একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা ১ম পত্রের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ একটি অত্যন্ত আবেদনময় ও তাৎপর্যপূর্ণ সৃষ্টি । গল্পটি যেমন তৎকালীন সমাজব্যবস্থার যৌতুকপ্রথার অন্ধ মানসিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তেমনি এক ব্যক্তিত্বহীন পুরুষের অনুশোচনা ও এক আত্মমর্যাদাশীল নারীর জাগরণকে ফুটিয়ে তোলে । এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য গল্পের মূল কাহিনীর পাশাপাশি খুঁটিনাটি তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি । বিশেষ করে সৃজনশীল প্রশ্নের ‘ক’ নম্বর জ্ঞানমূলক অংশে ১০০% নম্বর নিশ্চিত করতে পাঠ্যবইয়ের চরিত্র, পটভূমি, উক্তি ও শব্দার্থের ওপর পূর্ণ দখল থাকা চাই । শিক্ষার্থীদের এই প্রস্তুতিকে সহজ, নিখুঁত ও সমৃদ্ধ করতে ‘অপরিচিতা’ গল্প থেকে ১০০টি গুরুত্বপূর্ণ ও ইউনিক জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো, যা পরীক্ষার আগে একনজরে ঝালাই করে নেওয়ার জন্য একটি আদর্শ গাইড হিসেবে কাজ করবে ।
অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
নিচে ‘অপরিচিতা’ গল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর দেওয়া হলো । যা শিক্ষার্থীকে এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নিখুঁত দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে ।
১. ‘অপরিচিতা’ নামক কালজয়ী গল্পটির স্রষ্টা কে?
উত্তর: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম কত বঙ্গাব্দে এবং খ্রিস্টাব্দে?
উত্তর: ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ (ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৭ই মে)।
৩. রবীন্দ্রনাথ কত সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন?
উত্তর: ১৯১৩ সালে (‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য)।
৪. কোন সাহিত্য পত্রিকায় ‘অপরিচিতা’ প্রথম আত্মপ্রকাশ করে?
উত্তর: প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত ‘সবুজপত্র’ নামীয় পত্রিকায়।
৫. ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার কোন বর্ষে ও সংখ্যায় গল্পটি ছাপা হয়েছিল?
উত্তর: ১৩২১ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যায়।
৬. রবীন্দ্রনাথের কোন সংকলনে ‘অপরিচিতা’ প্রথম অন্তর্ভুক্ত হয়?
উত্তর: ‘গল্পসপ্তক’ সংকলনে (যা পরবর্তী সময়ে ‘গল্পগুচ্ছ’ ৩য় খণ্ডে যুক্ত হয়)।
৭. ‘অপরিচিতা’ কাহিনীর মূল বয়ানকারী বা কথক কে?
উত্তর: কাহিনীর মুখ্য চরিত্র অনুপম।
৮. গল্পের সূচনালগ্নে অনুপমের বর্তমান বয়স কত ছিল?
উত্তর: সাতাশ (২৭) বছর।
৯. অনুপম তার জীবনপঞ্জির কোন বয়সটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করেছে?
উত্তর: তেইশ (২৩) বছর বয়সকে, কারণ ওই সময়েই তার বিয়ের লগ্ন নির্ধারিত হয়েছিল।
১০. অনুপমের প্রয়াত পিতা পেশাগতভাবে কী করতেন?
উত্তর: তিনি পেশায় একজন আইনজীবী বা ওকালতি পেশার মানুষ ছিলেন।
১১. অনুপম কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ কী ডিগ্রি অর্জন করেছিল?
উত্তর: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এম.এ) সনদ লাভ করেছিল।
১২. অনুপমের বাবা কখন ইহলোক ত্যাগ করেন?
উত্তর: ওকালতিতে প্রচুর অর্থ উপার্জনের পর, সেই সম্পত্তি উপভোগ করার অবকাশ পাওয়ার পূর্বেই।
১৩. অনুপমের মা কেমন আর্থ-সামাজিক পটভূমির মেয়ে ছিলেন?
উত্তর: নিতান্তই নির্ধন ও সাধারণ ঘরের মেয়ে।
১৪. অনুপমের বাহ্যিক রূপ দেখতে কেমন ছিল?
