• অপরিচিতা গল্প
  • অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

    একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্রের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ একটি অত্যন্ত আবেদনময় ও তাৎপর্যপূর্ণ সৃষ্টি । গল্পটি যেমন তৎকালীন সমাজব্যবস্থার যৌতুকপ্রথার অন্ধ মানসিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তেমনি এক ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের অনুশোচনা ও এক আত্মমর্যাদাশীল নারীর জাগরণকে ফুটিয়ে তোলে । এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষাবিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য গল্পের মূল কাহিনীর পাশাপাশি খুঁটিনাটি তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি । বিশেষ করে সৃজনশীল প্রশ্নের ‘ক’ নম্বর জ্ঞানমূলক অংশে ১০০% নম্বর নিশ্চিত করতে পাঠ্যবইয়ের চরিত্র, পটভূমি, উক্তি ও শব্দার্থের ওপর পূর্ণ দখল থাকা চাই । শিক্ষার্থীদের এই প্রস্তুতিকে সহজ, নিখুঁত ও সমৃদ্ধ করতে ‘অপরিচিতা’ গল্প থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ইউনিক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো, যা পরীক্ষার আগে একনজরে ঝালাই করে নেওয়ার জন্য একটি আদর্শ গাইড হিসেবে কাজ করবে ।


    অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

    নিচে ‘অপরিচিতা’ গল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো । যা শিক্ষার্থীকে এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নিখুঁত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে ।


    ১. ‘অপরিচিতা’ নামক কালজয়ী গল্পটির স্রষ্টা কে?

    উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

    ২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কত বঙ্গাব্দে এবং খ্রিস্টাব্দে?

    উত্তর: ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৭ই মে)।

    ৩. রবীন্দ্রনাথ কত সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন?

    উত্তর: ১৯১৩ সালে (‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য)।

    ৪. কোন সাহিত্য পত্রিকায় ‘অপরিচিতা’ প্রথম আত্মপ্রকাশ করে?

    উত্তর: প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ নামীয় পত্রিকায়।

    ৫. ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার কোন বর্ষে ও সংখ্যায় গল্পটি ছাপা হয়েছিল?

    উত্তর: ১৩২১ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায়।

    ৬. রবীন্দ্রনাথের কোন সংকলনে ‘অপরিচিতা’ প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়?

    উত্তর: ‘গল্পসপ্তক’ সংকলনে (যা পরবর্তী সময়ে ‘গল্পগুচ্ছ’ ৩য় খণ্ডে যুক্ত হয়)।

    ৭. ‘অপরিচিতা’ কাহিনীর মূল বয়ানকারী বা কথক কে?

    উত্তর: কাহিনীর মুখ্য চরিত্র অনুপম।

    ৮. গল্পের সূচনালগ্নে অনুপমের বর্তমান বয়স কত ছিল?

    উত্তর: সাতাশ (২৭) বছর।

    ৯. অনুপম তার জীবনপঞ্জির কোন বয়সটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছে?

    উত্তর: তেইশ (২৩) বছর বয়সকে, কারণ ওই সময়েই তার বিয়ের লগ্ন নির্ধারিত হয়েছিল।

    ১০. অনুপমের প্রয়াত পিতা পেশাগতভাবে কী করতেন?

    উত্তর: তিনি পেশায় একজন আইনজীবী বা ওকালতি পেশার মানুষ ছিলেন।

    ১১. অনুপম কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ কী ডিগ্রি অর্জন করেছিল?

    উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এম.এ) সনদ লাভ করেছিল।

    ১২. অনুপমের বাবা কখন ইহলোক ত্যাগ করেন?

    উত্তর: ওকালতিতে প্রচুর অর্থ উপার্জনের পর, সেই সম্পত্তি উপভোগ করার অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই।

    ১৩. অনুপমের মা কেমন আর্থ-সামাজিক পটভূমির মেয়ে ছিলেন?

    উত্তর: নিতান্তই নির্ধন ও সাধারণ ঘরের মেয়ে।

    ১৪. অনুপমের বাহ্যিক রূপ দেখতে কেমন ছিল?

    উত্তর: বেশ সুদর্শন ও গৌরবর্ণ (যাকে পণ্ডিত মহাশয় কৌতুক করে ‘শিমুল ফুল’ ও ‘মাকাল ফল’ বলতেন)।

    ১৫. অনুপমের পরিবারে আসল নীতি-নির্ধারক বা কর্তৃত্ব কার হাতে ছিল?

