভেবে লাভের খাতা মনে করেন। ফলে সম্পর্কের স্বাভাবিক মাধুর্য, শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়।

    সুতরাং, উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে এটি স্পষ্ট যে, রাশেদ সাহেবদের মতো লোভী ও সংকীর্ণ মানসিকতাই পবিত্র পারিবারিক সম্পর্কের সৌন্দর্য ধ্বংসের মূল কারণ।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১০

    উদ্দীপক:

    শফিক তার জীবনের ভুল বুঝতে পেরে বহু বছর পর তার প্রাক্তন শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে যায়। ছাত্রজীবনে শফিক এক অন্যায় ঘটনার সাক্ষী হয়েও শিক্ষকের পক্ষে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলেনি। শফিকের নীরবতার কারণে শিক্ষককে মিথ্যা অপবাদ নিয়ে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল। আজ শফিক সফল, কিন্তু সেই দিনের ভীরুতা ও নীরবতার গ্লানি তাকে প্রতিদিন কুড়ে কুড়ে খায়।

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমকে বিয়ের সময় উপহার হিসেবে শম্ভুনাথ সেন কী দিয়েছিলেন?

    খ. “সে যেন বহুকালের পরিচিত সুরের মতোই কানে বাজিল”— উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    গ. উদ্দীপকের শফিকের অনুশোচনার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের মনস্তাপের মিল ব্যাখ্যা করো।

    ঘ. “অনুতাপ বা ক্ষমা চাওয়াই অতীত ভুলের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হতে পারে না”— উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষিতে মূল্যায়ন করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১০

    ক. অনুপমকে বিয়ের সময় উপহার হিসেবে শম্ভুনাথ সেন একটি সোনার পকেট ঘড়ি দিয়েছিলেন।

    খ. ট্রেনের কামড়ায় কল্যাণীর মিষ্ট ও বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর শুনে অনুপমের মনে যে গভীর আবেশ ও চেনা অনুভূতি তৈরি হয়েছিল— উক্তিটি দিয়ে তা-ই বোঝানো হয়েছে।

    ট্রেনের অজানা স্টেশনে হঠাৎ অনুপম এক তরুণীর “গাডি মে জাইগা হ্যায়” ডাক শুনতে পায়। সেই কণ্ঠস্বর সাধারণ কোনো ডাক ছিল না; তাতে ছিল এক অদ্ভুত সুধা ও আত্মবিশ্বাসের সুর। অনুপম অতীতে কল্যাণীকে সরাসরি না দেখলেও তার কল্পনায় এক নারীর সুর বা রূপ একেছিল। কল্যাণীর এই আহ্বান অনুপমের হৃদয়ে সেই সুপ্ত কল্পনাকে জাগিয়ে তোলে, যার কারণে সুরটিকে তার বহুকালের চেনা মনে হয়েছিল।

    আরও পড়ুন:  অপরিচিতা গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    গ. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সময়মতো মুখ না খুলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় পরবর্তীতে আজীবন অনুশোচনায় দগ্ধ হওয়ার দিক থেকে শফিকের সাথে অনুপমের গভীর মিল রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম বিয়ের আসরে মামার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেনি নিজের ভীরুতার কারণে। এর খেসারত হিসেবে সে কল্যাণীকে হারায়। পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে সারাজীবন অনুশোচনা ও অনুতাপে দগ্ধ হতে থাকে।

    উদ্দীপকের শফিকও অতীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করে চুপ ছিল, যার ফলে তার শিক্ষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। বহু বছর পর শফিক তার ভীরুতার কথা ভেবে অপরাধবোধে ভোগে। অনুপমের মতোই শফিকের এই অনুশোচনা নির্দেশ করে যে সময়মতো সত্য না বলার মাশুল মানুষকে সারাজীবন বহন করতে হয়।

    ঘ. অতীত ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করা যায়, কিন্তু তাতে নষ্ট হয়ে যাওয়া সময় বা জীবনের ক্ষতি কখনো পুরোপুরি পূরণ হয় না।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম কানপুরে গিয়ে শম্ভুনাথ সেন ও কল্যাণীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। সে কোলকাতার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ছেড়ে কল্যাণীর কাছাকাছি থাকার জন্য কানপুরে ডেরা বেঁধেছিল। কিন্তু এতে কি তার অতীত ভীরুতার ক্ষতিপূরণ হয়েছে? কল্যাণী তাকে ক্ষমা করলেও চিরকালের জন্য নিজের জীবন থেকে দূরবর্তী অনুরাগী করে রেখেছে; স্ত্রী হিসেবে আর গ্রহণ করেনি।

    উদ্দীপকের শফিকও বহু বছর পর শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাইতে গেছে। কিন্তু তার এই ক্ষমা চাওয়া শিক্ষকের হারিয়ে যাওয়া সম্মান বা জীবনের কঠিন দিনগুলোকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

    অতএব, অনুশোচনা মানুষের ভেতরে অপরাধবোধের জন্ম দেয় ঠিকই, কিন্তু যে ক্ষতি অতীতে হয়ে গেছে— তাকে পুরোপুরি মুছে দিতে পারে না। তাই বলা যায়, অনুতাপ বা ক্ষমা চাওয়া অতীত ভুলের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১১

    উদ্দীপক:

    ফারুক উচ্চশিক্ষিত হয়েও বাবার ব্যবসার গণ্ডির বাইরে যেতে চায়নি। তবে তার বড় গুণ ছিল, সে কাউকে অহেতুক অপমান করত না। তার বিয়ে ঠিক হলে তার বাবা কনেপক্ষের কাছে বিপুল পরিমাণ অলংকার দাবি করেন। ফারুক মনে মনে বিষয়টিকে অপছন্দ করলেও বাবার মুখের ওপর কিছু বলতে পারেনি। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ফারুক অনুতপ্ত হয়ে একা একা তীর্থযাত্রায় বেরিয়ে পড়ে এবং পথিমধ্যে এক অনাথ আশ্রমে সেবা কাজে নিজেকে যুক্ত করে।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথের কোন সংকলনে গ্রন্থভুক্ত হয়েছিল?

    খ. “তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ”— শম্ভুনাথ সেন সম্পর্কে এই উক্তির পেছনে অনুপমের মামার আসল মনোভাব কী ছিল?