উত্তর: বেশ সুদর্শন ও গৌরবর্ণ (যাকে পণ্ডিত মহাশয় কৌতুক করে ‘শিমুল ফুল’ ও ‘মাকাল ফল’ বলতেন)।
১৫. অনুপমের পরিবারে আসল নীতি-নির্ধারক বা কর্তৃত্ব কার হাতে ছিল?
উত্তর: অনুপমের জেঠতুতো মামার হাতে।
১৬. বয়সের বিচারে মামা অনুপমের চেয়ে ঠিক কতদিনের বড় ছিলেন?
উত্তর: প্রায় ছয় থেকে সাত বছরের বড়।
১৭. নিজের অবস্থান বোঝাতে অনুপম কোন পৌরাণিক দৃশ্যের উপমা দিয়েছে?
উত্তর: অন্নপূর্ণার কোলে উপবিষ্ট শিশু গজাননের (গণেশ) সাথে।
১৮. অনুপমের মামা কেমন পরিবারে ভাগ্নের বিয়ে দিতে আগ্রহী ছিলেন?
উত্তর: এমন পরিবার যা বিত্তে আভিজাত্যহীন হলেও কন্যাপক্ষ প্রচুর যৌতুক দিতে সক্ষম।
১৯. অনুপমের ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নাম কী ছিল?
উত্তর: হরিশ।
২০. অনুপমের বন্ধু হরিশ কোথায় কর্মে নিযুক্ত ছিল?
উত্তর: কানপুরে।
২১. অনুপমের কাছে বিয়ের প্রথম সংবাদটি কে নিয়ে আসে?
উত্তর: কানপুর ফেরত বন্ধু হরিশ (হরিশ্চন্দ্র)।
২২. কল্যাণীর পিতার নাম কী?
উত্তর: ড. শম্ভুনাথ সেন।
২৩. শম্ভুনাথ সেন পেশায় কী ছিলেন?
উত্তর: অতীতে বিত্তশালী থাকলেও পরবর্তীতে কানপুরের একজন সাধারণ চিকিৎসাজীবী।
২৪. প্রথম দর্শনে শম্ভুনাথ সেনের বয়স আনুমানিক কত মনে হতো?
উত্তর: চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশ বছরের মতো।
২৫. বিয়ের আলোচনার সময় কন্যা কল্যাণীর বয়স কত ছিল?
উত্তর: পনেরো (১৫) বছর।
২৬. ‘অপরিচিতা’ রচনায় কার অন্তর্নিহিত লোভকে ‘ফল্গু নদীর’ সাথে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: অনুপমের মামার ভেতরের অর্থলিপ্সাকে।
২৭. অনুপমের মামার দৃষ্টিতে বিয়ের প্রধান মুখ্য বিষয় কী ছিল?
উত্তর: কন্যাপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও অর্থ আদায় করা।
২৮. কনে স্বচক্ষে দেখতে অনুপমদের পক্ষ থেকে কাকে কানপুরে পাঠানো হয়?
উত্তর: অনুপমের মামাতো/পিসতুতো ভাগ্নে বিনুকে (বিনোদ)।
২৯. বিনুর পছন্দের বিশেষত্ব বা রুচি কেমন ছিল?
উত্তর: অত্যন্ত স্বল্পভাষী; বিনু কোনো কিছুকে ভালো বললে বুঝতে হতো তা বাস্তবিকই চমৎকার।
অপরিচিতা গল্পের বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
৩০. কনে প্রত্যক্ষ করার পর বিনু কী মন্তব্য প্রকাশ করেছিল?
উত্তর: “মন্দ নয় হে! খাসা মেয়ে।”
৩১. কন্যা পাত্রস্থ করার উদ্দেশ্যে শম্ভুনাথ সেন কোথায় এসেছিলেন?
উত্তর: কলকাতায় বরপক্ষের বাসভবনে।
৩২. প্রথম পরিচয়ে শম্ভুনাথ সেন অনুপমকে কী দিয়ে আশীর্বাদ করেন?
উত্তর: একটি সাধারণ অলংকার আংটি ও আশীর্বাদী বস্ত্র।
৩৩. অনুপমের মামা নিজে কেন আগে কনে দেখতে কানপুর যাননি?