    উত্তর: অনুপমের জেঠতুতো মামার হাতে।

    ১৬. বয়সের বিচারে মামা অনুপমের চেয়ে ঠিক কতদিনের বড় ছিলেন?

    উত্তর: প্রায় ছয় থেকে সাত বছরের বড়।

    ১৭. নিজের অবস্থান বোঝাতে অনুপম কোন পৌরাণিক দৃশ্যের উপমা দিয়েছে?

    উত্তর: অন্নপূর্ণার কোলে উপবিষ্ট শিশু গজাননের (গণেশ) সাথে।

    ১৮. অনুপমের মামা কেমন পরিবারে ভাগ্নের বিয়ে দিতে আগ্রহী ছিলেন?

    আরও পড়ুন:  অপরিচিতা গল্প (Oporichita) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    উত্তর: এমন পরিবার যা বিত্তে আভিজাত্যহীন হলেও কন্যাপক্ষ প্রচুর যৌতুক দিতে সক্ষম।

    ১৯. অনুপমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নাম কী ছিল?

    উত্তর: হরিশ।

    ২০. অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কর্মে নিযুক্ত ছিল?

    উত্তর: কানপুরে।

    ২১. অনুপমের কাছে বিয়ের প্রথম সংবাদটি কে নিয়ে আসে?

    উত্তর: কানপুর ফেরত বন্ধু হরিশ (হরিশ্চন্দ্র)।

    ২২. কল্যাণীর পিতার নাম কী?

    উত্তর: ড. শম্ভুনাথ সেন।

    ২৩. শম্ভুনাথ সেন পেশায় কী ছিলেন?

    উত্তর: অতীতে বিত্তশালী থাকলেও পরবর্তীতে কানপুরের একজন সাধারণ চিকিৎসাজীবী।

    ২৪. প্রথম দর্শনে শম্ভুনাথ সেনের বয়স আনুমানিক কত মনে হতো?

    উত্তর: চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ বছরের মতো।

    ২৫. বিয়ের আলোচনার সময় কন্যা কল্যাণীর বয়স কত ছিল?

    উত্তর: পনেরো (১৫) বছর।

    ২৬. ‘অপরিচিতা’ রচনায় কার অন্তর্নিহিত লোভকে ‘ফল্গু নদীর’ সাথে তুলনা করা হয়েছে?

    উত্তর: অনুপমের মামার ভেতরের অর্থলিপ্সাকে।

    ২৭. অনুপমের মামার দৃষ্টিতে বিয়ের প্রধান মুখ্য বিষয় কী ছিল?

    উত্তর: কন্যাপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও অর্থ আদায় করা।

    ২৮. কনে স্বচক্ষে দেখতে অনুপমদের পক্ষ থেকে কাকে কানপুরে পাঠানো হয়?

    উত্তর: অনুপমের মামাতো/পিসতুতো ভাগ্নে বিনুকে (বিনোদ)।

    ২৯. বিনুর পছন্দের বিশেষত্ব বা রুচি কেমন ছিল?

    উত্তর: অত্যন্ত স্বল্পভাষী; বিনু কোনো কিছুকে ভালো বললে বুঝতে হতো তা বাস্তবিকই চমৎকার।

    অপরিচিতা গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

    ৩০. কনে প্রত্যক্ষ করার পর বিনু কী মন্তব্য প্রকাশ করেছিল?

    উত্তর: “মন্দ নয় হে! খাসা মেয়ে।”

    ৩১. কন্যা পাত্রস্থ করার উদ্দেশ্যে শম্ভুনাথ সেন কোথায় এসেছিলেন?

    উত্তর: কলকাতায় বরপক্ষের বাসভবনে।

    ৩২. প্রথম পরিচয়ে শম্ভুনাথ সেন অনুপমকে কী দিয়ে আশীর্বাদ করেন?

    উত্তর: একটি সাধারণ অলংকার আংটি ও আশীর্বাদী বস্ত্র।

    ৩৩. অনুপমের মামা নিজে কেন আগে কনে দেখতে কানপুর যাননি?

    উত্তর: ভাগ্নে বিনুর রুচি ও সিদ্ধান্তের ওপর তার অগাধ ভরসা ছিল।

    ৩৪. বিয়ের ছাদনাতলায় মামা কাকে সাথে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন?