    গ. উদ্দীপকের ফারুকের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য নির্দেশ করো।

    ঘ. “ফারুক ও অনুপম উভয়ই মানসিক দিক থেকে দুর্বল, যা তাদের জীবনের ট্র্যাজেডির মূল কারণ”— আলোচনা করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১১

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পসপ্তক’ সংকলনে প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয়েছিল ।

    খ. শম্ভুনাথ সেন অত্যন্ত সরল ও তাকে সহজে ঠকানো যাবে— এই ভেবে অনুপমের মামা তাকে ‘ভালো মানুষ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ।

    অনুপমের মামা মানুষ হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত হিসাবcalculate করা ও শোষক স্বভাবের। শম্ভুনাথ সেন কোলকাতায় এসে তাঁদের সাথে খুব বেশি দরদাম করেননি বা আড়ম্বর প্রকাশ করেননি। শম্ভুনাথ সেনের এই শান্ত ও নিরীহ আচরণ দেখে মামা ভেবেছিলেন তিনি একজন নমনীয় ও দুর্বল ব্যক্তি, যাকে কনেপক্ষ হিসেবে চেপে ধরা সহজ হবে। মামার কাছে ‘ভালো মানুষ’ মানে ছিল ‘সহজে ঠকানো যায় এমন ব্যক্তি’।

    গ. পিতার বা পরিবারের অন্যায়ের সামনে নীরব থাকা, ব্যক্তিত্ব প্রকাশে ব্যর্থ হওয়া এবং পরবর্তীতে বিচ্ছেদের পর নিজেকে কোনো কাজে সঁপে দেওয়ার দিক থেকে ফারুকের সাথে অনুপমের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম উচ্চশিক্ষিত হয়েও মামার অন্যায় দাবির প্রতিবাদ করেনি। বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে মায়ের সাথে তীর্থযাত্রায় বের হয় এবং পরবর্তীতে কানপুরে গিয়ে কল্যাণীর সান্নিধ্যে জীবন কাটায়।

    উদ্দীপকের ফারুকও উচ্চশিক্ষিত হলেও বাবার অন্যায্য অলংকার দাবির মুখে কোনো প্রতিবাদ করেনি। বিয়ে ভেঙে গেলে সে অনুশোচনায় তীর্থযাত্রায় বের হয়ে অনাথ আশ্রমে নিজেকে যুক্ত করে। ব্যক্তিত্বের অভাব এবং অন্যায়ের প্রতিবাদে অপারগতার দিক থেকে ফারুক যেন গল্পের অনুপমেরই এক প্রতিচ্ছবি।

    ঘ. শিক্ষার আলো পেলেও মানসিক দৃঢ়তা ও নৈতিক সাহসের অভাবে ফারুক ও অনুপম দুজনেই জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম বিএ-এমএ পাস করেও নিজের জীবনের ওপর আধিপত্য স্থাপন করতে পারেনি। মামা যখন কনেপক্ষকে অপমান করেন, তখন তার ভেতরের নৈতিক চেতনা সজাগ থাকলেও সে ভীরুতার কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এই মানসিক দুর্বলতার কারণেই কল্যাণীর মতো অনন্য নারীকে সে চিরতরে হারায়, যা তার জীবনের প্রধান ট্র্যাজেডি।

    উদ্দীপকের ফারুকও একইভাবে উচ্চশিক্ষিত হয়েও বাবার অন্যায় দাবির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারেনি। সে অন্যায়ের পরিণতি জেনেও নিজের দুর্বলতার কারণে চুপ ছিল। পরবর্তীতে সেই ভুলের কারণে সে সংসারহীন জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়।

    সুতরাং, কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থাকলেই মানুষ প্রকৃত মানুষ হয় না; অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। ফারুক ও অনুপমের এই মানসিক দুর্বলতাই তাদের জীবনকে বিয়োগান্তক ট্র্যাজেডিতে রূপ দিয়েছে।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১২

    উদ্দীপক:

    রেশমা এক প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে। বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে সে শহরে এসে পড়াশোনা সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে সে একটি বেসরকারি সংস্থার হয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে নারীশিক্ষা ও বাল্যবিয়ে রোধে কাজ শুরু করে। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় কেন সে নিজে কখনো বিয়ে করল না, রেশমা মৃদু হেসে বলে, “আমার দেশের হাজারো অসহায় মেয়েদের জীবনের দায়িত্ব নেওয়া আমার কাছে যেকোনো ব্যক্তিগত সংসারের চেয়ে বড়।”

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে কন্যা-সম্প্রদানের সময় কার অস্বীকৃতিতে বিয়ে ভেঙে যায়?

    খ. “মাতৃ-আজ্ঞা” বলতে কল্যাণী কী বুঝিয়েছিল?

    গ. উদ্দীপকের রেশমার উত্তরটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর কোন চেতনার সাথে হুবহু মিলে যায়?

    ঘ. “রেশমা ও কল্যাণীর মতো নারীরাই সমাজ পরিবর্তনের প্রকৃত কারিগর”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১২

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেনের অস্বীকৃতিতে বিয়ে ভেঙে যায় ।

    খ. “মাতৃ-আজ্ঞা” বলতে কল্যাণী কোনো ব্যক্তিগত মায়ের আদেশ নয়, বরং ‘দেশমাতৃকার সেবা’ ও নারীশিক্ষার দায়িত্বকে বুঝিয়েছিল।

    অনুপম যখন কানপুরে কল্যাণীর কাছে তার বিয়ের বিষয়ে জানতে চায়, তখন কল্যাণী জানায় সে বিয়ে করবে না কারণ তার ওপর “মাতৃ-আজ্ঞা” রয়েছে। গল্পে এই মা হলেন জন্মভূমি বা দেশমাতা। তৎকালীন ভারতবর্ষে পরাধীন দেশের নারীদের শিক্ষিত করা ও তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই ছিল কল্যাণীর প্রধান লক্ষ্য। এই মহান ব্রতকেই সে মায়ের আদেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

    গ. ব্যক্তিগত সংসারের সীমানা ছাড়িয়ে দেশসেবা, নারীশিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্বকে জীবনের পরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা উদ্দীপকের রেশমার সাথে কল্যাণীর হুবহু মিলে যায়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী যৌতুকলোভী সমাজের সঙ্গে আপস না করে কানপুরে বালিকাবিদ্যালয়ে শিক্ষাদানের ব্রত নেয়। অনুপম তাকে বিয়ের প্রস্তাব বা অনুরোধ জানালে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে দেশমাতৃকার আদেশ পালনে সে সঁপে দিয়েছে, তাই আর বিয়ে করবে না।

    উদ্দীপকের রেশমাও নিজের ব্যক্তিগত সংসার না করার কারণ হিসেবে দেশের অসহায় মেয়েদের স্বাবলম্বী করার দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়েছে। কল্যাণীর মতো রেশমাও সংকীর্ণ পারিবারিক জীবন ত্যাগ করে বৃহৎ সমাজকল্যাণকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়েছে।

    ঘ. সমাজের জরাজীর্ণ প্রথা ভেঙে নারীসমাজকে সচেতন ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলার ক্ষেত্রে কল্যাণী ও রেশমাদের মতো প্রগতিশীল নারীদের অবদান অনস্বীকার্য।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী কেবল যৌতুকপ্রথার প্রতিবাদকারীই নয়, সে নারীশিক্ষার এক আলোর দিশারী। কানপুরের মেয়েদের শিক্ষিত করে তুলে সে সমাজকে গোঁড়ামি ও অন্ধত্ব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছে। তার চিন্তাধারা ও কাজ তৎকালীন পরাধীন ভারতে নারীজাগরণের পথ সুগম করেছিল।