উত্তর: ভাগ্নে বিনুর রুচি ও সিদ্ধান্তের ওপর তার অগাধ ভরসা ছিল।
৩৪. বিয়ের ছাদনাতলায় মামা কাকে সাথে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন?
উত্তর: তাদের বংশানুক্রমিক বিশ্বস্ত সেকরা বা স্বর্ণকারকে।
৩৫. মামা কেন বিয়ের আসরে স্বর্ণকার সঙ্গে এনেছিলেন?
উত্তর: কনেপক্ষের দেওয়া স্বর্ণালংকারের খাদ ও ওজন মেপে নিশ্চিত হতে।
৩৬. অনুপমদের আনা সেই সেকরার মূল কাজ কী ছিল?
উত্তর: সোনা যাচাই করে সত্যতা ও বিশুদ্ধতা নিরূপণ করা।
৩৭. অলংকার যাচাইয়ের প্রস্তাব শুনে শম্ভুনাথ সেন কেমন আচরণ করেন?
উত্তর: তিনি কোনো তর্ক না করে নিরাসক্তভাবে গহনার বাক্স সেকরার হাতে সঁপে দেন।
৩৮. যাচাই শেষে অলংকার সম্পর্কে সেকরা কী অভিমত দেয়?
উত্তর: গহনাগুলো শুধু নিখাদ সোনাই নয়, বরং অলংকারগুলোর গঠন অনুপমদের গহনার চেয়েও শ্রেষ্ঠ।
৩৯. কনেকে দেওয়া অলংকারের মধ্যে প্রধান আকর্ষণ কী ছিল?
উত্তর: মকরমুখো একজোড়া স্বর্ণবালা ও একটি মূল্যবান কণ্ঠহার।
৪০. সোনার অলংকার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর শম্ভুনাথ সেন কী পদক্ষেপ নেন?
উত্তর: বরপক্ষকে অত্যন্ত সসম্মানে ভোজ খাইয়ে আপ্যায়িত করেন।
৪১. ভোজন শেষ হওয়ার পর শম্ভুনাথ সেন মামাকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় কী জানান?
উত্তর: তিনি এই পরিবারে নিজের কন্যা সম্প্রদান করবেন না।
৪২. শম্ভুনাথ সেনের বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্তকে মামা প্রারম্ভে কী মনে করেছিলেন?
উত্তর: নিছক একটি কৌতুক বা ঠাট্টা।
৪৩. মামার মন্তব্যের জবাবে শম্ভুনাথ সেন কী প্রত্যুত্তর দিয়েছিলেন?
উত্তর: “ঠাট্টার সম্পর্কটাকে স্থায়ী করিবার ইচ্ছা আমার নাই।”
৪৪. বিয়ের আসর থেকে অনুপমের পরিবার কীভাবে প্রত্যাবর্তন করেছিল?
উত্তর: চরম লজ্জিত ও অপমানিত হয়ে না-খেয়ে বরবেশেই ফিরে এসেছিল।
৪৫. শুভলগ্নে বিয়ে ভেস্তে যাওয়ার সময় অনুপম কোথায় বসা ছিল?
উত্তর: বর সাজে ছাদনাতলায় যাওয়ার প্রতীক্ষায় বাসরে/সাজঘরে।
৪৬. ঘটনা ঘটার পর অনুপমের জননী কেমন প্রতিক্রিয়া দেখান?
উত্তর: তিনি কনেপক্ষের আচরণে মারাত্মক ক্ষুব্ধ হন এবং তাদের দাম্ভিক বলেন।
৪৭. বিয়ের আসরে বরপ্রত্যাখ্যানের পর সমাজে অনুপমের পরিবারের কেমন অবস্থা হয়?
উত্তর: তারা ঘোর অপমানিত হয় এবং লোকমুখে হাস্যাস্পদে পরিণত হয়।
৪৮. ঘটনার কতদিন পর শম্ভুনাথ সেন কন্যাসহ কলকাতা ত্যাগ করেন?
উত্তর: বিবাহ ভণ্ডুল হওয়ার অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই।
৪৯. বিবাহ ভেঙে যাওয়ার পর অনুপম কত বছর মানসিক হতাশায় কাটিয়েছিল?
উত্তর: প্রায় তিনটি বছর।
৫০. অনুপমকে দ্বিতীয়বার পাত্রস্থ করতে মামা কেন ব্যর্থ হয়েছিলেন?
