গর্ভাবস্থায় কোন খাবার খেলে বাচ্চার ওজন দ্রুত বাড়ে | Pregnancy Diet for Baby Weight Gain
গর্ভাবস্থার শেষ দিকে এসে অনেক মায়েই ভাবেন— “বাচ্চার ওজন ঠিক আছে তো?” অনেক সময় ডাক্তার বাচ্চার ওজন বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কিছু খাবার খেতে বলেন। কারণ শিশুর সঠিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ এবং জন্মের সময় ভালো ওজন নিশ্চিত করতে মায়ের পুষ্টির বিকল্প নেই।
এই আর্টিকেলে জানবেন— কোন খাবারগুলো গর্ভের শিশুর ওজন দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বাড়াতে সাহায্য করে এবং কীভাবে আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে সেগুলো যুক্ত করবেন।
১. প্রোটিন — শিশুর ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান
প্রোটিন হলো শরীরের টিস্যু, কোষ, পেশী এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনের মূল উপাদান।
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত প্রোটিন খেলে শিশুর ওজন স্বাস্থ্যকরভাবে বাড়ে।
সেরা প্রোটিনের উৎস
-
ডিম – উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন
-
চর্বিহীন মুরগি/মাংস
-
স্যামনসহ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ
-
ডাল, ছোলা, মটরশুঁটি
-
সয়াবিন বা টোফু
-
বাদাম ও বীজ (আখরোট, কাঠবাদাম)
টিপস: সকালে একটি সেদ্ধ ডিম, দুপুরে ঘন ডালের ঝোল এবং মাঝে বাদাম খেলে দৈনিক প্রোটিনের বড় অংশ পূরণ হয়ে যায়।
২. ক্যালসিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট — হাড় মজবুত ও দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে কার্যকর
শিশুর হাড়, দাঁত, স্নায়ু ও শরীরের গঠন তৈরি করতে ক্যালসিয়াম অপরিহার্য।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শিশুর মস্তিষ্ক, চোখ এবং স্নায়ুতন্ত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ক্যালসিয়ামের উৎস
-
দুধ
-
দই
-
পনির (ঘরে তৈরি ভালো)
স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস
-
অ্যাভোকাডো
-
মাছ ও মাছের তেল (ওমেগা-৩)
-
ঘি
-
নারকেল তেল
টিপস: রাতের খাবারের সাথে এক গ্লাস দুধ ও দিনে ১-২ টেবিল চামচ ঘি বা নারকেল তেল ব্যবহার করলে অতিরিক্ত ক্যালরি যোগ হয়।
৩. জটিল কার্বোহাইড্রেট — শক্তি ও স্থায়ী ক্যালরি সরবরাহ
গর্ভাবস্থায় শুধুমাত্র ক্যালরি নয়, সঠিক ক্যালরি নেওয়াই জরুরি।
সেরা জটিল কার্বস
-
ব্রাউন রাইস বা লাল চাল
-
ওটস
-
লাল আটার রুটি
-
সেমাই বা সুজি (কম তেলে)
এসব খাবার শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি দেয় এবং শিশুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
৪. ভিটামিন ও মিনারেলস — সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশু
যদি মা সুস্থ না থাকেন, শিশুর ওজন বাড়ার গতি কমে যায়। তাই রঙিন ফল ও সবজির ভূমিকা অপরিহার্য।
যে খাবারগুলো বিশেষভাবে সহায়ক
-
কলা – তাৎক্ষণিক ক্যালরি
-
মিষ্টি আলু – উচ্চ পুষ্টির উৎস
-
গাঢ় সবুজ শাক (পালং, কলমি) – আয়রন সমৃদ্ধ
-
খেজুর ও কিশমিশ – প্রাকৃতিক শক্তি ও ক্যালরি
গর্ভবতী মায়েদের গুরুত্বপূর্ণ টিপস
টিপস ১: অল্প অল্প করে বারবার খান
প্রতি ২–৩ ঘণ্টা পর পর ছোট মিল নিন। এতে বমি বমি ভাব কমে এবং পুষ্টি শোষণ বাড়ে।
টিপস ২: পর্যাপ্ত পানি পান করুন
দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করুন।
পানি পুষ্টি উপাদানকে শরীরে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে।
সতর্কতা
এই খাবারগুলো শুরু করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
কারণ সবার শারীরিক অবস্থা এবং প্রয়োজন এক নয়।
গর্ভাবস্থায় শিশুর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার অত্যন্ত জরুরি। মনে রাখবেন—
সুস্থ মা মানেই সুস্থ শিশু।
নিজের যত্ন নিন, চাপমুক্ত থাকুন, আর পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খান।
মনের রঙের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url