    উত্তর: তাদের বংশানুক্রমিক বিশ্বস্ত সেকরা বা স্বর্ণকারকে।

    ৩৫. মামা কেন বিয়ের আসরে স্বর্ণকার সঙ্গে এনেছিলেন?

    উত্তর: কনেপক্ষের দেওয়া স্বর্ণালংকারের খাদ ও ওজন মেপে নিশ্চিত হতে।

    ৩৬. অনুপমদের আনা সেই সেকরার মূল কাজ কী ছিল?

    উত্তর: সোনা যাচাই করে সত্যতা ও বিশুদ্ধতা নিরূপণ করা।

    ৩৭. অলংকার যাচাইয়ের প্রস্তাব শুনে শম্ভুনাথ সেন কেমন আচরণ করেন?

    উত্তর: তিনি কোনো তর্ক না করে নিরাসক্তভাবে গহনার বাক্স সেকরার হাতে সঁপে দেন।

    ৩৮. যাচাই শেষে অলংকার সম্পর্কে সেকরা কী অভিমত দেয়?

    উত্তর: গহনাগুলো শুধু নিখাদ সোনাই নয়, বরং অলংকারগুলোর গঠন অনুপমদের গহনার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

    ৩৯. কনেকে দেওয়া অলংকারের মধ্যে প্রধান আকর্ষণ কী ছিল?

    উত্তর: মকরমুখো একজোড়া স্বর্ণবালা ও একটি মূল্যবান কণ্ঠহার।

    ৪০. সোনার অলংকার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শম্ভুনাথ সেন কী পদক্ষেপ নেন?

    উত্তর: বরপক্ষকে অত্যন্ত সসম্মানে ভোজ খাইয়ে আপ্যায়িত করেন।

    ৪১. ভোজন শেষ হওয়ার পর শম্ভুনাথ সেন মামাকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় কী জানান?

    উত্তর: তিনি এই পরিবারে নিজের কন্যা সম্প্রদান করবেন না।

    ৪২. শম্ভুনাথ সেনের বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্তকে মামা প্রারম্ভে কী মনে করেছিলেন?

    উত্তর: নিছক একটি কৌতুক বা ঠাট্টা।

    ৪৩. মামার মন্তব্যের জবাবে শম্ভুনাথ সেন কী প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন?

    উত্তর: “ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।”

    ৪৪. বিয়ের আসর থেকে অনুপমের পরিবার কীভাবে প্রত্যাবর্তন করেছিল?

    উত্তর: চরম লজ্জিত ও অপমানিত হয়ে না-খেয়ে বরবেশেই ফিরে এসেছিল।

    ৪৫. শুভলগ্নে বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার সময় অনুপম কোথায় বসা ছিল?

    উত্তর: বর সাজে ছাদনাতলায় যাওয়ার প্রতীক্ষায় বাসরে/সাজঘরে।

    ৪৬. ঘটনা ঘটার পর অনুপমের জননী কেমন প্রতিক্রিয়া দেখান?

    উত্তর: তিনি কনেপক্ষের আচরণে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের দাম্ভিক বলেন।

    আরও পড়ুন:  অপরিচিতা গল্পের মূল কথা - বাংলা সাহিত্য পাঠ একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    ৪৭. বিয়ের আসরে বরপ্রত্যাখ্যানের পর সমাজে অনুপমের পরিবারের কেমন অবস্থা হয়?

    উত্তর: তারা ঘোর অপমানিত হয় এবং লোকমুখে হাস্যাস্পদে পরিণত হয়।

    ৪৮. ঘটনার কতদিন পর শম্ভুনাথ সেন কন্যাসহ কলকাতা ত্যাগ করেন?

    উত্তর: বিবাহ ভণ্ডুল হওয়ার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই।

    ৪৯. বিবাহ ভেঙে যাওয়ার পর অনুপম কত বছর মানসিক হতাশায় কাটিয়েছিল?

    উত্তর: প্রায় তিনটি বছর।

    ৫০. অনুপমকে দ্বিতীয়বার পাত্রস্থ করতে মামা কেন ব্যর্থ হয়েছিলেন?

    উত্তর: অনুপমের মনে কল্যাণীর প্রতি প্রচ্ছন্ন প্রেম জেগে ওঠায় সে অন্য কোথাও বিয়েতে সায় দেয়নি।

    ৫১. অনুপম কার সঙ্গী হয়ে রেলে ভ্রমণ করছিল?