উত্তর: অনুপমের মনে কল্যাণীর প্রতি প্রচ্ছন্ন প্রেম জেগে ওঠায় সে অন্য কোথাও বিয়েতে সায় দেয়নি।
৫১. অনুপম কার সঙ্গী হয়ে রেলে ভ্রমণ করছিল?
উত্তর: তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে বের হওয়া তার মাতার সঙ্গী হয়ে।
৫২. অনুপম ও তার মা ট্রেনের কোন শ্রেণিতে যাত্রা করছিলেন?
উত্তর: ফার্স্ট ক্লাস বা প্রথম শ্রেণির কামরায়।
৫৩. অনুপম কোন স্থানে প্রথম সেই মিষ্ট ও সুদৃঢ় কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়েছিল?
উত্তর: একটি অন্তর্বর্তী ছোট রেলস্টেশনে (যেখানে ট্রেন পরিবর্তন করতে হতো)।
৫৪. সেই নারী কণ্ঠটি স্টেশনে সঙ্গীদের উদ্দেশ্যে কী বলছিল?
উত্তর: “গাড়ি চড়িবার জায়গা আছে, শীঘ্র চলিয়া আইস।”
৫৫. অনুপমের সহযাত্রীরা কার ভয়ে তটস্থ ও সংকুচিত ছিল?
উত্তর: ট্রেনের প্রথম শ্রেণিতে ভ্রমণরত ইংরেজ সাহেবের ভয়ে।
৫৬. রেলওয়ের কোন কর্মীবৃন্দ ইংরেজ সাহেবের কাছে বিনয়ী ছিল?
উত্তর: গার্ড ও স্থানীয় স্টেশন মাস্টার।
৫৭. ইংরেজ সাহেব বগি খালি করতে বললে কল্যাণী কী প্রতিবাদ করেছিল?
উত্তর: সে সাফ জানিয়ে দেয় যে টিকিট কাটা থাকায় তারা কামরা ছাড়বে না।
৫৮. যাত্রাপথে ট্রেনের কামরায় কল্যাণী শিশুদের মাঝে কী বিতরণ করছিল?
উত্তর: চকোলেট ও নানা ধরনের খাবার।
৫৯. ট্রেনের কামরায় কল্যাণীর সফরসঙ্গী হিসেবে আর কারা ছিল?
উত্তর: তার পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং বিদ্যালয়ের কয়েকটি বালিকা।
৬০. অনুপম ট্রেনে সেই মেয়েটির নাম প্রথম কীভাবে জানতে পারে?
উত্তর: একটি ছোট বালিকা তাকে ‘কল্যাণী’ নামে ডেকে ওঠায়।
৬১. কোন দৃশ্যে অনুপম নিশ্চিত হয় যে এই মেয়েটিই তার বাগদত্তা ছিল?
উত্তর: কানপুর স্টেশনে শম্ভুনাথ সেনকে ট্রেন থেকে নামতে দেখে।
৬২. কানপুর স্টেশনে শম্ভুনাথ সেনকে দেখে অনুপমের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: সে অবিলম্বে এগিয়ে গিয়ে বিনম্রভাবে তাঁর পদধূলি গ্রহণ করে।
৬৩. অনুপম কানপুরে শম্ভুনাথ সেনের সমীপে কী প্রকাশ করেছিল?
উত্তর: অতীতের কাপুরুষতার জন্য গভীর অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনা।
৬৪. কল্যাণী কানপুরে নিজেকে কোন ব্রতে নিয়োজিত রেখেছিল?
উত্তর: একটি বালিকা বিদ্যালয় পরিচালনা ও স্ত্রীশিক্ষার প্রসারে।
৬৫. অনুপমের বিবাহের প্রস্তাবে কল্যাণী কী জবাব দিয়েছিল?
উত্তর: সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে না।
৬৬. বিয়ে না করার পেছনে কল্যাণী কী আত্মপক্ষ সমর্থন করেছিল?
উত্তর: সে ‘মাতৃআজ্ঞা’ অর্থাৎ দেশসেবার সংকল্প গ্রহণ করেছে।
৬৭. কল্যাণীর জীবন পরিচালনার মূল সংকল্প কী ছিল?