    উদ্দীপকের রেশমাও গ্রাম থেকে উঠে এসে বাল্যবিয়ে রোধ ও নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করছে। সে সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও নারী দমনের বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী রূপ। এরা দুজনেই দেখিয়ে দিয়েছে যে নারীরা সমাজ থেকে কেবল নেবে না, সমাজকে নতুন পথ দেখাবে।

    অতএব, প্রথাভাঙা সিদ্ধান্ত নিয়ে নারীজাগরণে আত্মনিয়োগ করার মাধ্যমে কল্যাণী ও রেশমা সমাজকে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই তারা সমাজ পরিবর্তনের প্রকৃত কারিগর— মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৩

    উদ্দীপক:

    বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়ার চরম আড়ম্বর। বরপক্ষের সবাই তৃপ্তি সহকারে খাবার খাচ্ছিল। এমন সময় কনের বাবা বরপক্ষের প্রধানকে ডেকে অত্যন্ত বিনীতভাবে বললেন, “আপনাদের পেট ভরে আপ্যায়ন করতে পেরে আমি ধন্য। কিন্তু যে পরিবার গহনার ওজনের ওপর ভিত্তি করে সম্পর্কের মূল্য নির্ধারণ করে, তাদের সাথে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিতে পারি না। গাড়ি তৈরি, আপনারা এখন বিদায় নিতে পারেন।” বরযাত্রীরা হতবাক হয়ে খাওয়া ফেলে উঠে দাঁড়াল।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক কে?

    খ. “যে বর নিজ মুখে স্বীকার করিল, সে সোনা আসল সোনা”— উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

    গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    ঘ. “কনেপক্ষের এই অসমসাহসী আচরণ বরপক্ষের অন্যায্য অহংকারকে চূর্ণ করে দেয়”— উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৩

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পের কথক অনুপম ।

    খ. শম্ভুনাথ সেনের আনা স্বর্ণকার যখন মামার আনা অলংকার পরীক্ষা করে অত্যন্ত খাঁটি বলে রায় দেয়— উক্তিটি দ্বারা সেই সত্য প্রকাশ করা হয়েছে ।

    বিয়ের আসরে অনুপমের মামা খাদযুক্ত সোনা দিয়ে কনেপক্ষ তাদের ঠকাতে পারে ভেবে নিজের স্বর্ণকার নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষের আনা গহনাগুলো স্বর্ণকারকে দিয়ে পরীক্ষা করান। সেই স্বর্ণকার পরীক্ষা করে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে মামার আনা গহনা থেকে কনেপক্ষের দেওয়া সোনা অনেক বেশি খাঁটি ও নিখাদ। মামার নিযুক্ত লোকই যখন সোনার আসল রূপ প্রকাশ করে, তখন মামা চরম লজ্জিত হন।

    গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন কর্তৃক বরযাত্রীদের আপ্যায়ন শেষে চরম অপমানে বিয়ে ভেঙে বিদায় দেওয়ার ঘটনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অলংকার পরীক্ষার পর শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষকে কিছু না বলে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় বরযাত্রীদের পেট পুরে খাওয়ান। খাওয়ানো শেষ হলে তিনি বরযাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের খাওয়া শেষ হইয়া থাকে তো গাড়ি তৈরি আছে।” তিনি স্পষ্ট জানান যে অলংকার পরীক্ষার মাধ্যমে বরপক্ষ যে অপমান করেছে, তারপর তিনি আর মেয়ে সম্প্রদান করবেন না।

    উদ্দীপকেও ঠিক একই দৃশ্য দেখা যায়। কনের বাবা বরপক্ষকে পেট পুরে খাইয়ে দেওয়ার পর অত্যন্ত ভদ্র ভাষায় জানিয়ে দেন যে গহনার লোভী পরিবারের সাথে তিনি মেয়ে বিয়ে দেবেন না এবং তাদের বিদায় নিতে বলেন। উভয় ঘটনাতেই চরম আতিথেয়তার আড়ালে শোষক বরপক্ষকে এক কঠিন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

    ঘ. বরপক্ষের মিথ্যা অহংকার ও যৌতুকলোভী মানসিকতাকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য কনেপক্ষের এমন সাহসিকতা ও দৃঢ়তাই একমাত্র ওষুধ।

    তৎকালীন পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মনে করা হতো কনেপক্ষ দুর্বল এবং তারা বরপক্ষের সব অন্যায্য দাবি মেনে নিতে বাধ্য। ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামাও ভেবেছিলেন শম্ভুনাথ সেন মেয়ে লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার ভয়ে তাঁদের সব অপমান সহ্য করবেন। কিন্তু শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষকে খাইয়ে দিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়ে বরপক্ষের চরম অহংকারে কুঠারাঘাত করেন। এই নজিরবিহীন ঘটনায় বরপক্ষের মুখ চুন হয়ে যায়।

    উদ্দীপকের কনের বাবাও একইভাবে লোভী বরপক্ষকে আপ্যায়ন শেষে বিদায় করে দিয়ে তাদের অহংকার ধুলিসাৎ করেছেন। কনেপক্ষের এই প্রতিবাদী অবস্থান প্রমাণ করে যে আত্মসম্মানের কাছে অর্থনৈতিক বা সামাজিক কোনো পাওয়ারই মূল্য নেই।

    সুতরাং, কনেপক্ষের এই অনমনীয় সাহসিকতাই বরপক্ষের অন্যায্য অহংকারকে চূর্ণ করে সমাজকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৪

    উদ্দীপক:

    রোহান ভালো ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও তার বাবার কথামতো চলতে গিয়ে বারবার নিজের ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েছে। এমনকি পছন্দমতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েও বাবার চাপে সে অন্য বিষয়ে ভর্তি হয়। ফলে আজ কর্মজীবনে সে কোনো সাফল্য পাচ্ছে না এবং নিজের সিদ্ধান্তের অক্ষমতার জন্য নিজেকেই ধিক্কার দিচ্ছে। সে বুঝতে পেরেছে, কেবল অন্যের অনুগত হওয়া জীবনের সফলতা এনে দেয় না, নিজের একটি স্পষ্ট ব্যক্তিত্ব থাকা দরকার।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে কার ভাষা অত্যন্ত আঁট ও খাঁটি ছিল?

    খ. “শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের” রূপকটি গল্পে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?