    উত্তর: তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে বের হওয়া তার মাতার সঙ্গী হয়ে।

    ৫২. অনুপম ও তার মা ট্রেনের কোন শ্রেণিতে যাত্রা করছিলেন?

    উত্তর: ফার্স্ট ক্লাস বা প্রথম শ্রেণির কামরায়।

    ৫৩. অনুপম কোন স্থানে প্রথম সেই মিষ্ট ও সুদৃঢ় কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিল?

    উত্তর: একটি অন্তর্বর্তী ছোট রেলস্টেশনে (যেখানে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো)।

    ৫৪. সেই নারী কণ্ঠটি স্টেশনে সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে কী বলছিল?

    উত্তর: “গাড়ি চড়িবার জায়গা আছে, শীঘ্র চলিয়া আইস।”

    ৫৫. অনুপমের সহযাত্রীরা কার ভয়ে তটস্থ ও সংকুচিত ছিল?

    উত্তর: ট্রেনের প্রথম শ্রেণিতে ভ্রমণরত ইংরেজ সাহেবের ভয়ে।

    ৫৬. রেলওয়ের কোন কর্মীবৃন্দ ইংরেজ সাহেবের কাছে বিনয়ী ছিল?

    উত্তর: গার্ড ও স্থানীয় স্টেশন মাস্টার।

    ৫৭. ইংরেজ সাহেব বগি খালি করতে বললে কল্যাণী কী প্রতিবাদ করেছিল?

    উত্তর: সে সাফ জানিয়ে দেয় যে টিকিট কাটা থাকায় তারা কামরা ছাড়বে না।

    ৫৮. যাত্রাপথে ট্রেনের কামরায় কল্যাণী শিশুদের মাঝে কী বিতরণ করছিল?

    উত্তর: চকোলেট ও নানা ধরনের খাবার।

    ৫৯. ট্রেনের কামরায় কল্যাণীর সফরসঙ্গী হিসেবে আর কারা ছিল?

    উত্তর: তার পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং বিদ্যালয়ের কয়েকটি বালিকা।

    ৬০. অনুপম ট্রেনে সেই মেয়েটির নাম প্রথম কীভাবে জানতে পারে?

    উত্তর: একটি ছোট বালিকা তাকে ‘কল্যাণী’ নামে ডেকে ওঠায়।

    ৬১. কোন দৃশ্যে অনুপম নিশ্চিত হয় যে এই মেয়েটিই তার বাগদত্তা ছিল?

    উত্তর: কানপুর স্টেশনে শম্ভুনাথ সেনকে ট্রেন থেকে নামতে দেখে।

    ৬২. কানপুর স্টেশনে শম্ভুনাথ সেনকে দেখে অনুপমের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

    উত্তর: সে অবিলম্বে এগিয়ে গিয়ে বিনম্রভাবে তাঁর পদধূলি গ্রহণ করে।

    ৬৩. অনুপম কানপুরে শম্ভুনাথ সেনের সমীপে কী প্রকাশ করেছিল?

    উত্তর: অতীতের কাপুরুষতার জন্য গভীর অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা।

    ৬৪. কল্যাণী কানপুরে নিজেকে কোন ব্রতে নিয়োজিত রেখেছিল?

    উত্তর: একটি বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা ও স্ত্রীশিক্ষার প্রসারে।

    ৬৫. অনুপমের বিবাহের প্রস্তাবে কল্যাণী কী জবাব দিয়েছিল?

    উত্তর: সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না।

    ৬৬. বিয়ে না করার পেছনে কল্যাণী কী আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিল?

    উত্তর: সে ‘মাতৃআজ্ঞা’ অর্থাৎ দেশসেবার সংকল্প গ্রহণ করেছে।

    ৬৭. কল্যাণীর জীবন পরিচালনার মূল সংকল্প কী ছিল?

    উত্তর: নারীসমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা।

    ৬৮. গল্পের সমাপনীতে অনুপম নিজের পরিচয় কীভাবে তুলে ধরেছে?

    উত্তর: কল্যাণীর মহৎ কাজের একজন একনিষ্ঠ সেবক ও অনুগামী হিসেবে।

    ৬৯. অনুপমের অন্তরে সারাক্ষণ কোন বাক্যটি গুঞ্জরিত হচ্ছিল?