উত্তর: নারীসমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলা।
৬৮. গল্পের সমাপনীতে অনুপম নিজের পরিচয় কীভাবে তুলে ধরেছে?
উত্তর: কল্যাণীর মহৎ কাজের একজন একনিষ্ঠ সেবক ও অনুগামী হিসেবে।
৬৯. অনুপমের অন্তরে সারাক্ষণ কোন বাক্যটি গুঞ্জরিত হচ্ছিল?
উত্তর: “জায়গা আছে।”
অপরিচিতা গল্প একাদশ শ্রেণির জ্ঞানমূলক প্রশ্ন
৭০. ‘অপরিচিতা’ গল্পে মুখ্যত কোন সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধে আঘাত করা হয়েছে?
উত্তর: পণপ্রথা বা যৌতুকপ্রথা এবং নারীর প্রতি অসম্মানের বিরুদ্ধে।
৭১. পণ্ডিত মশায় অনুপমের অসাড় সৌন্দর্যকে কিসের সাথে তুলনা করতেন?
উত্তর: শিমুল পুষ্প ও মাকাল ফলের সাথে।
৭২. অনুপমের সুদর্শন রূপকে কিসের রূপক দেওয়া হয়েছে?
উত্তর: দেব সেনাপতি কার্তিকের মতো।
৭৩. অনুপমের জীবনে কার মতামত মকরশৃঙ্খলের হীরার মতো শক্ত বন্ধন ছিল?
উত্তর: মামাতো/পিসতুতো ভাই বিনুর।
৭৪. শম্ভুনাথ সেনের ব্যক্তিত্বকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়েছিল?
উত্তর: ঢাকনা বন্ধ রাখা মূল্যবান ফাউন্টেন পেনের সাথে (যার ধার বাইরে থেকে বোঝা যায় না)।
৭৫. শব্দার্থের দিক থেকে ‘অনুপম’ নামের অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
উত্তর: যার কোনো তুলনা হয় না বা অতুলনীয়।
৭৬. অনুপম তার সমগ্র জীবনকে কয়টি পর্বে বা অঙ্কে ভাগ করে বর্ণনা করেছে?
উত্তর: দুটি অঙ্কে (প্রথমটি পরাধীন জীবনের; দ্বিতীয়টি কল্যাণীর স্মৃতিপূত জীবনের)।
৭৭. গল্পে ব্যবহৃত ‘প্রদোষ’ শব্দটির অভিধানিক অর্থ কী?
উত্তর: সায়াহ্ন বা গোধূলিলগ্ন।
৭৮. ‘গজানন’ বলতে গল্পে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: পৌরাণিক দেবতা গণেশকে।
৭৯. ‘অন্নপূর্ণা’ শব্দের অর্থ ও রূপক কী?
উত্তর: পৌরাণিক শস্য ও প্রাচুর্যের দেবী দেবী দুর্গার এক রূপ।
৮০. ‘ফল্গু’ শব্দের ভৌগোলিক ও সাহিত্যিক পরিচয় কী?
উত্তর: ভারতের একটি অন্তঃসলিলা নদী (যার উপরিতলে বালি থাকলেও তলদেশে জলপ্রবাহ বিদ্যমান)।
৮১. ‘অপরিচিতা’ রচনার কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কে?
উত্তর: কল্যাণী।
৮২. ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল নায়ক চরিত্র কে?
উত্তর: অনুপম।
৮৩. অনুপমের মায়ের মানসিকতা কেমন ছিল?
উত্তর: পুত্রমোহে অন্ধ, ঐতিহ্যবাদী ও পরনির্ভরশীল সামন্তীয় মানসিকতার।
৮৪. অনুপমের মামা চরিত্রটি কিসের প্রতিনিধিত্ব করে?
উত্তর: যৌতুকলোভী, সংকীর্ণ ও সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত মানসিকতার।
অপরিচিতা গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
৮৫. শম্ভুনাথ সেন চরিত্রটি কিসের বার্তা বহন করে?
উত্তর: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আত্মসম্মান ও দৃঢ় পিতৃত্বের বার্তা।
৮৬. গল্পে ‘সেকরা’ চরিত্রটির আগমন কিসের প্রতীক?
উত্তর: বরপক্ষের চরম অবিশ্বস্ততা ও হীন মানসিকতার প্রতীক।
৮৭. রেল স্টেশন থেকে বিদায়লগ্নে কল্যাণী অনুপমকে কী বলেছিল?