    গ. উদ্দীপকের রোহানের ব্যক্তিত্বহীনতার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতার তুলনা করো।

    ঘ. “নিজস্ব ব্যক্তিত্বের অভাব মানুষের আত্মবিকাশ ও সাফল্যের প্রধান অন্তরায়”— উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে আলোচনা করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৪

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের বন্ধু বিনুর ভাষা অত্যন্ত আঁট ও খাঁটি ছিল।

    খ. বাইরে দেখতে সুপুরুষ হলেও অনুপমের ভেতরে গুণ ও ব্যক্তিত্বের শূন্যতা বোঝাতে ‘শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের’ রূপকটি ব্যবহৃত হয়েছে।

    অনুপমের পণ্ডিত মশাই তাকে শিমুল ফুল ও মাকাল ফলের সাথে তুলনা করতেন। শিমুল ফুল দেখতে লাল হলেও সুবাসহীন এবং মাকাল ফল বাইরে সুন্দর হলেও ভেতরে দুর্গন্ধযুক্ত ও অসার। অনুপম দেখতে অত্যন্ত সুপুরুষ ও কান্তিময় হলেও তার নিজস্ব কোনো মতামত বা ব্যক্তিত্ব ছিল না। মামা ও পরিবারের অনুগত এক পুতুল হওয়ায় তাকে এই রূপকে ভূষিত করা হয়।

    গ. পরিবারের অন্ধ অনুশাসন মেনে নিয়ে নিজস্ব মতামত বিসর্জন দেওয়া এবং পরবর্তীতে এর জন্য অনুশোচনা করার দিক থেকে রোহানের সাথে অনুপমের গভীর বৈসাদৃশ্য নেই, বরং তীব্র সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম উচ্চশিক্ষিত হয়েও মামার সিদ্ধান্তের বাইরে এক পা ফেলতে পারেনি। বিয়ের আসরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পেরে সে জীবন থেকে সুখ ও ভালোবাসাকে চিরতরে হারিয়েছে এবং সারাজীবন মনস্তাপে ভুগেছে।

    উদ্দীপকের রোহানও ভালো ছাত্র হয়েও বাবার ইচ্ছার কাছে নিজের পড়ার ইচ্ছা বিসর্জন দিয়েছে। ফলে কর্মজীবনে সে ব্যর্থ হয়ে নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছে। দুজনেই পরিবারতন্ত্রের অনুগত হতে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়েছে।

    ঘ. মানুষের রূপ বা শিক্ষা যতই থাকুক না কেন, নিজস্ব চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব না থাকলে জীবনে কখনো পূর্ণাঙ্গ বিকাশ বা সাফল্য আসে না।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম এমএ পাস করা শিক্ষিত তরুণ। কিন্তু মামার হাতের পুতুল হওয়ায় সে বিয়ের আসরে এক মূক দর্শকের মতো বসে ছিল। সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেনি বলেই শম্ভুনাথ সেন তাকে বর হিসেবে অযোগ্য মনে করেছিলেন। অনুপমের এই ব্যক্তিত্বহীনতাই তার জীবনের চরম ট্র্যাজেডি ডেকে এনেছিল।

    উদ্দীপকের রোহানও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতায় ভালো হলেও নিজস্ব চিন্তাশক্তি না থাকায় বাবার চাপে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মজীবনে ব্যর্থ হয়েছে। রোহান ও অনুপম উভয়েই প্রমাণ করেছে যে অন্ধ আনুগত্য মানুষকে পঙ্গু করে দেয় এবং নিজস্ব ব্যক্তিত্বের অভাবই সাফল্যের প্রধান বাধা।

    অতএব, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের সৎ ও স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তিত্বের অভাবই যে জীবনের বিকাশকে স্তব্ধ করে দেয়— উদ্দীপক ও গল্পের আলোকে তা সুস্পষ্ট।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৫

    উদ্দীপক:

    অনন্যা একজন সমাজকর্মী। সে দেখেছে তার সমাজের অনেক নারীই স্বামীর সংসারের অবিচার সহ্য করে টিকে থাকে কেবল ‘সমাজ কী বলবে’— সেই ভয়ে। অনন্যা সেই সব নারীদের একত্রিত করে তাদের আইনি সহায়তা দেয় এবং সেলাই ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলে। সে নারীদের শেখায়— “লজ্জা বা অপমানের ভয়ে অন্যায় সহ্য করা আত্মহত্যার সামিল; নিজের আত্মসম্মানই নারীদের আসল গহনা।”

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমের মামা অনুপমের চেয়ে বয়সে কত বড় ছিলেন?

    খ. “ভাগ্যগগনে প্রজাপতির কোনো করুণার আভাস দেখা গেল না”— উক্তিটির অর্থ কী?

    গ. উদ্দীপকের অনন্যার মূল সুরটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের কোন ভাবসত্যকে প্রকাশ করে?

    ঘ. “অনন্যা ও কল্যাণী কেবল নিজেদের রক্ষা করেনি, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নারীদের জাগিয়ে তুলেছে”— আলোচনা করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৫

    ক. অনুপমের মামা অনুপমের চেয়ে বয়সে চার-পাঁচ বছর বড় ছিলেন ।

    খ. বিয়ের দেবতা প্রজাপতির কৃপা না থাকায় অনুপমের কপালে বিবাহসুখ জুটল না— উক্তিটি দ্বারা এই ভাগ্যবিড়ম্বনাকে বোঝানো হয়েছে ।

    হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী ‘প্রজাপতি’ হলেন বিয়ের দেবতা। অনুপমের এমএ পাস করা, ধনসম্পদ এবং সুন্দর রূপ থাকা সত্ত্বেও তার বিয়ে শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হতে পারেনি। বিয়ের আসর থেকেই তাকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছিল। অনুপম নিজের এই ভাগ্যবিড়ম্বনাকে রূপক অর্থে প্রজাপতির করুণা না থাকা বলে অভিহিত করেছে।

    গ. সমাজের কুপ্রথা ও অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করে আত্মসম্মানবোধে জাগ্রত হওয়ার যে প্রগতিশীল ভাবসত্য, তা উদ্দীপকের অনন্যার সুরের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূলভাবকে মেলায়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল ভাবসত্য হলো যৌতুকপ্রথার অবমাননাকে প্রত্যাখ্যান করা এবং নারীর আত্মচেতনার প্রকাশ। কল্যাণী বরপক্ষের গহনা পরীক্ষা করার অপমান সহ্য করেনি। সে লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার সামাজিক ভয়কে দূর করে নারীশিক্ষায় নিজেকে যুক্ত করেছে।

    উদ্দীপকের অনন্যাও নারীদের শেখায় যে অপমানের ভয়ে অন্যায় সহ্য করা উচিত নয়। সে নারীদের আত্মসম্মানবোধে জাগ্রত হতে ও স্বাবলম্বী হতে উৎসাহ দেয়। কল্যাণীর আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইটিই অনন্যার সমাজকল্যাণমূলক কাজের মূল অনুপ্রেরণা।