    উত্তর: “জায়গা আছে।”

    অপরিচিতা গল্প একাদশ শ্রেণির জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

    ৭০. ‘অপরিচিতা’ গল্পে মুখ্যত কোন সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে আঘাত করা হয়েছে?

    উত্তর: পণপ্রথা বা যৌতুকপ্রথা এবং নারীর প্রতি অসম্মানের বিরুদ্ধে।

    ৭১. পণ্ডিত মশায় অনুপমের অসাড় সৌন্দর্যকে কিসের সাথে তুলনা করতেন?

    উত্তর: শিমুল পুষ্প ও মাকাল ফলের সাথে।

    ৭২. অনুপমের সুদর্শন রূপকে কিসের রূপক দেওয়া হয়েছে?

    উত্তর: দেব সেনাপতি কার্তিকের মতো।

    ৭৩. অনুপমের জীবনে কার মতামত মকরশৃঙ্খলের হীরার মতো শক্ত বন্ধন ছিল?

    উত্তর: মামাতো/পিসতুতো ভাই বিনুর।

    ৭৪. শম্ভুনাথ সেনের ব্যক্তিত্বকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছিল?

    আরও পড়ুন:  অপরিচিতা গল্পের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি

    উত্তর: ঢাকনা বন্ধ রাখা মূল্যবান ফাউন্টেন পেনের সাথে (যার ধার বাইরে থেকে বোঝা যায় না)।

    ৭৫. শব্দার্থের দিক থেকে ‘অনুপম’ নামের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?

    উত্তর: যার কোনো তুলনা হয় না বা অতুলনীয়।

    ৭৬. অনুপম তার সমগ্র জীবনকে কয়টি পর্বে বা অঙ্কে ভাগ করে বর্ণনা করেছে?

    উত্তর: দুটি অঙ্কে (প্রথমটি পরাধীন জীবনের; দ্বিতীয়টি কল্যাণীর স্মৃতিপূত জীবনের)।

    ৭৭. গল্পে ব্যবহৃত ‘প্রদোষ’ শব্দটির অভিধানিক অর্থ কী?

    উত্তর: সায়াহ্ন বা গোধূলিলগ্ন।

    ৭৮. ‘গজানন’ বলতে গল্পে কাকে বোঝানো হয়েছে?

    উত্তর: পৌরাণিক দেবতা গণেশকে।

    ৭৯. ‘অন্নপূর্ণা’ শব্দের অর্থ ও রূপক কী?

    উত্তর: পৌরাণিক শস্য ও প্রাচুর্যের দেবী দেবী দুর্গার এক রূপ।

    ৮০. ‘ফল্গু’ শব্দের ভৌগোলিক ও সাহিত্যিক পরিচয় কী?

    উত্তর: ভারতের একটি অন্তঃসলিলা নদী (যার উপরিতলে বালি থাকলেও তলদেশে জলপ্রবাহ বিদ্যমান)।

    ৮১. ‘অপরিচিতা’ রচনার কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কে?

    উত্তর: কল্যাণী।

    ৮২. ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল নায়ক চরিত্র কে?

    উত্তর: অনুপম।

    ৮৩. অনুপমের মায়ের মানসিকতা কেমন ছিল?

    উত্তর: পুত্রমোহে অন্ধ, ঐতিহ্যবাদী ও পরনির্ভরশীল সামন্তীয় মানসিকতার।

    ৮৪. অনুপমের মামা চরিত্রটি কিসের প্রতিনিধিত্ব করে?

    উত্তর: যৌতুকলোভী, সংকীর্ণ ও সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত মানসিকতার।

    অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

    ৮৫. শম্ভুনাথ সেন চরিত্রটি কিসের বার্তা বহন করে?

    উত্তর: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আত্মসম্মান ও দৃঢ় পিতৃত্বের বার্তা।

    ৮৬. গল্পে ‘সেকরা’ চরিত্রটির আগমন কিসের প্রতীক?

    উত্তর: বরপক্ষের চরম অবিশ্বস্ততা ও হীন মানসিকতার প্রতীক।

    ৮৭. রেল স্টেশন থেকে বিদায়লগ্নে কল্যাণী অনুপমকে কী বলেছিল?

    উত্তর: “আমাদের জায়গা আছে।”

    ৮৮. অনুপমের জীবনের প্রধান ব্যর্থতা কোথায় ছিল?