উত্তর: “আমাদের জায়গা আছে।”
৮৮. অনুপমের জীবনের প্রধান ব্যর্থতা কোথায় ছিল?
উত্তর: নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও মেরুদণ্ড না থাকায় যোগ্য সঙ্গিনীকে হারানো।
৮৯. অনুপম কানপুরে গিয়ে কোথায় অবস্থান গ্রহণ করেছিল?
উত্তর: কল্যাণী যে স্থানে কাজ করত তার কাছাকাছি একটি আবাসে।
৯০. কল্যাণী চরিত্রটি বাংলা সাহিত্যে কোন নতুন ধারার প্রতীক?
উত্তর: আধুনিক, আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, দেশপ্রেমিক ও স্বাবলম্বী নারী জাগরণের।
৯১. ‘আস্ফালনী’ শব্দটির প্রকৃত অর্থ কী?
উত্তর: লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা বা আস্ফালন করার ভাব।
৯২. ‘ছাদনাতলা’ বলতে সাহিত্যের ভাষায় কী বোঝায়?
উত্তর: বিয়ের প্রধান মণ্ডপ বা অনুষ্ঠানস্থল।
৯৩. ‘স্বয়ম্বরা’ শব্দটির সঠিক অর্থ কী?
উত্তর: যে নারী নিজেই নিজের জীবনসঙ্গী বা স্বামী পছন্দ করে নেয়।
৯৪. ‘সৌম্য’ শব্দটির প্রতিশব্দ কী?
উত্তর: প্রশান্ত, শান্ত বা সুন্দর।
৯৫. ‘প্রোষিতভর্তৃকা’ ভাবের প্রতিফলন গল্পে কীভাবে ঘটে?
উত্তর: অনুপমের বিরহবেদনা ও অনুশোচনার মানসিকতায়।
৯৬. ‘কুল’ ও ‘কূল’ শব্দের পার্থক্যে গল্পে বংশ বোঝাতে কোনটি ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: ‘কুল’ (যেমন: সৎ কুল)।
৯৭. ‘মাতৃআজ্ঞা’ শব্দটিতে কল্যাণী কিসের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছে?
উত্তর: পরাধীন ভারতমাতা বা স্বদেশ সেবার প্রতি।
৯৮. অনুপমকে তার পরিবার কীভাবে বড় করে তুলেছিল?
উত্তর: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে খাঁচার পাখির মতো কোনো দায়িত্ব ছাড়া।
৯৯. ‘অপরিচিতা’ গল্পের মূল বার্তা বা মূলভাব কী?
উত্তর: পণপ্রথার নির্মমতাকে ধিক্কার জানানো এবং নারীর আত্মমর্যাদাকে প্রতিষ্ঠা করা।
১০০. রবীন্দ্রনাথের ‘অপরিচিতা’ গল্পটি বাংলা সাহিত্যের কোন যুগে রচিত?
উত্তর: প্রমথ চৌধুরীর চলতি ভাষার ‘সবুজপত্র’ যুগে (বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে)।
উপসংহার
এইচএসসি বাংলা ১ম পত্র ও যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে জ্ঞানমূলক বা ‘ক’ নম্বর প্রশ্নের সঠিক ও সংক্ষিপ্ত উত্তরের ভূমিকা অপরিসীম । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘অপরিচিতা’ গল্পের প্রতিটি লাইন, চরিত্র ও ঘটনাপ্রবাহ থেকে সূক্ষ্ম তথ্যগুলো আয়ত্তে রাখা পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। এই সংকলনে অন্তর্ভুক্ত ১০০টি অনন্য প্রশ্ন ও উত্তর শিক্ষার্থীদের মুখস্থবিদ্যার ওপর নির্ভরশীল না করে গল্পের গভীর খুঁটিনাটি সহজে স্মরণে রাখতে সাহায্য করবে । আশা করা যায়, নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতিকে আরও নিখুঁত করে তুলতে পারবে এবং পরীক্ষায় যেকোনো জ্ঞানমূলক প্রশ্নের শতভাগ সঠিক উত্তর দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের দিকে এক ধাপ এগিয়ে থাকবে ।
Views: 0