    ঘ. সমাজের কুসংস্কারাচ্ছন্ন শৃঙ্খল ভেঙে নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাশীল হতে শেখানোর মাধ্যমে অনন্যা ও কল্যাণী নারী সমাজকে এক নতুন আলোর দিশা দেখিয়েছে।

    আরও পড়ুন:  অপরিচিতা গল্পের মূলভাব - বাংলা সাহিত্য পাঠ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণী কেবল নিজের বিয়ে ভাঙাকেই শেষ কথা মনে করেনি। সে কানপুরে মেয়েদের শিক্ষিত করার দায়িত্ব নেয়, যেন ভবিষ্যতে অন্য কোনো নারীকে যৌতুকের বলি হতে না হয় বা পুরুষের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করতে না হয়। তার এই পদক্ষেপ নারীজাগরণের সূচনা করে।

    উদ্দীপকের অনন্যাও একইভাবে নির্যাতিত নারীদের হস্তশিল্প ও আইনি প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করছে। সে নারীদের শেখায় যে আত্মসম্মানই তাদের আসল শক্তি।

    সুতরাং, কল্যাণী ও অনন্যা উভয়েই নিজেদের জীবনের সীমা ছাড়িয়ে সামগ্রিক নারী সমাজকে কুসংস্কার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে জাগিয়ে তোলার মহান দায়িত্ব পালন করেছে।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৬

    উদ্দীপক:

    বিয়ের আসরে কনেপক্ষ থেকে বরপক্ষকে দেওয়া ঘড়ি ও সোনার চেইন নিয়ে বরপক্ষের আত্মীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা কনের বাবাকে ডেকে অপমানজনক কথা বলতে থাকে। বর নাদিম এই দৃশ্য দেখে আসর থেকে উঠে গিয়ে আত্মীয়দের কড়া ভাষায় বলে, “উপহার নিয়ে যারা কাড়াকাড়ি করে, তারা মানুষ নয়। আমি কোনো বস্তু বা অলংকারের লোভে এখানে আসিনি।” নাদিম নিজে কনের বাবার কাছে ক্ষমা চায় এবং বিনা যৌতুকে বিয়ে সম্পন্ন করে।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে কোন শহরটির উল্লেখ বারবার এসেছে?

    খ. “গাড়ি তৈরি আছে”— শম্ভুনাথ সেনের এই কথার গুরুত্ব বুঝিয়ে লেখো।

    গ. উদ্দীপকের নাদিম চরিত্রের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপমের বৈসাদৃশ্য আলোচনা করো।

    ঘ. “নাদিমের মতো তরুণদের বলিষ্ঠ অবস্থানই পারে ‘অপরিচিতা’ গল্পের ট্র্যাজেডি রোধ করতে”— বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৬

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে ‘কানপুর’ শহরটির উল্লেখ বারবার এসেছে ।

    খ. বরপক্ষকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ও দৃঢ়তার সাথে অপমান করে বিদায় দেওয়ার মানসিকতাই শম্ভুনাথ সেনের “গাড়ি তৈরি আছে” কথার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ।

    বিয়ের আসরে অনুপমের মামা অলংকার মেপে কনেপক্ষকে চরম অপমান করেন। শম্ভুনাথ সেন এতে ভীষণ মর্মাহত হলেও কোনো হট্টগোল করেননি। তিনি বরযাত্রীদের ভালো করে খাইয়ে দেওয়ার পর অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে বলেন যে গাড়ি প্রস্তুত আছে। এর অর্থ ছিল, তিনি যৌতুকলোভী বরপক্ষের কাছে মেয়ে দেবেন না এবং তাদের তখনই বিদায় হতে হবে। এটি ছিল অমানবিক বরপক্ষের মুখে শম্ভুনাথ সেনের এক সশব্দ চড়।

    গ. অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, কনেপক্ষের আত্মসম্মান রক্ষা করা এবং নিজস্ব স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিক থেকে নাদিমের সাথে অনুপমের সম্পূর্ণ বৈসাদৃশ্য দেখা যায়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম তার মামার অন্যায্য গহনা পরীক্ষার প্রতিবাদ করেনি। সে নীরব থেকে কনেপক্ষের অপমান প্রত্যক্ষ করেছে, যার ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। অনুপম ছিল ভীরু ও ব্যক্তিত্বহীন।

    উদ্দীপকের নাদিম কিন্তু অন্যায়ের সামনে চুপ থাকেনি। সে নিজের আত্মীয়দের লোভী আচরণ দেখে সরাসরি তাদের ধিক্কার দিয়েছে এবং বিনা যৌতুকে বিয়ে করে নিজের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করেছে। অনুপম যেখানে নীরবতার প্রতীক, নাদিম সেখানে সাহসিকতা ও প্রতিবাদের প্রতীক।

    ঘ. তরুণ সমাজ যদি যৌতুকের বিরুদ্ধে নাদিমের মতো প্রগতিশীল ভূমিকা পালন করে, তবে সমাজ থেকে যৌতুকপ্রথার মতো অভিশাপ দূর হবে এবং কোনো বিয়ে বিযোগান্তক পরিণতি পাবে না।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের নীরবতা ও মামার অন্যায়ের প্রতিবাদ না করার ফলেই শম্ভুনাথ সেন বিয়ে ভাঙতে বাধ্য হন। অনুপম যদি বর হিসেবে রুখে দাঁড়াত, তবে বিয়ের আসর থেকে বরযাত্রীদের অপমানিত হয়ে ফিরতে হতো না এবং কল্যাণীর জীবন থেকেও বৈবাহিক আনন্দ হারিয়ে যেত না।

    উদ্দীপকের নাদিম দেখিয়েছে কীভাবে একজন বর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে। নাদিমের প্রতিবাদের কারণেই কনেপক্ষ অপমানের হাত থেকে বাঁচে এবং একটি সুন্দর বিয়ে সম্পন্ন হয়।

    অতএব, অনুপমের মতো ভীরুতা নয়, বরং নাদিমের মতো ব্যক্তিত্ববান তরুণদের বলিষ্ঠ অবস্থানই পারে যৌতুকপ্রথা উচ্ছেদ করতে এবং ‘অপরিচিতা’ গল্পের মতো করুণ ট্র্যাজেডি প্রতিরোধ করতে।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৭

    উদ্দীপক:

    তাহমিনা একজন বিসিএস ক্যাডার। তার অনেক ভালো ভালো বিয়ের প্রস্তাব আসা সত্ত্বেও সে বিয়ে করছে না। আত্মীয়স্বজনরা তাকে ‘বংশ রক্ষা’ ও ‘বয়স পার হয়ে যাওয়া’-র ভয় দেখালেও তাহমিনা অনড়। সে তার উপার্জনের সিংহভাগ দিয়ে গ্রামের দরিদ্র মেয়েদের জন্য একটি পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালিয়ে যাচ্ছে। তাহমিনার মতে, “নিজের জীবনকে কেবল একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের কাজে লাগাতে পারলেই জীবনের আসল সার্থকতা।”

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে সেক্রা শব্দের অর্থ কী?