    উত্তর: নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও মেরুদণ্ড না থাকায় যোগ্য সঙ্গিনীকে হারানো।

    ৮৯. অনুপম কানপুরে গিয়ে কোথায় অবস্থান গ্রহণ করেছিল?

    উত্তর: কল্যাণী যে স্থানে কাজ করত তার কাছাকাছি একটি আবাসে।

    ৯০. কল্যাণী চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে কোন নতুন ধারার প্রতীক?

    উত্তর: আধুনিক, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, দেশপ্রেমিক ও স্বাবলম্বী নারী জাগরণের।

    ৯১. ‘আস্ফালনী’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ কী?

    উত্তর: লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা বা আস্ফালন করার ভাব।

    ৯২. ‘ছাদনাতলা’ বলতে সাহিত্যের ভাষায় কী বোঝায়?

    উত্তর: বিয়ের প্রধান মণ্ডপ বা অনুষ্ঠানস্থল।

    ৯৩. ‘স্বয়ম্বরা’ শব্দটির সঠিক অর্থ কী?

    উত্তর: যে নারী নিজেই নিজের জীবনসঙ্গী বা স্বামী পছন্দ করে নেয়।

    ৯৪. ‘সৌম্য’ শব্দটির প্রতিশব্দ কী?

    উত্তর: প্রশান্ত, শান্ত বা সুন্দর।

    ৯৫. ‘প্রোষিতভর্তৃকা’ ভাবের প্রতিফলন গল্পে কীভাবে ঘটে?

    উত্তর: অনুপমের বিরহবেদনা ও অনুশোচনার মানসিকতায়।

    ৯৬. ‘কুল’ ও ‘কূল’ শব্দের পার্থক্যে গল্পে বংশ বোঝাতে কোনটি ব্যবহৃত হয়েছে?

    উত্তর: ‘কুল’ (যেমন: সৎ কুল)।

    ৯৭. ‘মাতৃআজ্ঞা’ শব্দটিতে কল্যাণী কিসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে?

    উত্তর: পরাধীন ভারতমাতা বা স্বদেশ সেবার প্রতি।

    ৯৮. অনুপমকে তার পরিবার কীভাবে বড় করে তুলেছিল?

    উত্তর: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে খাঁচার পাখির মতো কোনো দায়িত্ব ছাড়া।

    ৯৯. ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বার্তা বা মূলভাব কী?

    উত্তর: পণপ্রথার নির্মমতাকে ধিক্কার জানানো এবং নারীর আত্মমর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করা।

    ১০০. রবীন্দ্রনাথের ‘অপরিচিতা’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে রচিত?

    উত্তর: প্রমথ চৌধুরীর চলতি ভাষার ‘সবুজপত্র’ যুগে (বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে)।


    উপসংহার

    এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র ও যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে জ্ঞানমূলক বা ‘ক’ নম্বর প্রশ্নের সঠিক ও সংক্ষিপ্ত উত্তরের ভূমিকা অপরিসীম । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রতিটি লাইন, চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ থেকে সূক্ষ্ম তথ্যগুলো আয়ত্তে রাখা পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ১০০টি অনন্য প্রশ্ন ও উত্তর শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভরশীল না করে গল্পের গভীর খুঁটিনাটি সহজে স্মরণে রাখতে সাহায্য করবে । আশা করা যায়, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করে তুলতে পারবে এবং পরীক্ষায় যেকোনো জ্ঞানমূলক প্রশ্নের শতভাগ সঠিক উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের দিকে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে ।

    Views: 0

    Admin

    Moner Rong (মনের রঙ) একটি সৃজনশীল বাংলা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আমরা জীবনবোধ, সাহিত্য এবং ভ্রমণের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করি । আমাদের পাঠকদের জন্য আমরা নিয়মিত মৌলিক কবিতা, হৃদয়স্পর্শী গল্প, জীবনমুখী মোটিভেশনাল আর্টিকেল এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের নিখুঁত ট্রাভেল গাইড শেয়ার করি । মানসম্মত কন্টেন্ট এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে পাঠকদের মনের খোরাক জোগানোই আমাদের মূল লক্ষ্য । আপনি যদি সাহিত্যপ্রেমী হন বা নতুন কোনো ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে 'মনের রঙ' হতে পারে আপনার প্রতিদিনের সঙ্গী । আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ ।"
    1 mins

    Share with

    Right Menu Icon