    খ. “আমার ভবিষ্যৎ আমাকে কোনোদিন ফাঁকি দিবে না”— অনুপমের এই আত্মবিশ্বাসের কারণ কী ছিল?

    গ. উদ্দীপকের তাহমিনার জীবনদর্শনের সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর জীবনদর্শনের বৈসাদৃশ্য ও সাদৃশ্য আলোচনা করো।

    ঘ. “তাহমিনা ও কল্যাণী সমাজের প্রচলিত ‘নারীর সার্থকতা বিয়ের মধ্যে’ ধারণাকে চূর্ণ করে দিয়েছে”— সার্থকতা বিচার করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৭

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে সেক্রা শব্দের অর্থ হলো সরাফ বা স্বর্ণকার ।

    খ. অনুপমের কাছে মামার অঢেল সম্পত্তি ও কোলকাতার নিরাপদ জীবন ছিল বলে সে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত নিশ্চিন্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিল।

    অনুপমের পিতা মারা যাওয়ার আগে প্রচুর ধনসম্পদ রেখে যান। এছাড়া অনুপমের মামা ছিলেন অত্যন্ত চতুর ও সংসারকে সমৃদ্ধ করার যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। অনুপম জানত যে তাকে জীবনে কোনো উপার্জনের কষ্ট বা লড়াই করতে হবে না; মামা সব সামলে নেবেন। এই অর্থনৈতিক নিশ্চিন্ততার কারণেই সে ভেবেছিল তার ভবিষ্যৎ তাকে কখনো ফাঁকি দেবে না।

    গ. সামাজিক চাপ উপেক্ষা করে নিজের জীবনকে সমাজসেবা ও প্রগতিশীল কাজে উৎসর্গ করার দিক থেকে তাহমিনার সাথে কল্যাণীর গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণী বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সমাজ আরোপিত অপবাদকে তোয়াক্কা না করে কানপুরে নারীশিক্ষার ব্রত নেয়। সে অনুপমের বিয়ের অনুরোধও ফিরিয়ে দেয় দেশসেবার উদ্দেশ্যে।

    উদ্দীপকের তাহমিনাও সামাজিক কুসংস্কার বা বিয়ের চাপকে তোয়াক্কা না করে গ্রামের মেয়েদের শিক্ষায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে। উভয় চরিত্রই প্রমাণ করেছে যে ব্যক্তিগত বৈবাহিক জীবনের চেয়ে বৃহৎ সমাজকল্যাণ অনেক বেশি মহান।

    ঘ. পুরুষতান্ত্রিক সমাজ মনে করে নারীদের জীবনের একমাত্র সার্থকতা একখানা ভালো বিয়ে ও সংসার করা; কিন্তু কল্যাণী ও তাহমিনা এই প্রথাগত ধারণাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে কল্যাণীকে সমাজ লগ্নভ্রষ্ট বা অপয়া বলতে চেয়েছিল। কিন্তু কল্যাণী দেখিয়েছে যে বিয়েই নারীর জীবনের শেষ কথা নয়। সে কানপুরের বালিকাবিদ্যালয়ে শিক্ষাদান করে নিজের জীবনকে সার্থক করে তুলেছে। দেশসেবাকেই সে জীবনের সেরা ব্রত বানিয়ে নিয়েছে।

    উদ্দীপকের তাহমিনাও উচ্চশিক্ষিত হয়ে কেবল বিয়ের পিঁড়িতে বসার প্রচলিত পথ বেছে নেয়নি। সে বিসিএস ক্যাডার হয়ে দরিদ্র মেয়েদের পাঠাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে।

    সুতরাং, তাহমিনা ও কল্যাণী প্রমাণ করেছে যে নারীর সার্থকতা পুরুষের অধীনস্থ সংসারে নয়, বরং নিজের আত্মমর্যাদা ও সমাজসেবার মধ্যেই নিহিত। উক্তিটি তাই শতভাগ সার্থক।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৮

    উদ্দীপক:

    জাহাঙ্গীর সাহেব তাঁর একমাত্র মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেন। বরপক্ষ বেশ আড়ম্বরপ্রিয় হলেও জাহাঙ্গীর সাহেব তাঁর সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে আয়োজনে কোনো কমতি রাখেননি। কিন্তু বিয়ের দিন বরপক্ষের লোকজন খাবারের মান নিয়ে অপমানজনক কথা বলতে শুরু করে। এমনকি বরের বাবা প্রকাশ্যে কনেপক্ষকে ‘ছোটলোক’ বলে গালি দেন। বর এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে চুপচাপ হাসছিল। জাহাঙ্গীর সাহেব তখন বরকে ডেকে বলেন, “শিক্ষা পেলেই মানুষ ভদ্র হয় না; আপনার এই ভীরুতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের পর আমি আমার মেয়েকে আপনাদের হাতে দেব না।”

    প্রশ্ন:

    ক. অনুপমের মা নিজেকে কী মনে করে গর্ববোধ করতেন?

    খ. “তিনি কোলকাতা শহরের বাহিরটাকে অনাবশ্যক মনে করিতেন”— কথাটি কার সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং কেন?

    গ. উদ্দীপকের বর চরিত্রটির সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম চরিত্রের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    ঘ. “জাহাঙ্গীর সাহেবের মতো প্রতিবাদী বাবারাই পারেন সমাজে সৎ ও আত্ম মর্যাদাবান কন্যা গড়ে তুলতে”— মূল্যায়ন করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৮

    ক. অনুপমের মা অত্যন্ত দরিদ্র ঘরের মেয়ে হয়েও এখন সৎ ও গৃহকর্মে নিপুণা মনে করে গর্ববোধ করতেন ।

    খ. উক্তিটি অনুপমের মামা সম্পর্কে বলা হয়েছে, কারণ তিনি কোলকাতার বাইরে যাওয়া একদম পছন্দ করতেন না ।

    অনুপমের মামা ছিলেন অত্যন্ত সংকীর্ণ ভৌগোলিক ও মানসিক ভাবনার মানুষ । তিনি মনে করতেন কোলকাতা শহরের বাইরে পুরো জগতটাই অকেজো ও অপ্রয়োজনীয়। কোলকাতার বাইরে গেলে তার জীবনের নিরাপত্তা বা অভ্যস্ততা নষ্ট হতে পারে— এই মানসিক ভীতি থেকে তিনি গঙ্গার ওপারে যেতেও রাজি হতেন না ।

    গ. শ্বশুরবাড়ির প্রতি পরিবারের অমানবিক ও অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখেও বর হিসেবে নীরব থাকা এবং চরম ব্যক্তিত্বহীনতা প্রকাশের দিক থেকে উদ্দীপকের বরের সাথে অনুপমের মিল রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের মামা কনেবাড়িতে গিয়ে অলংকার মেপে কনেপক্ষকে অপমান করেন। অনুপম এমএ পাস করা যুবক হয়েও সে অন্যায়ের কোনো প্রতিবাদ করেনি।

    উদ্দীপকের বর চরিত্রটিও একই রকম। তার পরিবার যখন কনের বাবাকে খাবারের বাহানায় ছোটলোক বলে গালি দিচ্ছিল, তখন সে প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, চুপচাপ হাসছিল। অনুপমের মতোই এই বরটির মধ্যেও শিক্ষার ন্যূনতম আলো বা নিজস্ব কোনো ব্যক্তিত্ব ছিল না।

    ঘ. কনেপক্ষের আত্মসম্মান রক্ষা এবং সন্তানকে লোভী পরিবারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কন্যাকর্তাদের শম্ভুনাথ সেন বা জাহাঙ্গীর সাহেবের মতো শক্ত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে শম্ভুনাথ সেন বরপক্ষের অমানবিক আচরণ দেখে নিজের মেয়ের আত্মমর্যাদার খাতিরে বিয়ে ভেঙে দিয়েছিলেন। তার এই কঠিন সিদ্ধান্তের কারণেই কল্যাণী পরবর্তীতে স্বাধীনভাবে নিজের জীবন গড়ে তুলতে পেরেছিল।

    উদ্দীপকের জাহাঙ্গীর সাহেবও বরপক্ষের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বরের ভীরুতা দেখে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার মতো সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে মেয়ের বিয়ের চেয়ে মেয়ের আত্মসম্মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    অতএব, বাবা যদি লোভী বরপক্ষের সামনে মাথা নত না করে প্রতিবাদ করেন, তবে সমাজ থেকে নারী নির্যাতন কমবে এবং আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন কন্যা গড়ে উঠবে। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ১৯

    উদ্দীপক:

    রেলে ভ্রমণের সময় এক তরুণী দেখতে পায় ট্রেনের এক কোণে বসে এক যুবক যাত্রীদের জন্য পানি বিতরণ করছে এবং শিশুদের ছবি একে মন ভালো করছে। তরুণীটি খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যুবকটি কোনো স্বার্থের জন্য নয়, বরং মানুষের সেবা করার আনন্দ থেকেই এটি করে। তরুণীটি যুবকের এই সরলতা ও কর্মনিষ্ঠায় মুগ্ধ হয়ে তাকে শ্রদ্ধা জানায় এবং তাদের মধ্যে এক সুন্দর বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমদের ভাগ্যদেবতাকে কী বলা হয়েছে?

    খ. “এখানে জায়গা আছে”— উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।

    গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের দ্বিতীয় অংশের ট্রেনের কোন আবহকে স্মরণ করিয়ে দেয়?

    ঘ. “উদ্দীপকের ট্রেনের ঘটনাটি যেমন ইতিবাচক, ‘অপরিচিতা’ গল্পের রেলে অনুপম-কল্যাণীর দেখা হওয়াটি ছিল আত্মোপলব্ধির এক নতুন সূচনা”— বিশ্লেষণ করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ১৯

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমদের ভাগ্যদেবতাকে ‘প্রজাপতি’ বলা হয়েছে ।

    খ. ট্রেনের কামড়ায় স্থান করে দেওয়ার পাশাপাশি কল্যাণীর উদার ও নির্ভাব মানসিকতাই “এখানে জায়গা আছে” উক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে ।

    ট্রেন ভ্রমণের সময় অনুপম ও তার মা ফার্স্ট ক্লাসে জায়গা পাচ্ছিলেন না। এমন সময় কল্যাণী তার কামড়া থেকে বলে ওঠে, “এখানে জায়গা আছে।” উক্তিটি কেবল ট্রেনের সিটের জন্য ছিল না; অনুপমের কাছে তা ছিল এক নতুন আশার বাণী। পরবর্তীতে অনুপম কানপুরে গিয়ে কল্যাণীর সান্নিধ্যে থেকে সেবা করার সুযোগ পায়। কল্যাণী তাকে মনের গভীরে স্বামী হিসেবে স্থান না দিলেও সেবার সঙ্গী হিসেবে জায়গা দিয়েছিল— উক্তিটি সেই গভীর অর্থ বহন করে।

    গ. উদ্দীপকের ট্রেনের ঘটনাটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের দ্বিতীয় অংশে ট্রেনের কামড়ায় অনুপমের সাথে কল্যাণীর পুনর্মিলন এবং কল্যাণীর চঞ্চল অথচ সেবাধর্মী আচরণকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে রেলে ভ্রমণের সময় অনুপম কল্যাণীকে দেখতে পায়। কল্যাণী ছোট ছোট মেয়েদের ছবি আঁকা শেখাচ্ছিল, আনন্দ দিচ্ছিল এবং ট্রেনের সহযাত্রীদের প্রতি মায়াপূর্ণ আচরণ করছিল।

    উদ্দীপকের ট্রেনেও এক যুবক একইভাবে সেবাধর্মী মনোভাব নিয়ে শিশুদের আনন্দ দিচ্ছে ও সাহায্য করছে। ট্রেনে ভ্রমণের এই মানবিক ও সুন্দর পরিবেশটি ‘অপরিচিতা’ গল্পের রেলে কল্যাণীর উপস্থিতি ও তার মহীয়সী আচরণের স্মৃতিকেই মনে করিয়ে দেয়।

    ঘ. ট্রেন ভ্রমণ ‘অপরিচিতা’ গল্পে কেবল একটি সাধারণ সফর ছিল না, বরং তা ছিল ব্যক্তিত্বহীন অনুপমের ভেতর এক নতুন আলো ও অনুশোচনার জন্ম নেওয়ার সূচনা।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে বিয়ের আসরে বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর অনুপম কল্যাণীকে ভূলে যেতে পারেনি। পরবর্তীতে ট্রেনে যখন অনুপমের সাথে কল্যাণীর দেখা হয়, তখন সে কল্যাণীর সাহসিকতা, তেজ ও শিশুদের প্রতি ভালোবাসা দেখে নতুন করে মুগ্ধ হয়। কল্যাণীর পরিচয় পাওয়ার পর অনুপমের অন্তরে জমে থাকা ভীরুতার মেঘ কাটতে শুরু করে। সে নিজের ভীরু কাজের জন্য অনুতপ্ত হয় এবং কল্যাণীর সেবক হয়ে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

    উদ্দীপকে যেমন ট্রেনে যুবকের মানবিক কাজ তরুণীর মনে শ্রদ্ধা জাগায়, তেমনি গল্পেও ট্রেনের ঘটনাটি অনুপমকে এক নতুন মানুষে রূপান্তরিত করে। অনুপম বুঝতে পারে সাধারণ প্রাচুর্য নয়, মানুষের আসল পরিচয় তার কর্মে ও ব্যক্তিত্বে।

    সুতরাং, উদ্দীপক ও গল্পের ট্রেনের ঘটনা দুটি মানবিক গুণাবলীর বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছে এবং গল্পের ক্ষেত্রে তা অনুপমের জীবনের এক মহান আত্মোপলব্ধির সূচনা করেছিল।


    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন – ২০

    উদ্দীপক:

    একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদের জন্য সাক্ষাৎকার চলছিল। প্র প্রার্থীদের মধ্যে সোহেল ছিল অত্যন্ত ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান এবং জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিহিত। অন্যদিকে নাবিল ছিল সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। ভাইভাতে সোহেলকে তার জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে, “আমার প্রচুর টাকা আছে, আমি আরামে জীবন কাটাতে চাই।” কিন্তু নাবিলকে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলে, “আমি অর্জিত শিক্ষা দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চাই।” বোর্ড সদস্যরা সোহেলের ধনসম্পদ উপেক্ষা করে নাবিলকেই বেছে নেন।

    প্রশ্ন:

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রকাশকাল কত বঙ্গাব্দ?

    খ. “তিনি আমাদের কোনো ফাঁকি দেন নাই”— অনুপমের মামার এই উক্তির কারণ কী?

    গ. উদ্দীপকের সোহেলের মানসিকতার সাথে ‘অপরিচিতা’ গল্পের অনুপম ও তার মামার মানসিকতার তুলনা করো।

    ঘ. “বাহ্যিক চাকচিক্য বা ধনসম্পদ নয়, বরং গুণ ও নৈতিকতাই মানুষের আসল মানদণ্ড”— উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্পের আলোকে মূল্যায়ন করো।

    অপরিচিতা গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর – ২০

    ক. ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রকাশকাল ১৩২১ বঙ্গাব্দ ।

    খ. শম্ভুনাথ সেন বিয়ের আয়োজন ও আপ্যায়নে কোনো কার্পণ্য করেননি এবং যৌতুকের যা কথা ছিল তা পুঙ্খানুপুঙ্খ দিয়েছিলেন বলেই মামা এই মন্তব্য করেছিলেন ।

    অনুপমের মামা বরযাত্রী নিয়ে কনেবাড়িতে গিয়ে ভেবেছিলেন কনেপক্ষ হয়তো আয়োজনে ফাঁকি দেবে বা যৌতুক কম দেবে । কিন্তু কনেবাড়িতে গিয়ে তিনি দেখেন শম্ভুনাথ সেন অত্যন্ত ধুমধাম করে আপ্যায়ন করছেন এবং যৌতুকের সোনাও কোনো কমতি রাখেননি । কনেপক্ষের এই সততা দেখে মামা আশ্বস্ত হয়ে উক্ত কথাটি বলেছিলেন ।

    গ. বাহ্যিক ধনসম্পদ, আরাম-আয়েশ এবং অহংকারকে জীবনের সেরা বিষয় মনে করার দিক থেকে উদ্দীপকের সোহেলের মানসিকতার সাথে অনুপম ও তার মামার মানসিকতার গভীর মিল রয়েছে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপম ও তার মামা ধনসম্পদের অহংকারে মত্ত ছিলেন। মামার লক্ষ্য ছিল ধনীর ধন শোষণ করা এবং আরাম-আয়েশে দিন কাটানো। অনুপমও বাবার রেখে যাওয়া সম্পদে নিশ্চিন্ত ছিল, নিজের কোনো কর্মচেতনা বা উদ্দেশ্য ছিল না।

    উদ্দীপকের সোহেলও অনেক ধনী পরিবারের সন্তান হয়ে কেবল আরামে জীবন কাটানোকেই নিজের লক্ষ্য মনে করেছে। নৈতিক গুণ বা সেবা করার কোনো মানসিকতা তার মধ্যে ছিল না। ধনসম্পদের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের বড় মনে করার মানসিকতায় তারা একই ধারার।

    ঘ. সমাজের বুকে কেবল অর্থ বা রূপের অহংকার দিয়ে সম্মান অর্জন করা যায় না; মানুষের আসল পরিচয় ফুটে ওঠে তার নীতি, চরিত্র ও কর্মের মাধ্যমে।

    ‘অপরিচিতা’ গল্পে অনুপমের টাকা-পয়সা, সুপুরুষ চেহারা ও এমএ ডিগ্রি ছিল। কিন্তু তার নিজস্ব নীতি ও ব্যক্তিত্ব ছিল না। অন্যদিকে শম্ভুনাথ সেন ও কল্যাণী অর্থবিত্তে অনুপমদের মতো অত ধনী না হলেও তাদের নৈতিকতা ও আত্মসম্মানবোধ ছিল তুঙ্গে। ফলে বিয়ের আসরে অনুপমের পরিবার অলংকার মেপে ছোট হয়ে যায় এবং শম্ভুনাথ সেনের নৈতিক জয় হয়।

    উদ্দীপকেও সোহেলের অঢেল টাকা থাকা সত্ত্বেও বোর্ড সদস্যরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তার মধ্যে মানবসেবা বা নীতির অভাব ছিল। অন্যদিকে নাবিল তার সততা ও সমাজসেবার সদিচ্ছা দিয়ে চাকরি লাভ করেছে।

    অতএব, ধনসম্পদ বা বাহ্যিক চাকচিক্য ক্ষণস্থায়ী; মানুষের প্রকৃত যোগ্যতা ও সম্মান নির্ধারিত হয় তার নৈতিক গুণাবলী দিয়ে। উদ্দীপক ও ‘অপরিচিতা’ গল্প উভয়ই এই পরম সত্যকে প্রতিষ্ঠা করে।


    উপসংহার

    এইচএসসি বাংলা ১ম পত্রের পরীক্ষায় অনন্য নম্বর অর্জনের মূল চাবিকাঠি হলো সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর প্রদান করা এবং গল্পের মূল উপজীব্যকে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা । ‘অপরিচিতা’ গল্পটি একদিকে যেমন যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে এক প্রতিবাদী বার্তা বহন করে, অন্যদিকে এটি একজন নারীর স্বাবলম্বী ও আত্মমর্যাদাশীল হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা জোগায় । এই সংকলিত সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরগুলো চর্চা করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষামুখী উত্তর লেখার কৌশলই শিখবে না, বরং গল্পের প্রতিটি চরিত্র ও ঘটনার গভীর ভাবার্থ উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে । আশা করা যায়, অনুশীলনভিত্তিক এই চর্চা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে এবং এইচএসসি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জনে এক নির্ভরযোগ্য গাইড হিসেবে ভূমিকা রাখবে ।

    Views: 1

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins

    Share with

    Right Menu Icon